
নয়াপল্টন থেকে নিউমার্কেট যাচ্ছিলাম। ইচ্ছে ছিল কিছু কেনাকাটা করব আর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরব।আমি যার রিকশায় উঠেছিলাম তার নাম সামছুল হক। যেতে যেতে তার সঙ্গে আমার অনেক কথা হল।
বাসা শাহজাহানপুর এলজিইডি কলোনিতে। কথা হচ্ছিল তার জীবন-জীবিকা, পরিবার-পরিজন নিয়ে।
জানালেন এক মেয়ে ছাড়া তার আর কেউ নেই।
ঢাকা শহরের অগণিত রিকশাওয়ালাদের একটাই পরিচয়, তারা রিকশাওয়ালা। রিকশার চাকার সাথেই পাক খায় তাদের জীবনের চাওয়া-পাওয়া। রিকশার চাকা ঘুরলে পেট চলে নয়তো অনাহার, অর্ধাহার।
সামছুল হকের নিজের রিকশা নেই। মহাজনের কাছ থেকে রিকশা ভাড়া করে চালান। সারাদিনের আয়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ তুলে দিতে হয় মহাজনের হাতে। আয় যাই হোক না কেন মহাজনের পাওনা অংশে হেরফের করার কোন জো নেই।
এই ঘেরাটোপ থেকে নিজেকে খানিক আলাদা করে ভাবতে ইচ্ছে করে তার। আলাদা ভাবতে ভালোও লাগে। নিজেকে লেখাপড়া জানা মানুষ ভাবতে ইচ্ছে হয়।
নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। জানেন এই শহরে তার চেয়েও বেশি লেখাপড়া জানা লোকও রিকশা চালান। তবুও তিনি নিজেকে আলাদা ভাবেন।
আসলেই অন্যদের চেয়ে আলাদা তিনি। অন্যেরা যখন মহাজনের পাওনা পরিশোধ করে ঘরের জন্য চাল-ডাল কেনেন তখন সামসুল হক ছুটে যান নীলক্ষেতের ফুটপাতের বইয়ের দোকানে।
সংসার, চাল-ডাল, নুন-তেলের কথা ভুলে বইয়ের তাক থেকে তুলে নেন পছন্দের বই। পকেটে কত টাকা আছে সেটা ভুলে যান।
এরপর ঘরে ফিরে মেয়ের উপোসী মুখ দেখে মনে পড়ে বই নয়, চাল কেনাটাই জরুরি ছিল।
মাঝে মাঝে ভাবেন, ঢাকা শহরে রিকশা চালিয়ে বাবা মেয়ে অনায়াসে চলতে পারতেন। কিন্তু তিনি এসব হিসাব বোঝেন না। বই পড়ার প্রচণ্ড নেশা তাকে টেনে নিয়ে যায় বইয়ের দোকানে, অন্য এক জগতে।
একটা টিনের বড় বাক্স আছে তার। এই বাক্সটাই তার কাছে ছোট একটা পাঠাগার। ওই বাক্সেই তার বই রাখেন। সময় পেলেই এটাকে ঝেড়েঝুড়ে পরিষ্কার করেন। সেটাই তার আনন্দ বিলাস।
রিকশা চালিয়ে রাতে ঘরে ফিরে আগে বাক্সটা খুলে বসেন তিনি। একটা একটা করে সবগুলো বই নামান। পছন্দমতো একটা বই খুলে পড়তে পড়তেই চোখে শিক্ষিত, সভ্য হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এক সময় ঘুমিয়ে পড়েন।
আমার আজকের প্রতিবেদন...! নিউজটি 'বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট' কমের হ্যালো কলামে.....প্রাকাশিত হয়েছে.
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


