somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

#বুক_রিভিউ

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বইঃ একজন কমলালেবু
লেখকঃ শাহাদুজ্জামান
প্রকাশনীঃ প্রথমা

সালটা তখন ১৮৯৯, যখন একটা পুরোনো শতাব্দী ঘাট ছাড়ছে আর এগিয়ে আসছে নতুন এক শতাব্দী, বিংশ শতাব্দী..... তখুনি কুসুমকুমারী দাশ(মা) তাকে হাজির করলেন বিংশ শতাব্দীর তীব্র, তীক্ষ্ণ সব বিষয়ের মুখোমুখি করার জন্য।

মায়ের উৎসাহে কৌশোরে স্কুলের খাতায় ছেলেমানুষী ছড়া লিখলেও কবিতার আসল সিন্দবাদ জীবনানন্দের ভূত ঘাড়ে চেপেছে আরো পরে..... কুসুমকুমারীই হাঁস মায়ের মতো ঢেউয়ে ঢেউয়ে জীবনানন্দকে চিনিয়ে দিয়েছেন কবিতার হাঙর ভরা সমুদ্রের পথ। মায়ের উৎসাহে প্রথম কবিতা লেখা শুরু, তারপর দ্বিতীয় কবিতা লিখলেন দীর্ঘ ৬ বছর পর। কবিতা বিহীন এই দীর্ঘ সময়টায় কী ভাবছেন তিনি? তিনি কি এমন কোন আইকনোক্লাস্টের সন্ধান পেয়েছেন যা সম সাময়িক কবিদের চেনা ভূগোলের অনেকটা বাহিরে? তিনি যে এক নতুন সুর রিয়ালিস্টের সুচনা করবেন, তা কেউ বুঝতে পেরেছিলো?

জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের জগতে সবচেয়ে অবহেলিত কিন্তু সর্বাপেক্ষা প্রহেলিকাময় পুরুষ। অথচ এই পৃথিবীর বুকে আজন্মকাল প্রচন্ড অন্তর্মুখী এই মানুষটি পেয়েছেন শুধুই অবহেলা। জীবদ্দশায় দেখেছেন যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ; নিজের জীবনে দেখেছেন প্রেম-অপ্রেম; পেয়েছেন উপেক্ষা। অনিশ্চয়তাবোধে আক্রান্ত, অন্তর্মুখী, একাকীত্ব পীড়িত, দ্বন্দ্বদীর্ণ। প্রেম,সংসার এসব তো তাঁর হাত ফসকে গেছেই,চেয়ে চেয়ে দেখছেন যে সাহিত্যের জন্য সবকিছু বাজি ধরেছেন,সেই সাহিত্যের পৃথিবীতেও তার কোন স্থান নেই তখন। তাঁর সমসাময়িক লেখকদের পাচ্ছেন অবজ্ঞা, উপেক্ষা। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে তেমন কোন সাহিত্যিকের কাছেই যতসামান্য সম্মান পাননি।পুরো সাহিত্য জীবনে পেয়েছেন দু'চারজন শুভাকাঙ্খী এদের কেউ ছিলেন ততকালীন অখ্যাত কবি নতুবা স্রেফ পাঠক।
জীবদ্দশায় কখনোই পায় নি কোন বিশাল সম্মাননা কিংবা তার কবিতার যথাযথ মূল্যায়ন। তিনি যেন টের পেয়ে গেছেন তাঁর লেখার যথার্থ পাঠক পাবার জন্য তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক প্রজন্ম। তিনি যেন আঁদ্রে জিদের সাথে সুর মিলিয়ে নিজের কথাই বলতে চেয়েছেন "I don't write for the coming generation but for the following one" তার মনে হয়েছে জীবন ভর দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে জীবন যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন । একটা চাকরির খোঁজে ঘুরেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। বছরের পর বছর থেকেছেন বিনা চাকরিতে। তিনি যেন হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানা দিগন্ত চষে বেড়ানো ক্লান্ত এক পথিক,তিনি যেন দুদন্ড শান্তির তরে ঘুরে বেড়িয়েছেন সিংহল সমুদ্র হতে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে....

শেষ পর্যন্ত তিনি কী পেয়েছিলেন শান্তির দেখা?জীবনের অন্তিম সময়ে এসেও তাঁর মনে গভীরভাবে জেগে ছিলো শোভনা,শোভনা কি তখন ভেবেছিলেন তার প্রথম প্রেমিককে?তার মিলুদাকে?আচ্ছা লাবন্যেরই বা প্রত্যাশার কতটুকু পুরন করতে পেরেছেন? লাবন্যই বা তার স্বামীকে কতটুকু বুঝতে পেরেছিলেন?

