somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শত্রুর সাথে বসবাস !

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইয়াকুব নবী ইমন: এই নশ্বর পৃথিবী থেকে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। থেকে যাবে শুধু তার কর্ম(ভালো-মন্দ)। মানুষ এই দুনিয়ায় বড় জোর গড়ে ৬০-৭০ বছর বেঁচে থাকে। আমার বয়স বর্তমানে ৩২ বছর। গানিতিক হিসেবে জীবণের অর্ধেকেরও বেশি সময় পার করে ফেলেছি। এই ৩২ বছরের মধ্যে কর্ম জীবণ কাটছে প্রায় ১৫ বছর। সেই হিসেবে আমি অনেকটা কিশোর বয়সেই কর্ম জীবণে প্রবেশ করেছি। যেহেতু সাংবাদিকতা করি। স্বভাবত কারনেই সাংবাদিকদের সাথে এই বয়সে বেশি মিশতে হয়েছে। এই পেশায় যতটানা আনন্দ আছে তার ছেয়ে বেশি আছে যাতনা। ইদানিং কালের দু’একটি ঘটনা আমাকে বড়ই অবাক করেছে। সাংবাদিকতা পেশাটি দিন দিন কুলষিত হয়ে যাচ্ছে। গতকালই আমার এলাকার এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফোন করে বললেন জনৈক সাংবাদিক নাকি তার মাদ্রাসায় গেছেন। তার কাছে ভাড়ার টাকা নাই। তাকে ভাড়ার টাকা দিতে হবে। এরা যে কোন অজুহাতে ২ টাকা-৩ টাকা এমনকি একটি সিগারেট হলেও সাধারণ মানুষ থেকে খায়। বুঝুন সাংবাদিকতার কি অবস্থা। আমার এক শ্রদ্ধেয় স্যার সব সময় বলতেন আগে মানুষ বাড়ির সামনে লিখে রাখতো কুকুর থেকে সাবধান, সেদিন আর বেশি দুরে নেই যে দিন মানুষ বাড়ির সামনে লিখে রাখবে সাংবাদিক থেকে সাবধান! তাছাড়া কাকের মাংস কাকে না খেলেও বর্তমানে সাংবাদিকের মাংস সাংবাদিকে খায়। এবার আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি- আমি সব সময় যে কোন সাংবাদিকদের আড্ডায় বরাবরই বলে আসছি এই ১৫ বছর সাংবাদিকতা না করে গ্রামে হেটে হেটে রাস্তার পাশে কলা গাছ রোপন করলে এখন ভালো ফল পাওয়া যেত। কিন্তু সৎ সাংবাদিকতা করে কি ফল পাচ্ছি আমি এখন। পাচ্ছি চারদিকের অবহেলা, টিটকারী, লাঞ্চনা, হচ্ছি অপমানিত। আর যারা আমার এই পবিত্র পেশাটাকে দিন দিন কুলষিত করছে তারা খুব স্বাচ্ছ্বন্দেই আছে । কোন ঘটনা-ঘটুক না ঘটুক টাকা দিলেই হলো সত্য মিথ্যা একাকার করে লিখে টাকা যায়েজ করতে ওস্তাদ এক শ্রেনীর প্রতারক সাংবাদিক। এ ক্ষেত্রে তারা কারো বিধিনিষেধও মানে না, বা মানার প্রয়োজন বোধ করেনা, অনুরোধ রাখাতো দুরে থাক। এরা টাকার নেশায় এতোই অন্ধ হয়ে যায় যে তাদের লেখার কারণে একটা নিরপরাধ ব্যক্তির ফাঁসি হয়ে গেলেও তাদের কিছুই যায় আসেনা। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলেই তাদের সাথে ঘটে বিপত্তি। তাই মাঝে মধ্যে নিজেকে অনেক অসহায় মনে হয়। মনে হয় চার দিকে যেন শত্রু। আমি সব সময় শত্রুর সাথে বসবাস করছি। যাক এবার নিবন্ধের প্রথম লাইনে আসি। বর্তমানে আমি সৎ পথে চলার চেষ্টা করি। হালাল ইনকাম করার চেষ্টা করি। আমি জানি এই চেষ্টাই আমাকে একদিন সফলতা এনে দেবে। কারণ এখন যত দু:খ কষ্ট করিনা কেন আল্লাহকে স্মরণ করলে নিমিষেই সব দুর হয়ে যায়। আজ থেকে দেড় দুই শত বছর আগে আমরা দুনিয়াতে ছিলামনা, ছিল আমাদের দাদা-পিজারা। বর্তমান তারা নেই আছি আমরা-আমাদের বাবা-চাচারা। আবার এক সময় আমরা থাকবো না থাকবে আমাদের সন্তানাদি-নাতি পন্তিরা। দুনিয়ায় যত দিন থাকবে এভাবেই চলবে পৃথিবীর জীবণ চক্র। আমরা আজ অনেকেই জানিনা আমাদের পিজা কে ছিল। তেমনি আজ থেকে দেড়-দুইশ বছর পর আমাদেরও কেউ খবর রাখবেনা কেউ। আমাদের কোন পদচিহৃ দুনিয়াতে থাকবেনা। থাবকে শুধু আমাদের কর্ম সেটি ভালো অথবা মন্দ। আমরা কেউ যদি দুনিয়াতে ভালো কাজ করে যাই তাহলে মানুষ যেমন স্মরণ করবে তেমনি খারাব কাজ করে গেলেও স্মরণ করবে। সুতরাং আমরা যে যেই পেশায় থাকিনা কেন সত্যের পথে থেকে সৎ পথে চলে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর্জন করাই হোক আমাদের লক্ষ্য। আমার হাতে যেন আমার আপন গোত্রের ভাইটি থাকে নিরাপদ। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝার জ্ঞান দান করুন(আমিন)। লেখক: ইয়াকুব নবী ইমন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দৈনিক জাতীয় নিশান। ০১৭১২৫৯৩২৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০০




জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth মূলত এমন এক উপন্যাস, যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, শ্রেণিবৈষম্য, বিচারব্যবস্থা, প্রতিশোধ এবং বুদ্ধিমত্তার লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

×