somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবিদা আমাকে নিয়ে যে গানটি লিখেছিলেন

১৭ ই জুন, ২০২৩ দুপুর ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আত্মপ্রতিকৃতি

রবিদা অতি অল্প বয়সে আমাকে নিয়ে একটি গান লিখেছিলেন। মাত্র ২০ বছর তখন তাঁর। এত অল্প বয়সে জীবনের এমন গভীর বোধ ও দর্শন নিয়ে এমন একটি গান কী করে লিখেছিলেন ভাবতে গেলে অবাক হতে হয়। প্রকৃতির সব সুন্দরের সাথে আমার একাত্মতার খবর রবিদা কী করে জানলেন, এও কম বিস্ময় নয়! প্রকৃতির সাথে আমাকে মিশিয়ে দিয়ে গান লিখলেন,

আমার চোখে তো সকলই শোভন,
সকলই নবীন, সকলই বিমল, সুনীল আকাশ, শ্যামল কানন,
বিশদ জোছনা, কুসুম কোমল— সকলই আমার মতো ।
তারা কেবলই হাসে, কেবলই গায়, হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়—


গানের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ যেন আমাকে নিয়েই লেখা। প্রকৃতির সর্বত্র শুধু আনন্দ। হেটাররা অবশ্য বলবে, গানের ঐ "আমি" টা কবি নিজে। অথচ আমি তো জানি, ঐ "আমি" টা আসলে কে!
ফুল, জোছনা, আকাশের তারা, প্রকৃতির সব কিছু তাদের কাজ শেষে হাসিমুখে কত সহজ ভাবে বিদায় নেয়! জীবনকে কত সহজভাবে নেয়া যায়! গানে বলা হয়েছে,

ফুল সে হাসিতে হাসিতে ঝরে, জোছনা হাসিয়া মিলায়ে যায়,
হাসিতে হাসিতে আলোকসাগরে আকাশের তারা তেয়াগে কায় ।


পুরো গান ভর্তি কেবল আনন্দ আর আনন্দ। প্রকৃতির মতো সহজ আনন্দ। রবিদা আবারও আমার কথা ভেবেই লিখেছেন,

আমার মতন সুখী কে আছে। আয় সখী, আয় আমার কাছে—
সুখী হৃদয়ের সুখের গান শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ ।
প্রতিদিন যদি কাঁদিবি কেবল একদিন নয় হাসিবি তোরা—
একদিন নয় বিষাদ ভুলিয়া সকলে মিলিয়া গাহিব মোরা।।


যেমন পানি যে মীন পিয়াসী, পানির মধ্যে থেকেও একটি মাছ তৃষ্ণার্ত, তেমনি এত আনন্দ, এত সুন্দরের মধ্যে থেকেও কোথায় যেন একটি বিষাদ, একটি হাহাকার ঠিকই গানের ভেতর দিয়ে হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। সত্যিই, শুধু আনন্দের মধ্যে থাকাটুকুই জীবন নয়। ভালোবাসা পাওয়া এবং প্রায় একই সাথে ভালোবাসা না পাওয়া, ভালোবাসাকে ছুঁতে পারার যে যন্ত্রণা, যা কোন সংজ্ঞা দিয়ে বর্ণনা করা যায় না, ঐ যন্ত্রণা ছাড়া তো জীবনের পরিপূর্ণতা আসে না! এ যেন সুখে থাকতেও ভূতের রাম কিল খাবার ইচ্ছে! সে ইচ্ছে থেকেই রবিদা জিগিয়েছেন, আমিও জিগাই, সখী, ভালোবাসা কাকে কয়?

অতএব, হে সখা ও সখীগণ, রবিদা যে এই গানটি আমাকে নিয়েই লিখেছেন, তাহা স্বীকার না করিয়া তোমরা যাইবে কোথায়?

পুনশ্চ- আপনাকে নিয়ে রবিদা কোন গান/কবিতাটি লিখেছেন?

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:১৮
১৯টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:১৭



পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষঃ
পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরবাসী ঈদ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:২৩

আমার বাচ্চারা সকাল থেকেই আনন্দে আত্মহারা। আজ "ঈদ!" ঈদের আনন্দের চাইতে বড় আনন্দ হচ্ছে ওদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে না। সপ্তাহের মাঝে ঈদ হলে এই একটা সুবিধা ওরা পায়, বাড়তি ছুটি!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের হামলায় ইসরায়েল কি ধ্বংস হয়ে গেছে আসলেই?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ২:৪৯


ইসরায়েলে ইরানের মিসাইল হামলার একটি ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন অনলাইনে। যাতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মিসাইল ইসরায়েলের আকাশে উড়ছে আর সাইরেন বেজেই চলেছে! ভিডিওটি দেখে আপনি ভাবতে পারেন, হাজার কোটি ডলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিসের সনদের মান নির্ধারণ করা শয়তানী কাজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৬:৪০



সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়ানটের ‘বটমূল’ নামকরণ নিয়ে মৌলবাদীদের ব্যঙ্গোক্তি

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:৩৩



পহেলা বৈশাখ পালনের বিরোধীতাকারী কূপমণ্ডুক মৌলবাদীগোষ্ঠী তাদের ফেইসবুক পেইজগুলোতে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ব্যঙ্গোক্তি, হাসাহাসি করছে। কেন করছে? এতদিনে তারা উদঘাটন করতে পেরেছে রমনার যে বৃক্ষতলায় ছায়ানটের বর্ষবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×