লেখালেখিকে আঁকড়ে ধরে উচ্চাকাঙ্খী জীবনানন্দ বাচঁতে চেয়েছিলেন বার বার.....সেটা আরেকবার প্রমানিত হয় তার শেষ প্রয়ানের পর। মাল্যবান সহ গোটা বিশেক উপন্যাস,একশোর বেশি গল্প,পঞ্চাশটির ওপর প্রবন্ধ,চার হাজার পৃষ্ঠার ডায়েরি লুকিয়ে রেখেছেন তারঁ প্রহেলিকাময় কালো ট্রাঙ্কে।সাহিত্যাঙ্গনে মোটামুটি পরিচিতি পাবার পরও কেন এতগুলো গল্প,উপন্যাস জনসমক্ষে আনেন নি? তিনি কী কোন ক্ষোভ হতেই চেয়েছিলেন মৃত্যুর পরেই এগুলো আসুক জনসমক্ষে?

১৯৫৪ সালের অক্টোবর মাস.....ট্রাম এগিয়ে আসছে,সেই লোকও এগিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম লাইনের দিকে,ট্রামের ড্রাইভার জোড়ে জোড়ে ঘন্টা বাজালেন,চিৎকার করে ডাকলেন, তবু সে লোক উঠে গেলেন ট্রাম লাইনের ওপর;আটকে গেলেন ট্রামের ক্যাচারে......শূন্যে ভেসে রইলো অমিমাংসিত সেই জিজ্ঞাসা, জীবনানন্দের এই মৃত্যু তাহলে কী-
দুর্ঘটনা?
আত্মহত্যা? নাকি
হত্যাকান্ড?
জীবন যে একটা অভিযাত্রা,মানুষ যে বস্তুত একজন পথিক,মৃত্যু যে সেই প্রবহমান যাত্রারই একটা অংশ, সেটাই কি আবারো মনে করে দিতেই এ আয়োজন? নাকি শঙ্খচিল, শালিক অথবা বুনোহাঁস হয়ে জন্মনেবার বীজ রোপন?

#পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ শাহাদুজ্জামান একজন নিরীক্ষা ধর্মী লেখক,তাঁর প্রতিটে গল্প, উপন্যাসে তিনি নিয়ে যান নিত্য নতুন প্লটে অভিনব সব কৌশলে। ক্রাচের কর্নেল কিংবা একজন কমলালেবু যেন পাঠককে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো। "একজন কমলালেবু " জীবনানন্দের জীবন কথন নিয়ে রচিত উপন্যাস যেখানে তিনি আমাদেরকে নিয়ে গেছেন জীবনানন্দের একেবারে গভীর হতে গভীরে। উন্মোচন করেছেন নানা অজানাকে........
#Home_Quarantine #Stay_home #Stay_safe

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ২:৩০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনটা আস্তে আস্তে নায়ক 'জসিম'এর মত হয়ে যাচ্ছে!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:০০




আজ ইচ্ছা ছিলো অনেকবেলা পর্যন্ত ঘুমাবো
হলো না। উঠতে হলো ভোরে।
পোড়া কপাল আমার!
আমার সকালের নাস্তাতে বিষ মিশিয়ে দিবে কে?
আচ্ছা, কেউ কি বলতে পারবেন শীতকালে এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢিচক্যাঁও !

লিখেছেন spanked, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৭:৪৫

দাদু,
আপনি আজকাল বলেন,
ডাকাত দস্যু চোরে!
দেশ গেছে ভরে।

পাশ থেকে
চলে আসে বুলি,
ওস্তাদ!

দাদু,
দেখছেন !
এইটা তো!
( হা হা হা )
হ, ঐ ডাই!
আমগো ভাষায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে মানুষ, তুমি আসলে কে?

লিখেছেন নীল আকাশ, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৩৪



আজকাল অনেক'কেই দেখা যায় দম্ভ করে, সবাই'কে টাকা পয়সার গরম দেখিয়ে বলে বেড়ায় আমি অমুক বা তমুক ব্র্যান্ডের ছাড়া পোষাক পড়িই না। আমার একটা স্ট্যাটাস আছে না?
.
আচ্ছা এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গন্ডগোল করতে চাইলে গন্ডগোল নিজেই এসে উপস্হিত হয়?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:৫১



বয়স বাড়লে ঘনঘন ডাক্তারের কাছে যেতে হয়; বছর তিনেক আগে, এক সোমবার সকালে এক নতুন স্পেশালিষ্টের অফিসে যেতে হলো; রোগীদের বসার রুমে প্রবেশ করে দেখি সবগুলো বয়স্ক, হতাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি - কারো জানা / খোঁজে থাকলে দয়া করে তাদের ব্লগে হাজির করুন / হতে বলুন আর বর্ণচোরা (ভিন্ন নামে ) হয়ে থাকলে হাজিরা দেন প্লিচ :#( প্লিচ। আমরা আপনাদের সবাইকে মিচ করছি।

লিখেছেন মোহামমদ কামরুজজামান, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:৪২


ছবি - quora.com

গত কয়েকমাস যাবত ব্লগে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং সুলেখক তিন তিনজন ব্লগার অনুপস্থিত ।তারা হলেন ব্লগার -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×