গতিটা এমন করে ঠিক করা যে একটা ডিম পুরো এক চক্কর ঘুরে আসে আধ ঘন্টায়। সুতরাং চড়ে বসলে ঠিক বুঝা যায় না যে এটা ঘুরছে। দূর থেকে দেখে অনেকে ভাবেন ডিমগুলো স্থির হয়েই আছে। আধঘন্টার এই ধীর নাগরদোলায় চড়তে দিতে হবে 13 পাউন্ড। শত শত টু্যরিস্ট লাইন দিয়ে আছে। টিকেট কাটতে লাইন তো আছেই। চড়তেও আলাদা লাইন। 7/7 এর আতংকে যুক্ত হয়েছে বাড়তি সিকিউরিটি চেক। আকাশ থেকে লন্ডন দেখার সাধ নিয়ে চড়লাম আমরাও।
লন্ডন আই'র কাছেই পার্লামেন্ট বিল্ডিং। উপর থেকে দেখলে পুরোটাই একসঙ্গে দেখা যায় (ছবি দেখুন)। টেমস নদী, নদীর উপরের ব্রিজগুলো, ঘেরকিন বিল্ডিং, সেন্ট পলস্ গির্জা, বিটি টাওয়ার, ক্যানারি ওয়ার্ফ, অন্যান্য ল্যান্ডমার্ক বিল্ডিংগুলো সবকিছুই উপর থেকে দেখলে ভিন্ন মাত্রার দৃশ্য হয়ে ধরা দেয়।
ছবি তুললাম ব্লগের জন্য। ভিডিও করলাম। লন্ডন আই কতর্ৃপক্ষ অটোমেটিক ছবি তোলে মেশিন দিয়ে বাইরে থেকে। কিন্তু যে সময়টাতে ছবি তোলার ঘোষণা এলো তখন দেখলাম ঐ কোণায় প্রচুর ভিড়। যদিও ভিড়ের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলাম নীচে এসে দেখলাম ছবিতে আমার এক পাশ দেখা যাচ্ছে। 10 পাউন্ডে একটা ছবি ও সেই ছবি বসিয়ে কি রিং করে দেয় ওরা। ছবি ভালো না হওয়ায় নেয়া হলো না। মাদাম তুঁসোর মোমের জাদুঘরটা যারা পরিচালনা করে সেই তুঁসো কোম্পানিই দেখাশোনা করে লন্ডন আই। তবে এর স্পন্সর হচ্ছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ।
যারা ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্ট তারা খোঁজ নিলে জানতে পারবেন এর কারিগরী অনন্যতার কথা। প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবেলা করে এরকম একটা খেলনামত স্ট্রাকচার যাতে ঠিকঠাক কাজ করে সেজন্য ডিজাইনারদের অনেক মাথা ঘামাতে হয়েছে। তবে এখন কর্তৃপক্ষ মহানন্দে কড়ি কামাচ্ছে। পর্যটকরাও বেশ গর্বিত ভঙ্গিতে পকেটটা ঝেড়ে আসছে সেখানে। লন্ডন আসলে আপনারাও ঢুঁ মারতে পারেন। কানে কানে বলি, অনলাইনে বুকিং দিলে 10% কমিশন পাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০০৬ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



