আজকে দুই জায়গা থেকে জন্মদিনের দাওয়াত ছিল। মানুষ জানে যে এসব জায়গায় যাওয়া আমার পছন্দনীয় নয় তারপরও দাওয়াত দিবে, যাবার জন্য পীড়াপীড়ি করবে। এতে আমি বিব্রত হই, বিরক্ত হই। মানুষজন তর্ক খাড়া করে, অজুহাত দেখায়। জন্মদিন ইসলামে হারাম এমন দলিল চায়। আজকে বাঙালী মুসলমানরা দ্বীনের ব্যাপারে দলিল তালাশ করে, কিন্তু ইসলামিক চেতনা, স্পিরিট বা মূল্যবোধ সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রদর্শন করে। কারণ দলিলের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে ফাঁকফোকড় পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু চেতনা হচ্ছে কংক্রীট। তাক্বওয়াসম্পন্ন ব্যক্তি শরীয়তের আইন-কানুনের ফাঁকের মধ্য দিয়ে নিজের মন চাহি জিন্দেগীর আমোদ উপভোগ করে না। বরং তারা তার স্রষ্টা আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের সন্তুষ্টির ব্যাপারে সচেতন থাকে। তারা সর্বক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতের অনুসরণ করে।
মানুষ বিশেষ করে নিজ সন্তানের জন্মদিন পালন করে। আচ্ছা ঐ একই দিন যদি তার বাবার মৃত্যুদিন হয় তাহলে সে কোনটা পালন করবে? একদিকে 'হ্যাপী বার্থ ডে টু ইউ' অন্যদিকে কুরআন তিলাওয়াত! একদিকে কেক, মোমবাতি, বিরানী ও বেলুনের মচ্ছব অন্যদিকে শোকদিবসের আগরবাতির আবহ!! আমার এক পরিচিতজনের দুই সন্তানের একজনের জন্মদিন ও আরেকজনের মৃত্যুদিন একই তারিখ। এখন সে কোন সন্তানের দিবস পালন করবে?
আল্লাহর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম তার কোন সন্তানের, কোন নাতি-নাতনীর, কোন সাহাবার, কোন সাহাবার সন্তানের জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালন করেননি। তার কোন সাহাবীও করেননি। তাহলে আপনি কেন করেন? আপনার আমার সন্তান কি আল্লাহর রসূলের ও তার সাহাবীদের সন্তানের চেয়ে দামী হয়ে গেল? নাউযুবিল্লাহ। তাহলে নিশ্চয়ই আপনি বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ করলেন। ব্যাপারটা যদিও খুব ছোট করে আমাদের সমাজে দেখানোর চেষ্টা করা হয় তথাপি ব্যাপারটা ছোট নয়। এর সাথে মিশে আছে মুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক পরাজয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

