somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুধবারের সকালে

০৬ ই জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুধবার সকাল ,বিছানা থেকে হঠাৎ উঠে বসে পড়লাম। চোখ থেকে পানি ঝরেই যাচ্ছে ঝরেই যাচ্ছে থামবার লেশমাত্র লক্ষণ নেই।অশ্রু থামানোর উদ্যোগ ও মাথায় নেই ,কী যেন ? আনমনে ভেবেই যাচ্ছি ! শুধু ভেবেই যাচ্ছি ! জানালার গ্লাসগুলো রাতে লাগাইনি ইচ্ছে করেই খোলা রেখেছি যাতে সকাল সকাল কোমল রোদ চোখে আঁছড়ে পড়ে আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিয়ে যায় কারণ একটু পরেই প্রাইভেট ।জানালা দিয়ে স্বচ্ছ নীলাকাশে ভাসমান খন্ড শুভ্র মেঘগুলো তুলার মত উড়ে যাচ্ছে ।মেঘগুলো খুব সাদা আর পরিষ্কার ',যেন একটু আগেই হুইল পাউডার দিয়ে ধুয়ে মুছে আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আর বাঁধাহীন মেঘগুলো উড়েই যাচ্ছে উড়েই যাচ্ছে। জানালার পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আবার বিছানায় ফিরে এলাম ।কিছুই ভালোলাগছিলোনা কান্নার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে নেত্রের জলধারার বর্ষণ। কিন্তু কেন আমি কাঁদছিলাম ? কেন ? তাও আবার ঘুম থেকে ওঠার পর ।চোখের জলের সাথে ঘাম মিশে একাকার হয়ে শরীর ধুয়ে যাচ্ছে অথচ ফ্যানও তো ফুল স্পীডে ঘুরে যাচ্ছে। এমনটাতো কখনো হয়নি আয়নায় চোখ দুটো বেশি লাল দেখাচ্ছে ।ঘড়ির কাঁটায় তাকাতেই অবাক ৬টা ৪৫মিনিট অথচ ৬টা ৩০মিনিটের এলার্ম থামিয়ে দিয়েছি ১৫মিনিট আগেই একটু বেশি ঘুমোবো বলে। এই ১৫মিনিটে একটানা স্বপ্নে হারিয়ে গেছিলাম তার বাস্তব প্রমাণ গাল বেয়ে পড়া লবণাক্ত বিন্দু বিন্দু জলকণা ।স্বপ্ন ডান কাতে শুয়ে দেখেছি আর সকাল বেলার স্বপ্ন সত্যি হয়ে যায় তাই তড়িঘরি করে টেবিল থেকে আর্নেষ্ট হেমিংয়ের উপন্যাসের বইয়ের পাশ থেকে মাকসুদূল মোমেনিন বইটা থেকে সকালের দেখা দুঃস্বপ্নটা স্বপ্নটা বাস্তবে প্রতিফলিত না হয় সেই দোয়া সাথে আরো কয়েকটা দোয়া কষিয়া পড়লাম। আজ সকালে নামাজ পরিনি ,কয়দিন যাবত নামাজ পড়তে গিয়ে কী যেন হয় মনের ভেতর আমি পুরোপুরি নামাজ পড়ে উঠতে পারিনা। স্বপ্নে দেখা মানুষটাও এত সকালে ঘুম থেকে কী উঠে আমার ফোনের অপেক্ষা করছে ? বলা যায় না হতেও পারে ।মেয়েটা খুব সহজে বুঝে ফেলে আমার অনুভূতির আর অনুভবের কথাগুলো ।ফোন করবো না ম্যাসেজ দিবো ? নাহ সকালে ফোন করলে আচমকা রেগে আবার কী না কী বলে ফেলে কে জানে !তবে ফোন করলে মেয়েটা কিছুই বলবেনা হাসিমুখে তীব্র অভিমান চাপা দিয়ে কোন প্রতিবাদ ছাড়াই বলবে তুমি কেমন আছো ?