somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ কিছু একটার উপলব্ধি হলো....

২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফার্মগেট গিয়ে নামলাম বাস থেকে।
দাড়িয়ে আছি সেযান পয়েন্ট এর সামনে।রাসেলের জন্য অপেক্ষা করছি।
রাসেল সমসময়ই দেরি করে সব কাজে। মাঝে মাঝে এতোরাগ উঠে ইচ্ছে করে বন্ধুত্ব শেষ করে দেই এই ঢিলা কোম্পানিটার সাথে কিন্তু কি করার ছোটবেলার বন্ধু বলে কথা।
৩০ মিনিট হয়ে গিয়েছে এখনো আসছে না।মাথা পুরো গরম। এমন সময় দেখলাম রাস্তার ওপারেই এক রিকশাচালক এবং একজন ভদ্র লোক তর্কাতর্কিতে মেতে উঠেছেন।ভদ্র লোকটির পোশাক-আশাকে উচ্চপদস্থ কোনও কর্মকর্তা মনে হলো।
তর্কাতর্কিটা রীতিমতো মারামারির কাছাকাছি চলে গিয়েছে,আমিও উনাদের দিকে লক্ষ্য করে বুঝার চেষ্টা করছিলাম যে কি নিয়ে এতো রাগান্বিত ভদ্রলোকটি।কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
এদিকে এতক্ষনে অনেক মানুষ জড় হয়ে গিয়েছে।
প্রায় সবাই রিকশাচালকটিকেই দোষারোপ করছে,রিকশাচালকটি চলে গেলো মাথানিচু করে কিছু একটা বলতে বলতে।
ভিড়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসা একলোক এর কাছে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম,ভদ্রলোকটি মোহাম্মদপুর কৃষিমার্কেট এর কাছ থেকে রিকশাটিতে উঠেছেন এবং ফার্মগেট এসে নেমেছেন। রিকশাচালক স্বাভাবিক ভাড়া থেকে নাকি ১০ টাকা বেশী চেয়েছেন এই নিয়ে এতো হট্টগোল।
আমি এসব শুনতে শুনতে রাসেল এর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। এমন সময় রাসেল পিছন থেকে দেকে উঠলো।
প্রতিবার এর মতো একটু ঝারলাম ঢিলাটাকে তারপর রাস্তার অপারে গিয়ে বাসে উঠলাম গন্তব্য বসুন্ধরা মার্কেট।
১০ মিনিটএর মতো লাগলো ওখানে এসে আরও ৪ টা বন্ধুকে খুজতে লাগলাম।৩ টাকে পেলাম আর একটা নাকি আসতে পারবে না,কোথায় যেনো কি কাজ আছে তাই।
তো সবাই ঘুরছি,আসলে কিনাকাটার জন্য আসিনি। আড্ডা দেওয়ার জন্যই আসা।
তবুও ঘুরছি আর দেখছি। একেকটা জিনিস এর দাম ভালই নিচ্ছে দোকানদাররা। প্রায় প্রতিটি জিনিসের মূল্যই নির্ধারিত এবং একদাম।
মানুষ আসছে যাচ্ছে। মানুষের যেন কিনাকাটার শেষই নেই।
সন্ধ্যার কিছুক্ষন আগে আমি বিদায় নিয়ে বেরোলাম কারণ আমার কিছু কাজ ছিলো তাই ইচ্ছে থাকলেও বেরোতে হলো।
কিন্তু বেরিয়ে রাস্তায় অনেকটা সময় দাড়িয়ে থাকার পর ও কোনও বাসের সন্ধান পেলাম। যাও দুই একটা আসছে কিনতু পা রাখারও জায়গা নেই।
হাটা শুরু করলাম।
হাটতে হাটতে প্রায় শাহবাগ পর্যন্তই চলে আসলাম।এমন সময় বিআরটিসি এর দোতলা বাস যাচ্ছিলো। কিছুটা দৌড়িয়েই ধরতে হলো বাসটি। বাসটি অনেকটা ফাকা ছিলো। তবুও উপরে উঠলাম মানে দোতলাতে উঠলাম এবং একটি সিটে বসে পড়লাম। বন্ধুদের সাথে অনেকদিনপর আড্ডা দিলাম তাই কিছুটা সৃতিচারণ করছিলাম,আজকের দুষ্টমি গুলোও ভেসে উঠছিল চোখের সামনে।
সারাদিন কি কি করলাম সবই মনে মনে ভাবছিলাম।
রিকশাচালক এর ঘটনাটা মনে পরতেই আরও একটি কথা মনে হলো।
আচ্ছা আমরা ভালো ভালো অত্যাধুনিক মার্কেটে গিয়ে কতো দামি দামি জিনিস অহরহ কিনছি।একদাম দেওয়া থাকে তবুও কিনছি। একই জিনিস নিউমার্কেট অথবা ছোট ছোট মার্কেটে প্রায় অর্ধেক মূল্যতে পেতে পারি এটা জেনেও আমরা কিনছি। ভালো কথা।
কিন্তু রিকশাচালক অথবা বাস এর হেলপাররা ৫/১০ টাকা বেশী চাইলে আমরা এমন জানোয়ারের মতো কেনো করি???????ওরা তো সবসময় চায় না,আর যদি সবসময় চায়ও তবুও ওরা তো অন্যায় কিছু করেনি,আমরা কি আমাদের অফিসের মালিক এর কাছে বেতন বৃদ্ধির জন্য আবেদন করিনা?আমরা কি প্রমোশন এর জন্য আশা করে থাকি না??
তাহলে ওরা কাদের কাছে আশা করবে।ওদের জন্য তো আমরাই আছি তাই না!! ওদের যদি আমরা সাহায্য সহযোগিতা না করি তবে কে করবে!! ??

এইটুক ওয়াদা করছি আজ থেকে নিজের জতুটুক আছে তা দিয়েই মানুষকে সহযোগিতা করবো।মানুষের কষ্টটাকে নিজের করে বুঝার চেষ্টা করবো।কোনো মানুষকে ছোট চোখে দেখবো না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৩৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অশনি সংকেত

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০


কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ অপ্রতিম নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি জঙ্গল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০১



এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়—সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের একটি সময়, কিছু মানুষ, কিছু অভ্যাস আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×