সেদিন নিজের চোখে দেখা। বড় স্যার (প্রফেসর) তাকিয়ে দেখেন আশেপাশে ম্যাডাম নেই। ম্যাডাম মানে স্যারের স্ত্রী নন। ম্যাডাম হলেন একজন এসিস্টেণ্ট প্রফেসর। অর্থাৎ সহকর্মী। ম্যাডাম খুব সিনসিয়ার। কাজ ভাল বলে সবাই খুব শ্রদ্ধা করেন। স্যার আবার খুব রাগী। ম্যাডামকে তার হরহামেশা কাজের জন্য লাগে। এটা সেটা লিখতে হয়। তো ম্যাডাম একটু দূরে আরেকটা কাজ করছিলেন। ম্যাডামকে কাছে না পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে স্যার রেগে গেলেন। এমন জোরে ম্যাডামের নাম ধরে ডাক দিলেন যে পিলে কেঁপে যাওয়ার জোগার। ম্যাডাম জাস্ট সবার সামনে এমন এক দৌড় দিলেন যে মুহূর্তের মধ্যে স্যারের সামনে হাজির। স্যারের কুঁচকানো ভ্রূজোড়া এতক্ষণে স্বাভাবিক হল। আমি পুরো বিষয়টা পর্যবেক্ষন করলাম। দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।
লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা, চাকরী ম্যাডামের মত মহিলাদেরকে তাদের বসদের গোলাম বানিয়ে ছেড়েছে। সম্মানের পেছনে, উন্নত জীবনের পেছনে দৌড়ে যে জীবন তারা পেল এটা কি সম্মানের জীবন? উন্নত জীবন?
স্যার যে আচরণ করেছে, এ আচরণ যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে করত তবে ঘরে তুলকালাম কান্ড হয়ে যেত। হয় মহিলা বাপের বাড়ি চলে যেত, বিচার-সালিশ হত, কত মানুষ এ মহিলাকে শান্তনা দিত। নারীবাদীরা পুরুষদের মুন্ডুপাত করত। পত্রিকায় লিখালিখি হত। এর জন্য এমনকি কুরআনকে, ইসলামকে দায়ী করত।
আশ্চর্য্যের বিষয়, স্যারের সাথে মানিয়ে চলে দীর্ঘদিন টিকে থাকার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের ম্যাডাম যারপরনাই আনন্দিত ও গর্বিত।
কিন্তু বাস্তব সত্য হল এটাই যে, আমাদের মত ঘরের মেয়েরা যারা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য ঘরে অবস্থান করে, স্বামী ও সন্তানের বেষ্টনীতে যাদের জীবন অতিবাহিত হয় তাদের দৃষ্টিসীমা জান্নাত পর্যন্ত প্রসারিত। তারা দুনিয়ায় বসে জান্নাতের ইজ্জত উপভোগ করে। আমাদের ঘরের এসব পর্দানসীন মেয়েরা যারা কুরআনের নূর থেকে উজ্জ্বলতা লাভ করে তারা এসব ম্যাডামদের জাস্ট ঘৃণা করে।
আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যেই রয়েছে আমাদের ঘরের মেয়েদের জন্য উত্তম আদর্শ। ম্যাডামদের মধ্যে নয়।
:: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: ::
"হে নবীপত্নীরা, তোমরা অন্যান্য নারীদের মত নও, যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় কর, তাহলে অন্য পুরুষদের সাথে কথা বলার সময় কোমলতা কর না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি আছে তারা প্রলুব্ধ হবে, তোমরা নিয়মমাফিক কথাবার্তা বলবে।
তোমরা ঘরে অবস্থান করবে, পূর্বেকার জাহেলিয়াতের জামানার নারীদের মত নিজেদের দেখিয়ে বেড়াবে না, তোমরা নামায কায়েম করেব, যাকাত আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে।
আল্লাহ তায়ালা এসব কিছুর মাধ্যমে নবী পরিবার তথা তোমাদের মাঝ থেকে অপবিত্রতা দূর করে পাক-সাফ করে দিতে চান।
তোমাদের ঘরে আল্লাহ তায়ালার কিতাবের আয়াত ও তার জ্ঞানতত্ত্বের যেসব আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তা স্মরণ রাখবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবগত।
(সূরা আল আহযাব, ৩২ - ৩৪ আয়াতের অনুবাদ)
:: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: :: ::

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


