somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"একটা ছেলে, অপূর্ণ কিছু চাওয়া-পাওয়াঃ স্বপ্ন, কল্পনা ও বাস্তবতা"

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনের গভীরের কিছু কথা যা ভাবি একান্তই মনের খেয়াল খুশিতে -

জীবনটা যেমন অগোছালো চলছে,চলুক। তবে একজন আমার এই অগোছালো জীবনটাকে একটু গুছিয়ে দেবার ব্যার্থ প্রচেষ্টা চালাক। একটুখানি আপন করে নিক, একটু রাগ-অভিমান, শাসন-বারন করুক। আমার দৈনান্দিন জীবনটাকে পরিচালনা করার জন্য একটা পাগলীর সাথে পরিচয় হোক।

প্রতিদিন সকালে এলার্মের পরিবর্তে পাগলীর মুঠোফোনের শব্দে ঘুম ভাঙ্গুক। বিছানা থেকে না উঠে আবারো ঘুমিয়ে পড়ি। অবশেষে দুপুরবেলা ঘুম থেকে উঠে পাগলিটাকে বলি 'শুভ সকাল।' পাগলীটা রেগে গিয়ে বলুক, 'এতক্ষনে ঘুম ভাঙ্গলো আপনার? কাল থেকে আর সকালে ফোন দিয়ে বিরক্ত করবো না।'

ইচ্ছে করে বিকেলটা কাটুক পাগলীর সংস্পর্শে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও যেতে দিতে যখন মন চাইবে না, তখন পাগলিটাকে পিছু থেকে হাতটা টেনে ধরে বলি, 'আজ রাতটা আকাশ দেখেই পাড় করলে হয় না?'

গোধূলীলগ্নে নীড়ে ফেরার পথে পাগলিটা যখন কিছু রাস্তা গিয়ে ফিরে তাকাবে তখন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলি, 'প্রিয়তমা ভালোবাসি তোমায়।'

ইচ্ছে করে পাগলীটার মাথায় ঘুম পাড়িয়ে দেই। রাতভর জেগে থেকে ওর ঘুমানো দেখি। গভীর রাতে জেগে উঠে বলবে, 'এখনো ঘুমাওনি? রাত জাগতে ক্লান্ত লাগে না? এখন ঘুমিয়ে যাও বাবু।'

ইচ্ছা করে দমকা বাতাসে দু'জনে হাতে হাত রেখে চাঁদ আর মেঘের খেলা দেখি। আলো আধারের খেলায় সে বলুক, 'হাতটা একটু চেপে ধরো না আমার মিষ্টি হৃদয়?'

ভরা পূর্ণিমায় যখন পৃথিবীতে জোৎস্না তার বাধ ভেঙ্গে আলোর বান ডাকবে তখন সে বলুক, 'চলো না পাড়ি দেই ঐ জোৎস্নার দেশে?'

আমি চাই কেউ একজন থাকবে, যে নিজ হাতে কফি বানিয়ে এনে সকালের সোনা ঝড়া রোদে ভেজা চুলে সূর্যকে আড়াল করে অব্যর্থনা জানাবে 'শুভ সকাল প্রিয়তম'। আর আবদার করবে পুরোটা কফি খাবে না কিন্তু, আমার জন্য রেখে দিও একটু।

খুব ইচ্ছে করে কেউ একজন সারারাত মুঠোফোনে কথা বলে যাক, আর আমি তা নিঃশব্দে শুনি। তার কথা বলার প্রতিটি অভিক্ষেপ আমি শুনে তাকে অনুভব করি। আমার এই নীরবতায় সে রেগে গিয়ে বলুক, 'এই যে ঘুমিয়ে গেলেন বুঝি? নাকি কথা বলতে বিরক্ত লাগছে?' প্রতিউত্তুরে বলি, 'শুধু অনুভব করছিলাম তোমাকে। তোতা পাখিটা তোমাকে অনেক বেশী ভালোবাসি।'

আমি চাই কেউ একজন আমাকে বকা দিক, শাসন করতে গিয়ে প্রচন্ড রেগে যাক। অতঃপর রেগে গিয়ে কান্না করে ফেলুক। তখন তাকে বুকের সাথে চেপে ধরে তার চোখের মুক্তাদানাগুলি দিয়ে বুকটাকে ভিজিয়ে তুলি, যেন তার কাজলমাখা বর্ষা জলে সবটুকু জ্বালা নিভে যায়। আর ফিসফিস করে কানে কানে বলি, 'সারাজীবন তোমাকে এভাবেই কাদাতে চাই বেবী।' যেন বারবার বুকে টেনে নেবার সুযোগ হয়।

ইচ্ছে করে পাগলের মতো ভালোবাসি। বুকের মাঝে তাকে আগলে ধরে রেখে বাকিটা জীবন ভালোবাসার গল্প রচনা করে যাই। প্রতিনিয়ত জীবনের গল্পটাতে ভালোবাসার অধ্যয় সংযোজন করে যাই।

মুষলধারায় বৃষ্টি নামলে দু'জনে একসাথে বৃষ্টিস্নান করি। একসাথে বৃষ্টিতে দু'জন দু'জনার হাত ধরে খালি পায়ে মেঠো রাস্তায় কিংবা হাটু জল জমা ঘাসে খেলা করি।

আমি চাই কেউ আমার সাথে অধিকার দেখিয়ে বলুক, 'আমাকে রেশমী চুড়ি কিনে দিবা? কিংবা কিউট ডলটা অথবা কিছু রঙ্গিন বেলুন?'

কেউ একজনকে যদি পেতাম, যে শুধুই আমাকে ভালোবাসবে, আমাকেই অনুভব করবে, একান্ত আপন করে নিতে চাইবে, যে সঙ্গী হতে চাইবে আমার দীর্ঘ পথ চলার। রাস্তায় চলার পথে যে আমার কাধে মাথাটা চেপে, হাতের আঙ্গুলে আঙ্গুল রেখে মুঠি চেপে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে যাবে। হয়তো তখনও দু'জনের কানে থাকা দুটি হেডফোনে তখনো বেজে চলছে, "চলো আজ ভেসে যাই গোধূলীর ওপারে....."

কেউ একজন কি আছে, যার জন্য আজও অপেক্ষায় আছি, যে পিছনে থেকে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে..... ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।

ইচ্ছে করে তার কোমড়টা জড়িয়ে ধরে বলিঃ
চোখে চোখ রাখো,
আমি ও চোখে সমগ্র গ্রহানুপুন্জ্ঞ দেখতে চাই।
বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করো,
এর মধ্যেই ঘটুক আমাদের ভালোবাসার জ্যামিতিক পরিধি।
বুকটা শক্ত করে চেপে ধরো,
থামিয়ে দাও এ বুকের উত্তল ঢেউ।
আর কানের কাছে উষ্ম শ্বাস ছেড়ে বলি,
ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাস।।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×