somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্জিনিয়ার এর প্রেম কাহিনীঃ পর্ব - ১

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে অনেকদিন আগের কথা,
এক দেশে বাস করত এক ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার ।

সে ছিল অসম্ভব সুন্দর। সে এতটাই সুন্দর ছিল যে, তার সৌন্দর্য দেখতে আকাশের পরীরা রাতে নেমে আসতো পৃথিবীতে !!!

সে যখন স্নান করত নদীতে- মৎস্যকুমারীরা তার চারপাশে খেলা করত আর তাকে ছুঁয়ে ধন্য হত।

শুধু প্রকৌশলশাস্ত্রে নয়, তলোয়ার বিদ্যাতেও তার পারদর্শিতা ছিল দেখার মত
দেশ বিদেশের সুন্দরী রাজকুমারীরা প্রস্তাব পাঠাত তাকে বিয়ে করার জন্য।

তবে সব প্রস্তাবই ফেরত যেত, কেননা ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার সাহেবের এসব দিকে খেয়াল নেই। সে তার গবেষণা নিয়েই ব্যস্ত থাকত রাত-দিন।
কারণ তখন কেবলমাত্র প্রকৌশলশাস্ত্র হাটতে শিখেছে…

সে দেশের রাজা তাকে অনেক ভালোবাসতেন, অবশ্য তার সুন্দর চেহারার জন্য নয়, প্রকৌশল বিদ্যায় তার অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য।

এজন্যই বনের ধারে এক সুন্দর গবেষণাগার বানিয়ে দিয়েছিলেন রাজা, যার চারপাশ ফুলের বাগানে ঘেরা, আর ছিলো একটি সুন্দর দীঘি। দেশ-বিদেশের অনেক অভিজ্ঞ টেকো ইন্জিনিয়ার রাও তার কাছে হার মানতো প্রকৌশল বিদ্যায় ।

তবে বিপত্তি দেখা গেল যখন রাজপ্রাসাদে কানাঘুষো শুরু হল স্বয়ং রাজকুমারী ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার এর প্রেমে মশগুল। কথাটা রাজার কানে আসতেও দেরী হল না।
রাজা গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন।
রাজা তার একমাত্র মেয়েকে সরাসরি কষ্টও দিতে পারে না, আবার সহজ-সরল জ্ঞানী প্রকৌশলীকেও তার খুব দরকার। এজন্য রাজা মশাই তার ঘনিষ্ঠ কজন রাজকর্মচারী নিয়ে সলাপরামর্শ করতে বসেন রাজা !!
কেউ বলল, ‘আটকাও ঐ ইন্জিনিয়ার কে।’
কেউ আবার বলে, ‘হলে সম্বন্ধ ইন্জিনিয়ার সাথে, দোষ কি তাতে। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে তারতো জুড়ি নাই।’

সবার কথা শেষে রাজা বলেন কেশে, ‘রাজকর্ম জটিল কর্ম, হবে না ও মাথায়।’
হবে কি তবে এখন?

অবশেষে বারো দিন বারো রাতে বের হল এক পন্থা, যে পন্থায় ইন্জিনিয়ারও বাঁচবে, রাজাও তাতে নাচবে।

রাজার নির্দেশে খুঁজে আনা হল রাজ্যের সেরা সুন্দরীদের।
অবনী, শ্রাবণী, অনুরাধা, মেহজাবীন, সখ, সারিকা, ক্যাটরিনা, আইশা , আলিয়া সহ আরো অনেকে…. :) :) :) :P:P
সবাই গেল ইন্জিনিয়ার কাছে রসালাপ জমাতে।

তবে কারো রসেই ভিজল না ইন্জিনিয়ার এর মন,
সারাদিন-সারারাত ইন্জিনিয়ার সাহেব তার আবিষ্কার নেশার রসেই ভিজে রইল।

তার শুধু চিন্তা কারেন্ট, ভোল্টেজ, ফ্রিকোয়েন্সি এসব নিয়ে!!!!
রাজ্যের সেরা সুন্দরী ময়ুরীও গেল তার কাছে :P :P

সে তার মায়াময়ী কণ্ঠে, তার জাদুকরী ভঙ্গিমায় ইন্জিনিয়ারকে বধের সব চেষ্টা করতে লাগল। ইন্জিনিয়ার এর গবেষণাগারে আলোর ঝলকানি হয়ে ঘুরে বেড়াত সে।

রাজা ময়ুরীকে দামী প্রসাধনী, জমকালো পোশাক দিলেন।
তবু বধ হয় না ইন্জিনিয়ার। রাজা পড়লেন বিপাকে।

যদি না হয় ইন্জিনিয়ার এর প্রেম, তবে কেমনে ঠেকাবে রাজকুমারীকে?
এবারে রাজা ঘোষণা করলেন,
যে এই ইন্জিনিয়ার সাথে প্রেম করতে পারবে, তার তো ইন্জিনিয়ার এর মত এমন সুন্দর স্বামী ও মিলবে, আবার ধন-সম্পদও মিলবে।

হাওয়ার বেগে কথাটা ছড়িয়ে পড়ল দেশ-বিদেশে।
এরপর দিনের পর দিন সুন্দরীরা আসতে লাগল এই আজব প্রেমের খেলায় মাততে।

তবে কিছুতেই কিছু হয় না,
ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার এর মন পড়ে রইল কনডাকটর, সেমিকনডাকটর, ডায়োড, ট্রানজিস্টর নিয়ে ..

এত সব ঘটনা ঘটছে আর রাজকুমারী জানবে না, তা কি হয়?
রাজকুমারী সব জেনে আরো বেশী ভালোবেসে ফেলল ইন্জিনিয়ারকে ।

রাজপ্রাসাদে অশান্তি বেড়েই চলল।
রাজার ঘুম হল হারাম,
রাজকুমারী হল গৃহবন্দী,
আর ইন্জিনিয়ার সাহেব নতুন নতুন আবিষ্কার করেই চললো …..
This is called ENGINEER !!!!!!! :P :P :) :)

চলবে....
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×