somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাকফুল (গল্প )

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাস শেষে লাইব্রেরীতে গেলাম বই নিব ব্রডকাস্ট জার্নালিজম অ্যানড্রিও বয়েড এর টেকনিকস অফ রেডিও এন্ড টেলিভিশন নিউজ । নেওয়াও শেষ । এর পরের দিন কোন বইটা নেওয়া যায় সেটাই দেখছি সেলফে । জার্নালিজমের বিশাল বইগুলোর পাশের সেলফেই সি এস ই এর বুক সেলফ । পাশেই অদ্ভুত সুন্দর একটা মেয়ে হিজাব পরে বই দেখছে । ভালোভাবে দেখতেই বুঝলাম আরে এই মেয়ে তো আমি দেখছি । হিজাব পরা অবস্থায় আগে দেখি নাই । মনে আসছে না কোথাও দেখেছি এটা শিউর । যাক শেষমেশ মনে আসলো হুম এই মেয়ের সাথে ফার্স্ট সেমিস্টারে ক্লাস করছি ।

কথা বলবো ? দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেলাম কি করি । কিনা কি ভাবে ! সুন্দরী একটা মেয়ে বই দেখতেছে পাশে দাড়ায়ে । কথা না বলা অভদ্রতা । যাক বলেই ফেলি ।

:হেই কি খবর ক্যামন আছো ? ক্লাস চলতেছে ? কি বই খোঁজো !
মেয়ে দেখি কথা শুনেই হাসে । একটা একটা করে বলি নাকি ? । লজ্জা পেলাম । তাঁকে অভয় দিয়েই বললাম প্লীজ বলেন । কথা গুলো খুব ধীরে ধীরে বলতে হচ্ছে কারণ চারপাশের সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তেছে । সে পড়া অন্য পড়া । জোড়ায় জোড়ায় একটি করে বই পড়া । যাই হোক মেয়েটা ব্যাপক সুন্দর । সুন্দরী বলতে যা বোঝায় আর কি তাঁর চেয়েও বেশি ।

- বই দেখি । আপনি ?
- ও ভালো । না আমি বই নিলাম । ক্লাস কেমন হচ্ছে ?
- ভালোই , আপনার ??
- হুম । তারপর দিনকাল কেমন যাচ্ছে ?
- যাচ্ছে চলে আপনার ?
- আমাদের আর কি ! চলেই যায় । আটকানো যায় না । চলেন বসে কথা বলি । আপনারও তো বই নেওয়া শেষ ।

মেয়েটা ব্যাপক লজ্জা পাচ্ছে । বইএর পাতা উল্টাচ্ছে । হাফ হাত দূরত্বে বসা সামনে । চক্ষু ভালো জায়গায় যাচ্ছেনা । কু-দৃষ্টি যাকে বলে আর কি পুরোটাই পড়তেছে তাঁর উপর । তুমি করে বলা শুরু করাই উত্তম এ মুহূর্তে।
- তোমাকে কিন্তু আজকে অনেক সুন্দর লাগছে । যদিও হিজাবের কারণে চুল ঢাকা । তবুও অন্যরকম সুন্দর ।
- থ্যাংকস ।
- হাসেন কেন ? হাসির কথা বলছি !
- না সুন্দর লাগছে বললেন তাই হাসলাম ।
- আপনার হাসিও কিন্তু কম সুন্দর না
- হুম । তোমার রেজাল্ট ক্যামন হয়েছিল ফার্স্ট সেমিতে ?
- হইছে , পাশ করছি ।
- ও ও এর পর আর ক্লাস আছে আজ ?
- না নাই , তোমার ?
- আছে একটু পর ।
- এই তোমার নাকে যে কি এটা পড়ছো না ! অস্থির সুন্দর লাগতেছে ।
মেয়েটার এমন ভাব ।
- এটার নাম জানেন না ? নাকফুল বলে এটাকে !
- ও স্যরি । আচ্ছা তোমার ফেসবুক আইডি দাও আর নাম্বার টা দেয়া যাবে !
- কেন কেন ! নাম্বার নিয়ে কি করবা ?
- সত্যি কথা বলতে কি ! আচ্ছা সমস্যা হলে থাক ।
- না কেন ! নাম্বার চাইছেন দিচ্ছি আগে আপনার টা দেন তাহলে ।
- এই নাও ডায়েরী এইখানে তোমার নাম্বারটা লেখো ...

মেয়েটা নাম্বার লেখতে কলম হাতে নিছে আর তখনই তামিম কল দিয়ে ষোলকলা পূর্ণ করে দিছে । "মামা তুই কই নিচে নাম গলিতে চায়ের দোকানে আছি অ্যায় এদিকে । হ্যাঁ আসতেছি দাঁড়া এক মিনিট" । ফোন রাখতেই মেয়েটা নাম্বার লেখা বাদ দিয়ে জিজ্ঞেস করতেছে ।
- কে ফোন দিছিলো ?
- না কেউ না , আমার ফ্রেন্ড ।
- ফ্রেন্ড না গার্লফ্রেন্ড ! সত্যি করে বল ?
বললাম "নাহ কি যে বলেন না , নাম্বার লেখছেন ?"
- দাঁড়ান লিখে দিচ্ছি । তাড়াহুড়োর কি আছে ?
না আমার না একটা জরুরী কাজ আছে । আরেকদিন নাম্বার নিব । পরে আবার কথা হবে , ভালো থাকবেন । উঠে আসার সময় " এই তোমার নাকফুল কিন্তু অনেক সুন্দর''
"আমি জানি "
-কে বলছে ?
_ এই যে আপনি বললেন !
উঁহু হু আপনি নয় । তুমি বললে " আচ্ছা আসি , বাই ।

লাইব্রেরী থেকে বের হবার সময় মনে মনে ভাবতেছি । আহা কি সুন্দর কন্যার নাকফুল । এমন নাকফুলের প্রেমে একবার নয় তিনবার প্রেমে পড়া যায় । স্বর্গে কি এমন নাকফুল পড়া কন্যা পাওয়া যাবে যে এত সুন্দর করে হেসে কথা বলবে ? আফসোস ও হচ্ছে , একটু ওয়েট করে নাম্বারটা নিলেই তো হতো । কিন্তু মন বলছে রিলাক্স ম্যান এই দিন ই দিন নয় আরো দিন আছে ...

[ লেখাংশ কাল্পনিক । বাস্তব-অবাস্তবের সাথে যে কোন মিল ও অমিল কাকতালীয় । যে কোন বিপরীত প্রতিক্রিয়ার দায়ভার লেখক বহন করবেন না , ধন্যবাদ ]

- ডি . এস সৌরভ
২৮ জানুয়ারি ২০১৫ , ঢাকা ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×