কাঠফাটা রোদ্দুর।মাথার উপরে নীল আকাশ যেন অগ্নিবর্ষন করে যাচ্ছে বিরতিহীনভাবে।হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয়ে যখন আর পারছিলামনা তখন বেছে নিলাম গুলশান লেক পার্ক এর একটি ছায়াময় বেঞ্চ।যদিও ছায়াময় তবুও বাতাসের উত্তপ্ততায় ঘামে ভিজে যাচ্ছিলাম অনবরত।হঠাৎ চোখ পড়ল লেকের অপর পাশে।ছোট একটি ঝোপের মত গাছের নিচে।
যা দেখেছিলাম তা হয়ত এখন বাংলাদেশের পার্কগুলোর নৈ্মিত্তিক চিত্র।এক ছেলে এবং এক মেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে বসে আছে।বসে থাকতেই পারে।পার্ক তো বসে থাকারই যায়গা।কিন্তু একটু পরে তারা যা শুরু করল তা সমস্ত ভ্রমণকারীদের নিশ্চিতভাবেই বিব্রত করে দিয়েছিল।তাদের অদম্য বেহায়াপনা এবং রগঢ় যে কত দূরে পৌঁছিয়ে গিয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।মেয়েটির ঠোঁট, ঘাড়, বুক যেমন সে অশ্লীলতায় সম্মতি দিয়েছিল তেমনি নির্বাক প্রকৃ্তি এবং কিছু ভ্রমনকারী হয়েছিল বিব্রত।কিন্তু যাদেরকে নিয়ে সবাই বিব্রত তাদের কোন ভ্রুক্ষেপই ছিলনা, তাদের নিস্পৃহতা ছিল চোখে পড়ার মত।ছেলেটার তো ছিলনাই, ছিলনা মেয়েটিরও।অথচ লজ্জা কিন্তু নারীর ভূষন!
আমার কথা হচ্ছে, মানুষের জৈবিক চাহিদা এবং প্রবৃত্তি আছে এটা সত্য।কিন্তু সেটা কি এরকম জনপ্রকাশ্যে তার বহিঃপ্রকাশ দেখানোর দাবী রাখে? আমাদের দেশের সামাজিক এবং ধর্মীয় অণুশাসন কি এসব অনুমোদন করে?আমি যতদূর জানি সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুশাসন বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কই অনুমোদন করেনা।হতে পারে ঐ যুগল বিবাহিত ছিল।কিন্তু কোন বিবাহিত যুগলের তো পার্কে বসে দৈহিক ঘনিষ্ঠতার কথা না (যদিও এটাও চূড়ান্ত ঘনিষ্ঠতা ছিলনা, কিন্তু শুধু ওটুকুই বাকি ছিল)।তাহলে কারন টা কি?ছেলে মেয়ে দুটা নিশ্চিতভাবেই ছাত্র- ছাত্রী।খুব সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের।তাহলে এটা কি পাশ্চাত্য এবং অধুনা ভারতে প্রচলিত (কিছুটা) ওপেন সেক্স এর নমুনা?বাংলাদেশ কি সেই অবস্থায় যাচ্ছে? প্রগতির পথে অগ্রসরের গ্রাফই কি এটা?
জাতি হিসেবে আমাদের একটা খারাপ অভ্যাস আছে।আমরা কোন জাতির ভালো কিছু গ্রহন না করে খারাপটাই করি।এটা ব্রিটিশ আমল থেকেই পরীক্ষিত সত্য।কিন্তু এটা হওয়া উচিৎ না।আমরা পাশ্চাত্য ধারা অনুসরন করতে গেলে ওদের উন্নয়নের চেষ্টা এবং ওদের পরিশ্রমী মনোভাব অনুসরন করতে পারি।কিন্তু আমাদের সমাজের চোখে অগ্রহণযোগ্য এবং ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু করা কি আমাদের উচিত? বোধ হয় না।
একটা কথা আগেও বলেছি, যে মানুষের জৈবিক চাহিদা এবং প্রবৃত্তি রয়েছে।কিন্তু সেটা নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা আছে বলেই তো আমরা মানুষ।সৃষ্টির সেরা জীব।নাহলে পশু এবং আমাদের তফাৎ কোথায়?আমরা যে সমাজে বাস করি তার বিধিবিধান মেনে চলে সেরকম আচরন করা আমাদের সবার কর্তব্য।বানরের মত বিদেশি আচরন অনুকরণ কাম্য নয়।বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে তো নয়ই।
ঐ দৃশ্যটি চোখে পড়ার পর খুব খারাপ লেগেছিল।সামাজিক অবক্ষয় যে কতদূর চলে গেছে ভাবতেই আমার গাঁয়ে কাঁটা দিয়েছিল।তখন মনে হয়েছিল অন্ধ হলে বোধহয় এই অসহ্য গরমের মধ্যে বসেও পঁচা সমাজের এই নিদর্শনটা দেখা লাগত না। লেকের পানির দূ্র্গন্ধের চেয়েও সমাজের পঁচা ঐ অংশটার দূর্গন্ধ আমার কাছে অসহ্য মনে হচ্ছিল।আমার বমি আসছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


