somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিফট

২৪ শে মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথম পর্বঃ লিফট ভূতের পাল্লায় মাগুর! :P

২০০৪ সাল, তখন ঢাকায় নতুন আমি। যা দেখি তাতেই অবাক হই! এক বিকেলে ডাক পড়লো লালমাটিয়ায় নিয়ামুল স্যারের বাসায়। অনেক কষ্টে ঠিকানা খুঁজে বের করে যখন বিশাল এক বিল্ডিঙের গেটে নক করলাম তখন দারওয়ান নাম-ঠিকানা লিখে বলল সোজা গেলেই লিফট পাবেন। আমি ভদ্র ছেলের মতো লিফটে উঠলাম, সাথে এক আঙ্কেলও উঠলো। আঙ্কেল নিজেই বাটন চাপ দিয়ে জিজ্ঞেস করলো আমি কোন ফ্লোরে যাবো। এরপর আমি 4th ফ্লোরে নেমে স্যারের বাসায় নেমে গেলাম। তখন পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল কিন্তু সমস্যা হল স্যারের বাসায় কাজ শেষ হওয়ার পর! যখন আবার নিচে নামবো দেখি লিফট ফাঁকা, আমি একলা! এখন এই লিফট ক্যাম্নে নামে নিচে! শেষে অনেক বুদ্ধি করে বের করলাম সব নিচেরটা চাপ দিই তাহলেই হবে! যেমন ভাবা তেমন কাজ, নিচের বাটন চাপ দিয়ে বসে আছি! কিছুক্ষণ পর লিফটের দরজা খুললো আর আমি অবাক হয়ে দেখলাম অন্ধকার আর অন্ধকার! দূরে আবছা আলো!

ঘটনা কি! যখন উপরে যাই তখন এই জায়গাটা আলো ছিল, সামনে দারওয়ান ছিল, গেট ছিল, রাস্তা দেখা যাচ্ছিলো! সব কৈ গেল! ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আবার লিফটে ঢুকলাম, উপরের দিকের একটা বাটন ইচ্ছা মতো টিপলাম! মৃদু কেঁপে লিফট আবার উপরে উঠে গেল! দরজা খুললো, আবার টিপ দিলাম সব নিচের বাটনে! মহা আগ্রহ এবং ভীতি নিয়ে অপেক্ষা করছি দরজা খুলে কি দেখবো সেটা নিয়ে! কিন্তু আগের মতোই হতাশ হলাম অন্ধকার দেখে! সাথে বেশ ভয়ও পেলাম যে শেষে লিফট ভুতের পাল্লায় পড়লাম! হঠাৎ লিফটটা আবার দুলে উঠলো, গেট বন্ধ হয়ে উপরে ওঠা শুরু করলো! আমিও ভেতরে অনড় হয়ে অপেক্ষা করছি, কিন্তু এবার লিফট থামলো 6th ফ্লোরে, দেখি আবার সেই আঙ্কেল! আঙ্কেলকে দেখে খুসিতে আমার ৩২টা দাঁত বের হয়ে পড়লো! অবশেষে আঙ্কেলের সাথে আবার সেই আগের মেইনগেটে নেমে আসলাম! :D

পরে বুঝেছিলাম আঙ্কেল চাপ দিয়েছিল GF এ আর আমি চাপ দিয়েছিলাম BF এ, যার ফলে অন্ধকার বেজমেন্টে চলে গেছিলাম! :P
*GF: Ground Floor, B: Basement.

