somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কামলা লাইফ.............(3)

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কামলা লাইফ নিয়ে অনেক সুখ-দুঃখের অভিজ্ঞতা আছে। তবে স্বীকার করতে দ্্বিধা নেই যে এদেশের সবচেয়ে ভালো কাজটা আমি পেয়েছিলাম। স্টুডেন্ট ভিসার কন্ডিশন অনুযায়ী সপ্তাহে 20 ঘন্টার বেশি কাজ করা সম্ভব নয়। তাই আমিও 20 ঘন্টা সপ্তাহে কাজ করতাম। হিসাব অনুযায়ী 8 ঘন্টা করে দুই দিন আর একদিন 4 ঘন্টা কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই নিয়ম-কানুন বদলে ফেললাম। যতক্ষন ইচ্ছা কাজ করা শুরু করলাম।ভালো না লাগলে কেটে পড়তাম। আমার সুপারভাইজারের বক্তব্য হলো সপ্তাহে 20 ঘন্টা করলেই হবে। কবে কতক্ষন করলাম সেটা ব্যাপার না। আবার ইউনিভার্সিটি ছুটির সময় সপ্তাহে 40 ঘন্টা বা ফুলটাইম কাজ করতাম। আর টাকাও আসত ভালো, তাই দ্্বিতীয় কোন কাজ করার চিন্তা কখনই মাথায় আসত না।

এদিক থেকে ভালো হলেও মাঝে মাঝে এ্যাসাইনমেন্টের চিপায় পড়ে জীবন শেষ হয়ে যেত। সারারাত ইউনিভার্সিটিতে কাটিয়ে সকালবেলা কাজে আসতে হত। ওই সময়গুলোতে কষ্টের সীমা থাকত না। নিজেই নিজের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে যেতাম।

আমার কামলা লাইফে শেয়ার করার মত কোন অভিজ্ঞতা নেই। একঘেঁয়ে কেমন জানি একটা জীবন ছিল সেটা। তবে অত্যাশ্চাযর্্য একটা বিষয় দেখেছি যা না বললেই নয়। কাজের চাপ বেড়ে গেলে মাঝে মাঝে এজেন্সি থেকে বাড়তি ওয়াকর্ার নিয়ে আসা হত। এমনই একজন ছিল নরবার্ট বা নবি। শেষ নামটা খুবই কঠিন হওয়ায় মনে নেই। নবি ছিল জামর্ান টু্যরিস্ট (ব্যাকপ্যাকার)। বিশাল বড়লোকের ছেলে। ওর বাবা ফেরারির খুব হোমড়া-চোমড়া একজন অফিশিয়াল ছিলেন। নবির জন্ম আফ্রিকায়, বেড়ে উঠা অস্ট্রিয়া ও বার্লিনে, পড়াশুনা ইংল্যান্ডে আর ঘুরাঘুরি মনে হয় অস্ট্রেলিয়ায় বা বিশ্বব্যাপী। জামর্ানদের ইংরেজিতে মজার একটা কড়া টান থাকে। অস্ট্রেলিয়ান ছেলেরা এজন্য জামর্ান মেয়েদের জন্য একটু পাগল। আমার জনৈক অসি বন্ধু একবার আমাকে বলেছিল ওর খালি মাথায় ঘুরে জামর্ান মেয়েরা বিছানায় এই একসেন্টে চিৎকার করে কিনা। করলে নাকি দারুন সেক্সি হবে ব্যাপারটা। সে অন্য ঘটনা , আরেকদিন বলা যাবে।

যাইহোক নবির কোন একসেন্ট ছিল না। ওর বেড়ে উঠা 2/3 টি দেশে হওয়ায় আর ওর মা-বাবা ভিন্ন জাতীয়তার হওয়ায় ইংরেজি মনে হয় ছিল ওর প্রধান ভাষা। নবির কর্মকান্ড ছিল বেশ মজার। কাজের বদলে দুনিয়ার অকাজ করে বেড়াত। এর পিছে লাগা, ওর কাজে বাধাদান করা, ওকে উত্যক্ত করা- এসব ছিল ওর কাজ। তবে ওর এসব কীর্তি মজাদার হওয়ায় কেউ কখনও ওর নামে কমপ্লেন করে নি। এরই মধ্যে আমাদের সহকমর্ী অ্যান, নবির প্রেমে পড়ে গেল। জামর্ানরা খুব প্রতিভাবান জাতি বলেই আমি জানতাম। কিন্তু এই ব্যাটা মহাগর্দভ হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করল। সে বুঝতেই পারল না অ্যানের দুর্বলতা। বিষয়টা এতদূর গেল যে আমাদের অফিসের বুড়া মিয়া মাইকেলও নবির উপর বিরক্ত হয়ে উঠল। মাইকেলের বক্তব্য এই মেয়ে যদি কাপড় খুলেও নবির সামনে দাঁড়ায়, তাও গর্দভটা বুঝবে না যে মেয়েটা ওকে পছন্দ করে। মাইকেলের এই যুক্তি আমারও পছন্দ হলো এবং মাইকেল আরও কিছু লজিক দিয়ে প্রমাণ করে দিল যে নবি হয় নপুংসক তা নাহলে গে।

পরবতর্ীতে অ্যান যখন প্রোপজ করেছিল তখন নবি অ্যানকে বলেছিল ওর জামর্ানীতে রেখে আসা গার্লফ্রেন্ডের কথা। কিন্তু তাতেও মাইকেলের ধারণা পরিবর্তন হয় নি। মাইকেলের এক কথা ছিল "মাইট, ইটস দ্য বয়েজ হু অলওয়েজ গো আফটার দ্য গার্লস। বাট দিস ইজ কমপ্লিটলি ডিফরেন্ট। দিস গার্ল ইজ আফটার দ্যাট বয়। ইফ ইউ আর অ্যা ম্যান এন্ড ইউ হ্যাভ আ ডি.., হোয়াট আর ইউ গোয়িং টু ডু? " আমি মুচকি মুচকি হাসতাম, তাতে মাইকেল বিরক্ত হয়ে বলত "ওকে আই এম গিভিং ইউর অ্যানসার। ইউ আর গোয়িং টু হায়ার অ্যা হোটেল রুম, লিভ ইউর কমিটমেন্টস আউটসাইড দ্য ডোর, টেক দ্য গার্ল ইনসাইড, ডু দ্য বিজনেস,দেন ডিচ হার অ্যান্ড ওয়াক অ্যাওয়ে উইথ ইউর কমিটমেন্ট। আনলেস ইউ আর এ গে অর ইউ ডোন্ট হ্যাভ অ্যা ডি.। আই ফিল স্যরি ফর দ্যাট নরবার্ট দ্য বাস্টার্ড।" অকাট্য যুক্তি। তর্ক করার কোন সুযোগ ছিল না।

নবি ছিল মনে রাখার মত একটা চরিত্র। যে ছেলে 18 তম জন্মদিনে উপহার পায় বার্লিনে বিলাস -বহুল ফ্ল্যাট, 19তম জন্মদিনে উপহার পায় লেটেস্ট মডেলের পোর্শ, সেই ছেলে কামলা দিয়ে ছুটির খরচ যোগাড় করে, খরচ বাঁচানোর জন্য সাইকেলে তাসমানিয়া ভ্রমণ করে, না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। তবে বিদেশি ছেলেদের সম্পর্কে আমার যে ধারণা ছিল, নবি তা ভেঙ্গে দিয়েছিল। নবি -ই প্রথম আমার সামনে প্রমাণ করেছিল বিদেশি কালচারের রিলেশনশিপেও কমিটমেন্ট থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:১৪
৩৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×