somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাতাল

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুক্রবার ও শনিবার রাতে আমি একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরার চেষ্টা করতাম ও এখনও করি। কারন একটু রাত হলেই রাস্তাঘাটে মাতালদের দাপটে চলাচল মুশকিল হয়ে যায়। এদের আবার কিছু বলা যাবে না।মাল খেয়ে টাল হয়ে মারপিট শুরু করলেও প্রতিবাদ যাবে না। মগের মুল্লুক বলতে মনে হয় এটাই বুঝায়।

ঘটনা: এক

স্টেশনের প্লাটফর্মে বসে আছি। শুক্রবার রাত। নিধর্ারিত ট্রেন আসতে বেশ কিছুটা সময় বাকি। এমন সময় শুনি এক মহিলার আর্ত চিৎকার। পিছনে ফিরে দেখি পাশর্্ববতর্ী প্লাটফর্মে হুলুসহূল, মানুষের দৌড়া দৌড়ি, গার্ডের হুইসেল, সব মিলিয়ে ত্রাহি মধুসূদন অবসহা। কৌতুহল হলো। এগিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি টানেলের মুখে ট্রেন থেমে আছে আর ট্রেনের 20-25 মিটার সামনে এক ব্যক্তি রেল লাইনের উপর কি যেন খুঁজছে। আর প্লাটফর্মের সবাই ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে চেঁচামেচি করে তাকে রেল লাইন থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করছে। ব্যাপার বুঝে উঠার আগেই দেখি মামুরা (পুলিশ) হাজির। মামুরা 2/3 জন মিলে এক প্রকার জোর করে ওই ব্যাটাকে প্লাটফর্মে তুললেন।

ঘটনা হলো ওই ব্যাটা পুরো পাঁড় মাতাল।তার বিশ সেন্টের কয়েন রেল লাইনে পড়ে যাওয়ায় সে কয়েন খুঁজতে রেললাইনে নেমে পড়েছিল। মামুরা তাকে তুলে আনায় সে মহা বিরক্ত হলো এবং সে মামুদের মোটামুটি আইনী সবক দেয়া শুরু করল। মজার ব্যাপার হলো রেললাইন থেকে তুলে আনার পর মামুরা তাকে ঘিরে ফেলল ও এক প্রকার গার্ড অফ অনার দিয়ে তাকে প্লাটফর্ম থেকে নিয়ে গেল। আমি হাসতে হাসতে আমার রুমমেটকে বললাম, " ভাগ্যিস ব্যাটা বাংলাদেশে এই কান্ডটা করে নি, করলে পাবলিকের ধোলাই খেয়ে আজকে ব্যাটার ভবলীলা সাঙ্গ হত"।

ঘটনা: দুই

বছর খানেক আগের ঘটনা। বাসায় ফিরছি খুবই গিরিঙ্গিমাকর্া অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে। সারারাত ইউনিভার্সিটিতে থেকে মন-মেজাজ খারাপ। একমাত্র চিন্তা বাসায় ফিরে 7/8 ঘনটার সাউন্ড স্লিপ। বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। রোববার ভোর। বাসগুলো সব ভরা। পা রাখার জায়গা নেই। পুরা গুলশান টু মতিঝিল রুটের 6 নম্বর বাস। সবাই শনিবার রাতের ফুর্তি করে বাসায় ফিরছে। সেরকম ভিড় থাকলে বাস থামছে না। 2/3 টা মিস করার পর একটা বাসে মোটামুটি লম্ফ-ঝম্প করে উঠে পড়লাম। প্রচন্ড ভিড় আর বাসের অধিকাংশ মানুষই পাঁড় মাতাল আর বাসে মদের বোঁটকা গন্ধ। নিঃ শ্বাস নেয়ায় দায়। 2/3 স্টপেজ পরে বসার জায়গা পেলাম। বসতেই শুনি আমার পিছনে কারা যেন বাংলায় চেঁচামেচি করছে। ততক্ষনে বাসের লোকসংখ্যা কমে গেছে। আর সবার কথাবাতর্া ছাপিয়ে বাংলা কথাবাতর্া শোনা যাচ্ছে। কান খাঁড়া করতে শুনি একজন বলছে "হে আল্লাহ আমি তোমার পাপী বান্দা। মদ খেয়েছি। আমাকে মাফ করে দাও"। আরেকজন দেখি স্বান্তনা দিচ্ছে "দোস্ত, আমি তো নাঙ্গা মেয়ের সাথে নাচানাচি করেছি........আমার কি হবে?" বলাইবাহুল্য তাদের চেঁচামেচিতে যাত্রীসকল খুবই বিরক্ত। কিছুক্ষন পরে শুনি হাউমাউ করে দু'জন কান্নাকাটি করছে। মনে মনে কষে থাপ্পড় লাগাতে ইচ্ছা করলেও হাসলাম এই ভেবে যে অন্তত মাতাল হওয়ার পর তো এদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে।

এর আগে আমি দু'জন মাতালকে দোকানের গ্লাসের উইন্ডোতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে দেখেছি। দেখেছি সিঁড়িতে পাল্লা দিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। মাঝে মাঝে ভাবি কত কি না দেখব এই দুনিয়ায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×