(১) অ-নে-কে আছেন যারা অ-নে-ক অ-নে-ক জ্ঞানী, ব-ড় চাকরী করেন, অ-নে-ক মালওয়ালা, ডিগ্রীওয়ালা, এমনকি বয়সের ভারে অত্যাধিক ভারী
•
•
•
•
•
কিন্তু কুরআন শরীফ দেখে দেখে পড়তে পারেন না।
(২) আবার অনেকে আছেন যারা কুরআন, হাদীস নিয়ে দৃষ্টিকটুভাবে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। কিন্তু যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হয়,
"ভাই বলেনতো ইজহারের হরফ কয়টা, অথবা দশ রকম মদ্দ উদাহরণসহ বুঝিয়ে দেন,"
তখন আর তাদের কোন উত্তর থাকে না।
তাদের ভাবটা হল কুরআন শরীফ আরবীতে পড়তে জানার কোন প্রয়োজন নেই। কুরআন শরীফ হল তার নিজস্ব মতামত প্রকাশের মাধ্যম।
(৩) ঠিক একই কথা অনেকের ব্যাপারে যারা ফিকাহ শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে কিন্তু ফিকাহ শাস্ত্রের কোন উস্তাদের কাছে কখনো যায় নাই, ফিকাহ শাস্ত্রের কোন কিতাবের ঘ্রাণও শুঁকে দেখে নাই।
(৪) কুরআন শরীফ আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের কালাম। এটা মানব রচিত কোন নাটক- নভেল-কবিতা নয়। কাজেই কুরআন শরীফ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে কথা বলার পূর্বে তার বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন আবশ্যক। এ জ্ঞান যত বেশী থেকে বেশী হবে ততই ভাল। তবে এ জ্ঞান কম থেকে কম হওয়ার সর্বনিম্ন স্তর হল ঐ গ্রন্থটি দেখে দেখে পড়তে পারা।
(৫) যারা কাফের-নাস্তিক তাদের কুরআন শরীফ ও দ্বীন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলী নিয়ে কথা বলার কোন নৈতিক ও যুক্তিসঙ্গত অধিকার নেই। কারণ সেতো এটা বিশ্বাসই করে না। যারা মুসলমান ও আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ঈমান রাখে তাদের মধ্যে যারা কুরআন-হাদীস বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান রাখে তারাই হক্বদার যে এসব বিষয়ে কথা বলবে। এ জ্ঞান যত বেশী থেকে বেশী হবে ততই ভাল। তবে এ জ্ঞান কম থেকে কম হওয়ার সর্বনিম্ন স্তর হল ঐ গ্রন্থটি দেখে দেখে পড়তে পারা।
(৬) আমরা সকলেই কুরআন-হাদীস ভালবাসি, কুরআন-হাদীস নিয়ে কথা বলতে ভালবাসি। তবে আসুন ভাই আগে আমরা কুরআনের জ্ঞান অর্জন করি। এ জ্ঞানের শুরুটা হবে কুরআন শরীফ দেখে দেখে পড়তে শিখার মাধ্যমে। তা না করে যদি আমরা শুরুতেই কুরআনের তফসির ও ব্যখ্যা-বিশ্লেষণে চলে যাই তাহলে তা কেমন যেন হবে ১, ২ গুণতে জানেনা তাকে দেয়া হয়েছে ঐকিক নিয়মের অঙ্ক করতে।
আসুন প্রথমে আমরা কুরআন শরীফ দেখে দেখে পড়তে শিখি। তারপর ধাপে ধাপে কুরআন-হাদীসের বিস্তারিত এলেম অর্জন করি। সে এলেম অনুযায়ী আমল করি। তখন দেখবেন আপনার বক্তব্য সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হবে। শুরুটা হোক কুরআন দেখে দেখে পড়তে শিখার মাধ্যমে।
আর তাছাড়া অন্তত এ যোগ্যতাটুকু অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবতঃ আপনিও মেনে নিতে পারবেন না যে জীবনে সবকিছু শিখলাম, কিন্তু কুরআন শরীফ সহী-শুদ্ধভাবে দেখে দেখে পড়া শিখলাম না। এখন অনেক মসজিদেই বয়স্ক কুরআন শিক্ষা কোর্স হয়। তার কোন একটিতে ঢুকে পড়ুন। এরকম সুবিধা না পেলে আপনারা কয়েকজন সমমনা একত্র হয়ে কোন ভাল কুরআনের ক্বারী সাহেবের শরণাপন্ন হয়ে শিখে নিন। আপনি আল্লাহ তায়ালার কালাম শিখতে চান আর আল্লাহ তায়ালা আপনাকে এ বিষয়ে সাহায্য করবেন না এটা হতেই পারে না।
পড়ুনঃ
আমাদের মসজিদে আজকের ফজরবাদ তা’লিমে যা শিখলাম
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



