somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু , জীবন তো এমনই...

০৩ রা অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোরেন্গে... গানটা বহুবার বহু বন্ধুর সাথে গলা মিলিয়ে গেয়েছি কতবার তার হিসাব নেই । তবে হিসাবে এটা এখন চোখে পরছে- গলা মিলানোর লোকের সংখা কমে আসছে দিন দিন।

অনার্স জীবন শেষ হল বেশ অনেক দিন। বছর দুই প্রায়।বন্ধু বান্ধব সবাই কেরিয়ার নিয়ে ব্যাস্ত- কেউ অহংকার নিয়ে কেউবা মনে একটা বড় দুঃখ নিয়ে। কেউবা আবার সদ্য ডাক্তারী রেজাল্টের পাসের খবর জানিয়ে এসএমএস ভদ্রতা দেখাতে সচেষ্ট...

কারোর-ই মনে হয় আর সেদিনের কথা খেয়াল নেই - আর সাথে সেই বয়স-ও নেই। কিন্তু জানি মনের মাঝে আচমকা ঝলকানি দিয়ে উঠে সেই ছোটবেলার হরতাল দিনে ক্লাস করতে যাবার আকুল চেস্টা- কারন হরতাল এর কারনে ক্লাস হবে না- হবে খেলা , পা ঝুলিয়ে নদীর ঘাটে বসে বড়দের মত করা, কাপা হাতে এডাল্ট..., দলবেধে 'ভাল কিন্তু ভাব' মারা ছাত্রকে 'সাইজ' করা, পরীক্ষায় কমন না পরলে স্যারকে দোষ দেয়া প্রাইভেট পড়িনাই দেখে এই হাল... এরকম কত শত।

এক বন্ধু একটু আগে ফোন দিল ,বিয়ে করতে যাচ্ছে। শহীদ জীবনে গেলে আর আমাদের খুজতে যাবে না জানি- এমন আফসোস করতে করতে আমরাও একদিন 'শহীদ' হয়ে যাব। আরেক বন্ধুর বিদেশ যাওয়া কনফার্ম। ব্যাস্ত বিদেশে যেয়ে ওটাকেই দেশ বানানোর জন্য। এরকম সংখা এখন অনেক। আর যারা ইনটারের পর গিয়েছিল তারা তো মাঝে মাঝে হঠাৎ করে দেশে উদয় হয়ে উদর তৃপ্তি করে বিল মেটাতে মেটাতে বলে মাত্র এই ক'টাকা। আমাদের বোঝানোর চেস্টা কত বেশি ডলার দিয়ে তারা কামাই করে আরো কত বেশি দিয়ে খাই খরচ মেটায়। দুঃখ লাগে একটাই জীবন শুধু টাকা আর দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে শেষ হয় যাচ্ছে।

চাকরী জীবনে আমার অনেক বড় পাওয়া আমার কলিগ রা। বন্ধু হিসেবে আমার অনেক কাছের হয়ে গেছে কজন। তার পর ও মাঝে মাঝে এদেরকেও হারাতে হয়। নতুন চাকরী আর আরও ভাল থাকার সংগ্রামে নিজেদের সমর্পন করে এগিয়ে যায় আরও উন্নতির পথে। যোগাযোগ টা হয় ফোনে। কাহাতক আর কথা হয়। একসাথের সেই অফিস এর পাশের চা দোকানের আড্ডা -র স্মৃতি মলিন থেকে মলিনতর হয়।

ফেসবুকের ফেস আর ভাল লাগে না, কারোর হতাশা ভরা মুখচিহ্ন( স্ট্যাটাস) আর কারোর নতুন পাওয়া খবরেই জানতে হয় কার কি অবস্থা । বাড়ির পাশের বন্ধুও এখন বলে বসে - কি বলিস রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস পাল্টছি- তুই দেখিস নি!!! সব কিছুতেই ডিজিটালের ছোয়া। যন্ত্র থেকে আরো যন্ত্র হয়ে যাচ্ছি , যেখানে আবেগ এর ঠাই নেই, আছে শুধু জীবনকে সফল বানাবার টুলস।

বান্দরবান ঘুরতে যেতে মন চাইল আমাদের দু-বন্ধুর। দুজনে যেয়ে মজা লাগবে না, তাই বাকিদের সথে যোগাযোগের চেস্টা। কারোর অফিস, কারোর বউ রাগ করবে, কারোর ইচ্ছা নেই.... ব্লা ব্লা...
সাথের বন্ধুটিকে জিগ্গেস করলাম, তাহলে যে ছোটবেলায় বাসা থেকে পালিয়ে মাঠে খেলতে দৌড়াতাম- সেই তাড়না কোথা থেকে আসত? বন্ধুটির জবাব, দোস্ত জীবন এমনই... পুরোন স্মৃতি ভেবে লাভ নেই।

____________________
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×