সে অনেকদিন আগের কথা,
এক দেশে বাস করত এক ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার ।
সে ছিল অসম্ভব সুন্দর। সে এতটাই সুন্দর ছিল যে, তার সৌন্দর্য দেখতে আকাশের পরীরা রাতে নেমে আসতো পৃথিবীতে !!!
সে যখন স্নান করত নদীতে- মৎস্যকুমারীরা তার চারপাশে খেলা করত আর তাকে ছুঁয়ে ধন্য হত।
শুধু প্রকৌশলশাস্ত্রে নয়, তলোয়ার বিদ্যাতেও তার পারদর্শিতা ছিল দেখার মত
দেশ বিদেশের সুন্দরী রাজকুমারীরা প্রস্তাব পাঠাত তাকে বিয়ে করার জন্য।
তবে সব প্রস্তাবই ফেরত যেত, কেননা ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার সাহেবের এসব দিকে খেয়াল নেই। সে তার গবেষণা নিয়েই ব্যস্ত থাকত রাত-দিন।
কারণ তখন কেবলমাত্র প্রকৌশলশাস্ত্র হাটতে শিখেছে…
সে দেশের রাজা তাকে অনেক ভালোবাসতেন, অবশ্য তার সুন্দর চেহারার জন্য নয়, প্রকৌশল বিদ্যায় তার অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য।
এজন্যই বনের ধারে এক সুন্দর গবেষণাগার বানিয়ে দিয়েছিলেন রাজা, যার চারপাশ ফুলের বাগানে ঘেরা, আর ছিলো একটি সুন্দর দীঘি। দেশ-বিদেশের অনেক অভিজ্ঞ টেকো ইন্জিনিয়ার রাও তার কাছে হার মানতো প্রকৌশল বিদ্যায় ।
তবে বিপত্তি দেখা গেল যখন রাজপ্রাসাদে কানাঘুষো শুরু হল স্বয়ং রাজকুমারী ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার এর প্রেমে মশগুল। কথাটা রাজার কানে আসতেও দেরী হল না।
রাজা গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন।
রাজা তার একমাত্র মেয়েকে সরাসরি কষ্টও দিতে পারে না, আবার সহজ-সরল জ্ঞানী প্রকৌশলীকেও তার খুব দরকার। এজন্য রাজা মশাই তার ঘনিষ্ঠ কজন রাজকর্মচারী নিয়ে সলাপরামর্শ করতে বসেন রাজা !!
কেউ বলল, ‘আটকাও ঐ ইন্জিনিয়ার কে।’
কেউ আবার বলে, ‘হলে সম্বন্ধ ইন্জিনিয়ার সাথে, দোষ কি তাতে। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে তারতো জুড়ি নাই।’
সবার কথা শেষে রাজা বলেন কেশে, ‘রাজকর্ম জটিল কর্ম, হবে না ও মাথায়।’
হবে কি তবে এখন?
অবশেষে বারো দিন বারো রাতে বের হল এক পন্থা, যে পন্থায় ইন্জিনিয়ারও বাঁচবে, রাজাও তাতে নাচবে।
রাজার নির্দেশে খুঁজে আনা হল রাজ্যের সেরা সুন্দরীদের।
অবনী, শ্রাবণী, অনুরাধা, মেহজাবীন, সখ, সারিকা, ক্যাটরিনা, আইশা , আলিয়া সহ আরো অনেকে….
সবাই গেল ইন্জিনিয়ার কাছে রসালাপ জমাতে।
তবে কারো রসেই ভিজল না ইন্জিনিয়ার এর মন,
সারাদিন-সারারাত ইন্জিনিয়ার সাহেব তার আবিষ্কার নেশার রসেই ভিজে রইল।
তার শুধু চিন্তা কারেন্ট, ভোল্টেজ, ফ্রিকোয়েন্সি এসব নিয়ে!!!!
রাজ্যের সেরা সুন্দরী ময়ুরীও গেল তার কাছে
সে তার মায়াময়ী কণ্ঠে, তার জাদুকরী ভঙ্গিমায় ইন্জিনিয়ারকে বধের সব চেষ্টা করতে লাগল। ইন্জিনিয়ার এর গবেষণাগারে আলোর ঝলকানি হয়ে ঘুরে বেড়াত সে।
রাজা ময়ুরীকে দামী প্রসাধনী, জমকালো পোশাক দিলেন।
তবু বধ হয় না ইন্জিনিয়ার। রাজা পড়লেন বিপাকে।
যদি না হয় ইন্জিনিয়ার এর প্রেম, তবে কেমনে ঠেকাবে রাজকুমারীকে?
এবারে রাজা ঘোষণা করলেন,
যে এই ইন্জিনিয়ার সাথে প্রেম করতে পারবে, তার তো ইন্জিনিয়ার এর মত এমন সুন্দর স্বামী ও মিলবে, আবার ধন-সম্পদও মিলবে।
হাওয়ার বেগে কথাটা ছড়িয়ে পড়ল দেশ-বিদেশে।
এরপর দিনের পর দিন সুন্দরীরা আসতে লাগল এই আজব প্রেমের খেলায় মাততে।
তবে কিছুতেই কিছু হয় না,
ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার এর মন পড়ে রইল কনডাকটর, সেমিকনডাকটর, ডায়োড, ট্রানজিস্টর নিয়ে ..
এত সব ঘটনা ঘটছে আর রাজকুমারী জানবে না, তা কি হয়?
রাজকুমারী সব জেনে আরো বেশী ভালোবেসে ফেলল ইন্জিনিয়ারকে ।
রাজপ্রাসাদে অশান্তি বেড়েই চলল।
রাজার ঘুম হল হারাম,
রাজকুমারী হল গৃহবন্দী,
আর ইন্জিনিয়ার সাহেব নতুন নতুন আবিষ্কার করেই চললো …..
This is called ENGINEER !!!!!!!
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


