somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন একটা সংবাদ পড়ি

০৭ ই আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মহান স্বাধীনতার জন্য জীবন গেলেও হতভাগ্যই রয়ে গেছে ওরা ২২ জন। মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হলেও ওই ২২ জনের খোঁজ ৪০ বছরেও কেউ রাখেননি। বগুড়ার শাবরুল হিন্দুপাড়ার নিহত ওই ২২ জনের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের জগদ্দল পাথরের মতো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে শোকাবহ সেইস্মৃতি। বগুড়া শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে বর্তমানে শাহজাহানপুর উপজেলার শাবরুল হিন্দুপাড়া গ্রাম। এ পাড়ায় যুগ যুগ ধরে হিন্দু-মুসলমান সৌহার্দের দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে এ পাড়ার ৪৩ হিন্দু পরিবারের প্রায় ৪০০ মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো এক সকালে বাড়ি থেকে পরিবার-পরিজন একযোগে বের হয়ে প্রথমে পার্শ্ববর্তী শাতরুখা গ্রামে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে আদমদীঘির কুন্দুগ্রাম হয়ে গুপিনাথপুর পাহারপুর দেওনাহাট ও ইশবপুর হয়ে ক্লান্ত শরীরে জয়পুরহাটের মঙ্গলবাড়ীতে পৌঁছতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাজাকার ও পাক হানাদারদের প্রচ- গুলির মুখে পড়ে। এলোপাতাড়ি গুলিতে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যে যার মতো ভারত সীমান্ত চিঙ্গিসপুরের দিকে রওনা দেয়। এ ঘটনায় সেখানে মারা যায় শাবরুল গ্রামের মুকুল চন্দ্র দেবনাথ (১৭), কাষ্টু চন্দ্র (২০), গৌড়চন্দ্র দেবনাথ (৪৫) ও তার দুই ভাই নিতাই চন্দ্র দেবনাথ (৫০), বিশেশ্বর চন্দ্র দেবনাথ (৪০), শিরিশ চন্দ্র (৪০), পুলিন চন্দ্র দেবনাথ (৬০), নরিনী চন্দ্র দেবনাথ (৬০), অমূল্য দেবনাথ (২৫), শরতলাল সাধু (৭০), বিনয় চন্দ্র সাহা (১৮), বেল্লো মঙ্গল দেবি (৩৫), নিভা রানী (১৫), নিবারণ চন্দ্র মালী (৫০), ব্রজেন্দ্রনাথ মালী (৪৫), ভবনী চন্দ্র দাস (৫০), বিশ্বনাথ দাস (১৮) এবং রংপুর কলেজ রোডের বাসিন্দা ও সে সময় শাবরুল বসবাসকারী স্বপন চক্রবর্তী ও তার দুই ভাইসহ ২২ জন। গুরুতর আহত হয়ে শাবরুল গ্রামের প্রহ্বলাদ সাহাসহ কয়েকজন বেঁচে আছেন এখনো। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষই নিম্নবিত্ত ছিল। বর্তমানেও তারা অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই জীবনযাপন করছে এবং তাদের দুস্বপ্নের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। এই গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র সাহা (৭০), হেম চন্দ্র দেবনাথ (৭৮), অভয় চন্দ্র সাহা (৭২) ও রামপদ মালী (৬৮) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্বাধীনতার এতো বছর পরও যুদ্ধে নিহত হওয়া তাদের পরিবার পরিজনদের সাহায্য সহযোগিতা তো দূরের কথা কেউ কখনো খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। নিহতদের স্মরণে তৈরি হয়নি কোনো স্মৃতিচিহ্ন। এসব বৃদ্ধ আরো জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তারা যখন সহায সম্বল হারিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তখন প্রায় শতাধিক গ্রামবাসী তাদের সংসদ সদস্য বগুড়ার চোপিনগরে এ কে এম মুজিবর রহমানের কাছে যান। কিন্তু সে সময় মুজিবর রহমান তাদের বিমুখ করেন এবং জানান, দেশের এই পরিস্থিতিতে তার করার কিছুই নেই। তবে সেদিন আগত গ্রামবাসীকে মুড়ি খাওয়ার জন্য তিনি ৫০০ টাকা দেন। এরপর অনেকের কাছেই যান তারা। যেমন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, তখনকার ডিসি, এসপিসহ সংসদ সদস্য, এমনকি রাষ্ট্রের কাছেও তারা সাহায্যের আবেদন করেন। কিন্তু কোনো সুফল অদ্যাবিধ তারা পাননি। তাদের প্রত্যাশা তারা সবাই প্রায় জন্ম থেকেই আর্থিক দৈন্যদশায় থেকে বর্তমানে বৃদ্ধকাল অতিবাহিত করছেন। মৃত্যুর আগে যদি তাদের হারানো স্বজনদের জন্যে সরকারিভাবে কিছু করা হতো তবে তারা মানসিকভাবে শান্তি পেতেন। এ ছাড়াও তাদের স্বজনদের হত্যাকারী পাক-হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোস রাজাকার আল-বদরসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি যদি তারা মৃত্যুর আগে দেখে যেতে পারতেন তবে তাদের সারা জীবনের দরিদ্রতার কষ্ট, স্বজন হারানোর কষ্ট অনেকাংশেই লাঘব হতো।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×