somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনলাইনের এ যুগে বেকার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়াটাই লজ্জাজনক

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনলাইনের এ যুগে বেকার শব্দটি বদ্দ বেশি বেমানান। কারণ অনলাইন সারা বিশ্বকে নিয়ে এসেছে আপনার ঘরের কোণে। এখন ঘরে বসেই সম্ভব হচ্ছে বিদেশে থাকা নিজের কাছের মানুষের সাথে ভিডিও কথোপকথন, যা আজ থেকে মাত্র ৩ বছর আগেও মানুষের কাছে অসম্ভব এবং অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। এখন বিষয়টি গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত মানুষদের কাছেও অতিপরিচিত। অনলাইন সারা বিশ্বকে ছোট করে নিয়ে আসার পরই সারা বিশ্বে চলে এসেছে বিশাল বড় পরিবর্তন। সারা বিশ্বে ছোট ছোট কোম্পানীগুলোর পাশাপাশি বড় বড় কোম্পানীগুলোও ভাবা শুরু করেছে, তাদের কাজের জন্য সকল স্টাফকে অফিসে নিয়ে এনে বসানোর দরকার নেই। খরচ কমানোর পরিকল্পনাতে তারা সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের জন্য লোক নেওয়া শুরু করল, যারা অফিসে না এসে অন্য দেশে বসে ঘরে বসেই সব কাজ করবে। অনলাইন বিষয়টিকে এতই সহজ করে দিল, যেটার জন্য এখন আর প্রয়োজন হচ্ছেনা নিজের দেশ ত্যাগ করে, নিজের পরিচিত পরিবেশ, বন্ধু-আত্নীয়স্বজনকে ত্যাগ করে দূরে চলে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া। ঘরে বসেই মানুষ এখন বড় বড় কোম্পানীতে চাকুরী করছে। দিনে দিনে এ সংখ্যা আরো বাড়ছে, সামনে আরও বাড়বে। কারন অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে এখনও যা যা বাধা আছে, সেগুলোও ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং সামনের দিনগুলোতে অনলাইনে আরো বেশি পরিমাণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, এটুকু বুঝতে মনে হয় খুব বেশি জ্ঞানবুদ্ধির দরকার হয়না।



অনলাইনে কাজের এরকম সুযোগ তৈরি হওয়ার পর, বাংলাদেশে বসেই প্রচুর সংখ্যক মানুষ তাদের বেকারত্ব দূর করতে পেরেছে। এমন অনেকে আছে যাদেরকে আমরা অনেকেই উপার্জনক্ষম হিসেবে মনে করিনা, তারাও অনলাইনের কল্যানে পরিবারের উপার্জনে সবচাইতে বড় ভুমিকা রাখতে পারছে। যেসব মহিলারা বাচ্চা লালন পালনের জন্য ঘরের বাইরে গিয়ে চাকুরী করতে পারছেনা, তারাও এখন ঘরে বসে আয় করছে মাসে ২০,০০০ টাকা – ৫০,০০০টাকা কিংবা অনেক ক্ষেত্রে আরো অনেক বেশি। অনেক শারিরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরাও আজকে ঘরের বোঝানা। তাদের আয়ে চলছে পুরো সংসার। এ বিষয়গুলো কখনও সম্ভব হবে, কেউ হয়ত ভাবতে পারেনি। এরাও যদি আজকে অনলাইনের কল্যানে পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট দিতে পারে, তাহলে যারা সক্ষম, স্মার্ট, ট্যালেন্ট তারা নিজেদেরকে বেকার হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা পাওয়া উচিত এবং হ্যা আমি বিশ্বাস করি, আর ১-২ বছর পর মানুষ এ লজ্জাটা অবশ্যই পাবে।

নিজেকে তৈরি করুন, সময়কে ব্যয় করুন নিজের প্রস্তুতির জন্য। নিজেকে প্রস্তুত করার সকল ব্যবস্থা আপনার আশেপাশেই এখন খুব সহজলভ্য। অনলাইনকে ব্যবহার করে বিনামূল্যে শিখতে পারেন। এক্ষেত্রে ৪টি মাধ্যমকে আপনি ব্যবহার করতে পারেন।
- গুগল সার্চ
- ইউটিউব ভিডিও
- ব্লগ
- ফেসবুক

তবে নিজে নিজে শিখতে গিয়ে গন্তব্যে পৌছতে যদি দেরি হবে মনে করেন, তাহলে কোন ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি শিখতে পারেন।
বাংলাদেশে এখন ভাল মানের অনেক ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে।


কয়েকটি ভাল মানের ট্রেনিং সেন্টারের লিস্ট এখানে
১। ক্রিয়েটিভ আইটি ইন্সটিউটঃ
বাংলাদেশে এ মুহুর্তে ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে সবচাইতে সেরা এবং বড় প্রতিষ্ঠান এটি। গ্রাজুয়েটদের জন্য ফ্রি টেনিং এবং ট্রেনিং শেষে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে দেয়ার পাশাপাশি লোকাল আইটি বিষয়ক চাকুরীর ব্যবস্থাও করে দেয়া হয় এ প্রতিষ্ঠান থেকে।
যে যে ট্রেনিংগুলোতে সেরাঃ গ্রাফিকস, এসইও, ওয়েব প্রোগ্রামিং
ওয়েবসাইটঃ http://creativeit-inst.com/

২। ডেভসটীম ইন্সটিউটঃ
৫ জন এসইও এক্সপার্টদের সমন্বয়ে তৈরি এ প্রতিষ্ঠানটি সেরা হিসেবে দ্বিতীয় তালিকাতে থাকবে।
যে যে ট্রেনিংগুলোতে সেরাঃ এসইও, অ্যাফিলিয়েশন
ওয়েবসাইটঃ http://devsteaminstitute.com/

৩। ওয়েবকোডঃ
এ ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানটি নতুন হলেও ইতিমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে।
যে যে ট্রেনিংগুলোতে সেরাঃ ওয়েব প্রোগ্রামিং
ওয়েবসাইটঃ http://webcode.com.bd/

৪। প্রাইম আইটিঃ
এ প্রতিষ্ঠানটি শেখানোর ব্যাপারে আন্তরিকতার কারনে অনেকের পছন্দের একটি ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে।
যে যে ট্রেনিংগুলোতে সেরাঃ এসইও
ওয়েবসাইটঃ http://www.primeit.org/

৫। ইনফোনেট
এ প্রতিষ্ঠানমূলত অনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষদের ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং দিয়ে থাকে।
যে যে ট্রেনিংগুলোতে সেরাঃ ওয়েবডিজাইন, এসইও
ওয়েবসাইটঃ http://www.infonetbd.org/

উপরের ট্রেনিং সেন্টারগুলোর ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করলেই তাদের সাথে যোগাযোগের তথ্যগুলো পেয়ে যাবেন।

এত সব ব্যবস্থা থাকার পরও আপনি নিজেকে বেকার হিসেবে পরিচয় দিবেন কিনা, সেটি আপনার নিজের সিদ্ধান্ত।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×