দ্বিতীয় পর্বঃ লিফটোলাইকা, দ্য গড অফ লিফট! ;)
কারওয়ান বাজারের "ওয়াসা" ভবনে যে লিফট গুলা আছে সেগুলাতে যে চড়েছে সে জানে কি জিনিস! তো একবার ২০১০ সালে অফিসের কাজে গেলাম ওয়াসা ভবন। ততদিনে লিফটের ভয় কেটে গেছে! কাজ শেষে যখন নামবো তখন দেখি লিফটের ভেতর আগে থেকেই ওয়াসার একটা প্রজেক্টের আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার দাঁড়িয়ে আছে। যথারীতি লিফট নিচে নামা শুরু করলো, কিন্তু ৫ তলা আর ৬ তলার মাঝামাঝি এসে লিফট ক্যাঁচকোঁচ শব্দ করে আঁটকে গেলো! আমি নির্বিকার ভাবে পকেট থেকে N73 বের করে ফ্ল্যাশের আলো জ্বালালাম। আমেরিকানটা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল,
- What the fuck! :-*
- This is Bangla fuck! /:)
- What? :-/
- I mean Bangla Fact! :P
- Oh my god! /:)
- গডরে ডাইকা লাভ নাই! পারলে লিফটম্যানরে ডাকো! ;)
- What are you saying? :-*
- Nothing, just keep cool! Everything will be ok! :)
- But when? :((
- I don't know! It Depends on Liftolaika! :-0
- What is Liftolaika! :-*
- He is the god of lift! :)
- What? You have a god for lift? :-/
- Yup, we've. So? Lets pray...and just say..."Save me liftolaika, save me liftolaika!" B-)

তারপর বিড়বিড় করে নিজেই বলতে থাকলাম, "সেইভ মি লিফটোলাইকা, সেইভ মি লিফটোলাইকা!" আমার দেখাদেখি আমেরিকানটাও বিড়বিড় করা শুরু করলো, "সেইভ মি লিফটোলাইকা!" কিছুক্ষণের মধ্যেই লিফট আবার নিচে নামা শুরু করলো! গ্রাউণ্ড ফ্লোরে নামার পর আমেরিকানটা মুখে ঝলমলে হাসি নিয়ে বলল, "Say thanks to your god Liftolaika, he is great!" :D

তৃতীয় পর্বঃ লিফটে টাইম ট্রাভেল! :P
লিফট নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার গল্প তো শুনালাম, এবার বলি কিছুদিন আগের কথা। বাল্যবন্ধু Sohail এর বোনের বিয়ে, স্থানঃ Bird's Eye Roof Top Restaurant and Convention Hall. বাল্যকালের বেশ কয়েক জন বন্ধু মিলে একসাথে সেদিন অনেক মজা হয়েছিল। এর মধ্যে আমি মাঝহারুলকে বললাম, চল নিচে যাই! ;) তারপর দুজন মিলে টপ ফ্লোর থেকে লিফটে উঠলাম। লিফটে শুধু আমরা দুজনই, দরজা বন্ধ হয়ে গেলো একটু পর। আমি আর মাঝহারুল সমানে গল্প করে যাচ্ছি। ওর সাথে প্রায় ৫ বছর পর দেখা! ওরও একটা মেয়ে আছে, বড় হয়ে গেছে! পুরানো দিনের গল্পে দুই বন্ধু একেবারে হারিয়ে গেছি! অনেকক্ষণ পর খেয়াল করলাম লিফটের গেট খুললো। সামনে দাঁড়িয়ে একদল মানুষ, ভেতরে ঢোকার জন্য উদগ্রীব সবাই! আমরা নেমে দাঁড়ালাম।

কিন্তু একি! :-* এতো সেই টপ ফ্লোর! :-/ আর লিফটটা চোখের সামনে দিয়ে নিচে নামতে লাগলো! :| মানে আমরা লিফটে ঢুকে গল্প জুড়ে দিয়েছি! GF এ চাপ দিতেই ভুলে গেছি! :P দুই বন্ধু গলা ফাটিয়ে হেসে উঠলাম! :D আশেপাশের মানুষ অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকাতে লাগলো, "কি অসভ্য রে! লিফট থেকে নেমে কেউ এমন হাসি দেয়!" X((

[মাগুরের] ফেসবুক ওয়াল থেকে।
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×