এলোমেলো ভাবনা - ২
০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। আমি তখন ঢাকায় থাকি। এক আত্নীয়ের বিয়ের দাওয়া খেতে গিয়ে এক ঘটনা ঘটে। সেটাও দীর্ঘদিন আমাকে ভাবিয়েছে। বিয়ে বাড়ীতে বেশ বড় আয়োজন। প্রচুর মানুষ খাচ্ছে। হঠাৎ হৈচৈ শুরু হয়ে গেল। হৈ চৈ এর কেন্দ্রবিন্দুতে দেখি একটা টেবিলে কিছু লোক গোগ্রাসে খাচ্ছে আর অন্যরা ভিড় করে দাড়িয়ে কথা বলছে। জানা গেল গোটা টেবিলে যে আটজন বসে খাচ্ছে তারা সবাই ুফাওচ্ - মানে এরা না কনে পক্ষ না বর পক্ষ। উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো এসে বেশ আরাম করে খাচ্ছে এবং একজন বুদ্ধিমান মানুষ এটা ধরে ফেলেছে। জানাগেল এরা স্বীকারও করেছে যে এরা ফাও। এর মধ্যে মধ্যবয়সী থেকে ছোকরা বয়সেরও মানুষ আছে। আলোচনা হচ্ছে - এদের কি করা হবে, কেহ বলছে আচ্ছা মতো পিটুনি দেওয়া হোক, কেহ বলছে পুলিশে দেওয়া হোক ইত্যাদি। কিন্তু যাদের নিয়ে আলাপ হচ্ছে তারা নির্বিকার ভাবে খাচ্ছে। হঠাত তাদের মধ্যে একজন বেশ সুন্দর করে বললো - ভাই, একবাটি রেজালা নিয়ে আসতে বলেন তো। শুনে সবাই অবাক, বলে কি এরা। বরপক্ষের থেকে একজন বয়ষ্ক মানুষ এগিয়ে এগিয়ে এসে বললো - এদের রেজালা দাও আর কেহ কিছু বলবে না। এই তোমরা খাওয়ার পর সোজা হেটে চলে যাবে। আমি আবার অবাক হলাম। কি ধরনের মানসিক শক্তি দরকার এই অবস্থায় রেজালার জন্যে বলাটা। ওদের খাবার দৃশ্য আর চাহনী দীর্ঘদিন আমাকে ভুগিয়েছে। ভেবেছি মানুষের পক্ষেই এটা সম্ভব।
দীর্ঘদিন পর আবার সেই দৃশ্যটা মনে হলো। দেখলাম একজন কর কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহন কালে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। যখন টিভির সামনে তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো - সে তখন সরাসরি ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে বললো সে ঋণ হিসাবে টাকাগুলো নিয়েছে। চমৎকার তার প্রচেষ্টা। কঠিন বুকের পাটা। অপরাধ করতে করতে এখন সবাইকে বোকা ভেবেছে এতোদিন। এটাই হলো নিয়ম যারা অপরাধ করে - যারা দূর্নীতি করে তারা সাময়িক সময়ের জন্যে হলেও আত্নতৃপ্তিতো ভোগে। ভাবে আমি কত বুদ্ধিমান আর বাকী লোকগুলো কত বোকা। এটা যে শুধু অপরাধীই ভাবে তা না - পুরো সমাজ ব্যবস্থা তেমনটাই ভাবতে শুরু করেছিল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
লিখেছেন
জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০
মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।
—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?
—কেন?
—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।
রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,...
...বাকিটুকু পড়ুন
- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫

ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা...
...বাকিটুকু পড়ুন