সকালের নাস্তা হয়েছে ।আমি তোমার উপর মোটেই রাগ করিনি,এরপর প্রাণখুলে কিছু কথা বলার আগেই দুজনেই লজ্জায় জমে যাব কারণ ও বেশি রাগ করবে যখন বুঝে ফেলি যে সে আমার কথাই ভাবছিলো খানিক আগে। আবার মেয়েটা কতটা খুশি হয় তবে সেটা বলা যাবেনা ।কিন্তু মনের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হলাম ,ঠিক করলাম থাক ফোন দিবনা ও নিশ্চয় ভালো আছে ।আমার ভালো থাকার গুরুত্ব তার কাছে কিন্তু আমার অসীম ভালোবাসা অর্থহীন ,সেটাতে নাকি তিনি ডিস্টার্ব ফীল করেন এটা তার সামনে তারই বোন বলেছেন আমাকে আর আমি ভালো ভদ্র শান্তিপ্রিয় ছেলে প্রায় বিভিন্ন জায়গায় দেখি লেখা থাকে "Do Not Disturb" এরপর কীভাবে ভালোবাসা নামের ডিস্টার্ব করি মেয়াটাকে ।মন সায় দিলনা তবে আমি বুঝতে পেরেছি সেদিন সেময় আমার কথা খুব বেশী মনে করেছিল অথবা খুব বেশী অনুভব করেছিল যাহোক থাক সে সব ।কোন রকমে প্রাইভেট পড়ে কলেজের লেকচার রুমে কোনরকমে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতেই কিছু করতে পারছিলাম না ।বারবার ভাবতেছি কেন দেখলাম এমন স্বপ্ন ?ও ভালো আছেতো ? নাকি কোন অঘটন ঘটে গেল তার সাথে ,,ভাবতে ভাবতে বিকেল পেরিয়ে মুহূর্তেই সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নিজের কথা না ভেবে তার কথা ভেবে যাচ্ছি ,,কিন্তু কেন ? আমি তো তাকে প্রায় ভুলেই গেছিলাম ।তার বন্ধুত্ব রক্ষা করিনি বলেই কী সে আমার স্বপ্নে তার শত আশার উত্তর নিতে এসেছিল ? জানিনা আমি জানিনা ! কিছু আসছেনা চিন্তায় , না পারছি কিছু করতে না পারছি কিছু বলতে অন্যদিকে দুজন একসাথে চাইলেই সবঠিকঠাক আগের মত ।রাতে তাই মন খারাপ করে বৃষ্টিতে ভিজে দুহাত বাড়িয়ে তোলা ছবিটা আপলোড দিলাম ।নানাজনে নানান প্রশ্ন কেন দিলাম এমন ফটো ?কারোরই উত্তর দেইনি। কেউ তো প্রেমিকার ভালোবাসার দিতে পারবেনা বুঝবেনা তাই উদাস মনে রাতের বেলা জানালার পাশে দাঁড়ালাম কিছুক্ষণ পর ফেসবুক থেকে লগ আউট করে বিছানায় শুয়ে প্রীতমের ডাইনে দুঃখ বামেও দুঃখ গানটার সাথে নিজেকে মিশিয়ে মোবাইলে দেওয়া এলার্মটা চেক করলাম এরপর অদ্ভুত সেই দুঃস্বপ্নের কথা ভেবে নিদ্রায় অতলে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম একবুক দুঃস্বপ্নের প্রত্যাশায় ।
যদি বালিকার মুখখানি আবার দেখা যায় ।অনেকদিন বাদে নিজের কথায় নিজের মত করে তার জন্য লিখলাম ভাবলাম তাকে নিয়ে ।ভালো থেকো ,.ভালো থেকো তোমার কথা মত আমি খুব নাহলেও অল্প না অনেক অনেক বেশী ভালো আছি ।
-ডি .এস সৌরভ
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×