ধরুন আজ থেকে ১০ বৎসর পূর্বে কোন ব্যক্তি একটা গুনাহ করেছে। মনে করুন আজ থেকে আরো ৪০ বৎসর পরে ঐ ব্যক্তিটি দুনিয়া থেকে বিদায় হলো। তাহলে ঐ গুনাহটি করার পর থেকে সেটি থেকে মুক্ত হয়ে পাক-সাফ হবার জন্য সে সময় পেল পঞ্চাশ বছর। একটি গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য পঞ্চাশ বছর কি খুব কম সময় বন্ধু?
মনে করুন ঐ গুনাহটি থেকে সে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না। অতঃপর আরো দুই বৎসর পর আরো একটি গুনাহ করল। এখন দ্বিতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সে সময় পেল ৪৮ বছর। এভাবে সময় যত যাবে তার গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার সময় তত কমবে।
কিন্তু ঐ ব্যক্তি করল কি সে দুনিয়ার রঙ্গীন চিন্তায় এমন বিভোর হয়ে গেল তার পূর্বের গুনাহের কথাগুলো মনেই রইল না। এদিকে সময় পার হচ্ছে, আর তার গুনাহমাফির সময়সীমা কমছে। একসময় ঐ লোকটা মরে গেল। কিন্তু তার কাছে রয়ে গেল এক বিরাট বোঝা যা সে হালকা করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল। কিন্তু বেখেয়ালে সেই মূল্যবান সময়টা নষ্ট করে ফেলেছে।
"সেদিন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে খুশিতে সবাইকে বলবে, তোমরা আমার পুস্তকটি পড়ে দেখ। আমি জানতাম আমাকে এমন হিসাব-নিকাশের মুখোমুখি হতে হবে।
আর সেদিন যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, কতই না ভাল হত যদি আমার আমলনামাটি না দেয়া হত। আমি যদি আমার হিসেবের খাতাটি নাই জানতাম। হায়! মৃত্যুই যদি আমার জন্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী বিষয় হত।" (বিস্তারিত দেখুন, সূরা হাক্কাহ, আল-কুরআন)
মানুষ বেঁচে থাকে গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, কিন্তু আমার মত নাদানরা বেঁচে থাকে দুনিয়ায় একটু সুখ ভোগের জন্য। অপূর্ণ আশার রাশি দীর্ঘায়িত করার জন্য।
হে আল্লাহ তায়ালা, বুঝার তৌফিক দিন। আমীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
