অফিস থেকে দুপুরে বাসায় এসে ভাবলাম পনের মিনিট ঘুম দেই। মাথার কাছে ঘড়ি আছে। উপহার পাওয়া এলার্ম ক্লক।
যথারীতি ঘুম শেষে এলার্মঘড়িটা মিষ্টি টুং টাং শব্দ করে বাজলো, ভাললাগছে মধুর শব্দ, তারপর অসহনীয়! ঘড়িটার ডানে নাকের মত উঁচু বোতাম আছে। আমি সেটা চেপে দিলাম। বন্ধ হলো না। ঝাঁকি দিলাম। ফেলে দিলাম মাটিতে।
বাজতেই থাকলো।
অফিসে না গিয়ে গেলাম ওর কোম্পানীতে, এটা বন্ধ করে দেন।
কাস্টমার সাপোর্ট বলল, জনাব কবে কিনেছেন বলতে হবে। মেমো?
এলার্মটা তখনো বাজছে। শুনে বললো আমার ফর্মে লিখতে হবে কি কি কারণে বাজছে? গত কয়দিন কোথায় কোথায় ঘুমিয়েছেন তার তালিকা।
আমি তখন বললাম শুনেছেন একই নবম সিম্ফনি বাজছে। আপনার খারাপ লাগছে না? বলল এ বিষয়ে বলতে পারেন আমাদের টেকনিক্যাল বিভাগ।
এর পর অসহনীয় ঘড়িটা ফেলে দেবো। এলেন এক লোক। বিজ্ঞ সেই লোক চোখে চশমা। আধাঘণ্টা ধরে শুনলেন। বললেন, হুম, ঘড়িটা ঠিক আছে
কিন্তু ব্যবহার পদ্ধতি যে লিখেছে তার ভুল। আমি পারবো না এর সিন্ধান্ত নিতে। লোকটা চলে যাবার পর বেজেই যাচ্ছে টুং টাং। কোম্পানীর মালিকের টেবিলে গিয়ে ফেললাম এটা। আমাকে বলেন আমি কি দোষ করেছি।
কেন একটা নষ্ট ঘড়ি বেঁচে ব্যবসা করবেন? দালান বানাবেন..ব্যাংক লুট করবেন। আমি আন্দোলন করবো।
তিনি বললেন, আমি কিছুই করতে পারবো না। আমি বললাম আমি সরকারী বিভাগকে জানাবো। সরকারী বিভাগে ফোন চলে গেল ভয়েজ মেইলে।
আপনার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হলো। আপনাকে অতি দ্রুত যোগাযোগ করা হবে ...
তখুনি জোরে জোরে কর্কশ স্বরে ফোন বাজলো।
আমি ভাবলাম সরকারী অফিসের কেউ। শুনি আমার অফিসের বস ওপাশে,
আপনি আজকে কোথায় গেলেন দশ মিনিটের কথা বলে? ঘুমিয়ে পড়েছেন?
মাথা ভোঁ ভোঁ করছে।
উঠে বসলাম।
দেখি বিছানার পাশে টুং টাং এলার্ম বাজছে। অনেকক্ষণ।
উপরে নাক চাপ দিতেই চুপ হয়ে গেল।
এত সহজ।
--
ড্রাফট ২.০
আগের ড্রাফটের ট্র্যাশে ফেলা লাইন
১
সময় নেই ও কথা বলো না।
তালিকায় অন্য কোন বস্তু বা মানুষ
২
পুরনো হয়ে গেছ বাড়ি
অপরাধী, আজ তোমায় ভেঙে ফেলা হবে
পুরনো হয়েছ তাই
হাতুড়ি ও গাঁইতি অপেক্ষায়
পুরনো তাই ইতিহাস হয়ে যাবে
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




