somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সতর্কতা ১৯৮৮

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সতর্কতা ১৯৮৮
••• ••• ••• ••• ••• ••• ••• •••

(১) বন্যার পানি থেকে বাঁচার জন্য আপনার হাঁস মুরগী, গরু ছাগল নিয়ে কোন উঁচু স্থানে উঠে যান।

(২) চিড়া মুড়ি ও শুকনা খাবার মাটির কলসিতে রেখে ভালভাবে পলিথিন দিয়ে মুখ মুড়ে মাটির নীচে রেখে দিন।

(৩) সাপ থেকে বাঁচার জন্য কার্বলিক এসিড রাখুন।

(৪) সাঁতার না জানা বাচ্চাদের পানির কাছে যেতে দিবেন না।

(৫) পাতলা পায়খানা হলে ওরস্যালাইন পান করুন।

সতর্কতা ২০০৭
••• ••• ••• ••• ••• ••• ••• •••

(১) ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের সময় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠুন।

(২) গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাবেন না।

(৩) পানিতে জীবানু নাশক টেবলেট ব্যবহার করে পান করুন।

সতর্কতা ২০১৫
••• ••• ••• ••• ••• ••• ••• •••

(১) নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হবেন না।

(২) বাসে উঠে জানালার পাশে বসুন ও চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।

(৩) গায়ে আগুন লেগে গেলে দৌড়াবেন না। সবসময় মনে রাখবেন অক্সিজেনের প্রভাবে আগুন আরো ছড়িয়ে পড়ে।

(৪) পেট্রল পানির চেয়ে হালকা, তাই পানি ঢাললেও আগুন নিভবে না।

(৫) নাক মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে গড়াগড়ি দিন যেন আগুনের শিখা বা ধোঁয়া শ্বাসনালীতে যেতে না পারে।

(৬) ফায়ার সার্ভিসের দুটো নাম্বার মোবাইলে সেভ করে রাখুন। যদিও প্রয়োজনের সময় নাম্বার বন্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশী।

(৭) এই বিপদ শেষ হয়ে নতুন বিপদ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকুন।


যুগে যুগে আসমানী মুসিবত আসতেই থাকে। আর সে অনুযায়ী মানুষের সতর্কতার ধরণ পরিবর্তিত হয়। মানুষ সমস্যার বাহ্যিক দিকে দৃষ্টিপাত করে। কিন্তু সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণকে উপেক্ষা করে।

"মানুষের কৃতকর্মের দরুণ জলে স্থলে (সর্বত্র আজ) বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের কতিপয় কাজকর্মের জন্য তাদের শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতে চান, হয়তো তারা ফিরে আসবে।" (সূরা আর রূম, আয়াত ৪১ এর অনুবাদ)

এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাদের সতর্ক করার পরও সতর্ক না হলে আল্লাহ তায়ালা তাদের শাস্তির আস্বাদন করাননি। ফেরাউন, আদ জাতি, সামুদ জাতির কথা কুরআনে বারবার বলা হয়েছে। যেন মানুষ পূর্ববর্তীদের কথা শুনে সতর্ক হতে পারে। ফেরাউনকে দেয়া হয়েছিল পানির শাস্তি। নমরূদকে কীটপতঙ্গের শাস্তি। আদ জাতি, সামুদ জাতির ওপর নেমে এসেছিল ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগরূপী শাস্তি। এগুলো সবই দুনিয়ার শাস্তি। আখিরাতের শাস্তি অপেক্ষমান।

কিন্তু মানুষ আসমানী বালাকে কেবলই অবজ্ঞা করে। মনে করে প্রাকৃতিক বা মানব সৃষ্ট দুর্যোগ। একের পর এক সতর্কতা ও মোকাবিলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সম্মিলিত আলোচনা করে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে, লেখালেখি করে, আহাজারী করে, মানববন্ধন করে, আসমানী বালা নাযিল না হওয়ার প্রার্থনা করে। বলে, হে আল্লাহ! আসমানী বালা আসমানে তুলিয়া লও, জমিনী বালা জমিনে ঢুকাইয়া দাও।" কিন্তু যে কারণে এসব বালা-মুসীবত নাযিল হল সে কারণের কোন প্রতিকার করে না। মানুষ এটা বুঝে না যে, আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করেন না। বরং সমস্ত দুর্ভোগই মানুষের দু'হাতের কামাই। মানুষ যেমন আমল আসমানে পাঠাবে, আসমান থেকে সে অনুযায়ী ফয়সালা মানুষের কাছে ফিরে আসবে।

পুনশ্চঃ কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা পূর্বের জাতিসমূহের ওপর নাযিলকৃত কিছু শাস্তির ঘটনা বর্ণনা করেছেন। 'স্যাম্পল' হিসেবে মাত্র কয়েকটি ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। কে না জানে স্যাম্পল মাত্র কয়েকটি দেখান হয়। হাজার হাজার গজ কাপড়ের স্যাম্পল মাত্র কয়েক টুকরা কাপড়। হাজার হাজার টন চালের স্যাম্পল মাত্র কয়েক বাটি চাল। কুরআন শরীফে মাত্র শাস্তির কয়েকটা স্যাম্পলকে সামনে আনা হয়েছে। কাজেই এরকম অজস্র শাস্তি আল্লাহ তায়ালার কাছে মজুদ আছে। মানুষের বদ আমলের কারণে এসব শাস্তির ফায়সালা হয়। এরকমই একটি শাস্তি পেট্রল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা। আগেতো আজাব গজবের ফেরেশতা আসত, মশা আসত। এখন মানুষই মানুষের আজাবের জন্য যথেষ্ট। নিকৃষ্টতম আজাবের মধ্যে মানুষ আজ গ্রেফতার। নিকৃষ্টতম আজাব এ কারণে যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব জীবন বিধান মানুষ গ্রহণ করেছে আজ সেসব জীবন বিধানের নামেই মানুষ হত্যা হচ্ছে। যারা হত্যার সাথে জড়িত এবং যারা হত্যার শিকার উভয়ই কোন না কোনভাবে নব্য আবিষ্কৃত জীবন বিধানের ধারক ও বাহক। শরীয়ত বাদ দিয়ে যেসব বিধান মানুষ নিজের জন্য গ্রহণ করেছে আজ তার কুফল মানুষ চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। কবে মানুষের সত্যিকারের হুঁশ হবে!!

তসবিহর মালা ছিঁড়ে গেলে যেমন একটার পর একটা দানা পড়তেই থাকে ঠিক তেমনি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আযাব আসতেই থাকবে যতদিন না মানুষ সঠিক পথ অবলম্বন করে। বরং একটির থেকে অন্য আযাব পৃথক ও বৈচিত্র্যময়।

শেষ কথাঃ হাজার বছর যদি আলোচনা করা হয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়, লেখালেখি, আহাজারী, মানববন্ধন করা হয়, কিয়ামত পর্যন্ত যদি শান্তির জন্য মসজিদে মসজিদে প্রার্থনা করা হয় তবুও শান্তি আসবে না যদি না আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের দেয়া জীবন বিধান গ্রহণ করা হয়, বিশ্বশান্তির একমাত্র আদর্শ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করা হয়। এখন আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের প্রকৃত গোলাম কিভাবে হতে হবে এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের যথার্থ অনুসরণ কিভাবে করতে হবে তা ভিন্ন একটি আলোচনা। আমার পূর্বের লেখাসমূহে তা নিয়ে আলোচনা আছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আলোচনা হতে থাকবে। আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন আমাদের দ্বীনের প্রকৃত জ্ঞান দান করুন। আমীন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×