somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যতই পড়িবে ততই মরিবে!

০১ লা এপ্রিল, ২০১৬ ভোর ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জিলা স্কুলে যখন অধ্যায়নে ব্রত হইয়া নিজের কৈশোরের তক্তা ছুটাইতেছিলাম, তখন আমাদের ক্লাসের সজারূ শামীম সমানে স্কুলের আশেপাশের এলাকায় ছড়ি ঘুরাইয়া নিজের নামের প্রসার ঘটাইতেছিলো। তাহাকে দেখিয়া আমরা বাকী সব নধর চল্টু পল্টু পুলাপান বলিতাম,"বুঝবেনে, যখন ম্যাট্রিক ফেল কইরা কাম কাইজ পাইবো না, তখন বুঝবে নে!" প্রতিটা পরীক্ষায় বিচক্ষনতার সহিত প্রতি বিষয়ে ৩৩ পাইতে পাইতে কেমনে জানি ব্যাটা সজারু পাশ করিয়া যাইতো। আর এদিকে ক্লাশের প্রতিটা বইয়ের আকাশ পাতাল উদ্ধার করিয়া পরীক্ষার হলে কাগজ লইয়া পরীক্ষকগনকে বইয়ের চেয়েও মোটা পরীক্ষার খাতা দিয়াও কপাল চাপড়াইতাম। ক্লাশ নাইনে উঠিয়া তো দেখিলাম সজারু কি ফর্মে! স্কুলের বাউন্ডারীর বাইরে পোলাপান খাড়ায় থাকে, এলাকার বাউন্ডারীর বাইরে পুলিশ। ফরিদপুরের এই কুনা থিকা পদ্মার ইলিশের দুই কুনা পর্যন্ত তাহার একটা খ্যাতি ছড়াইয়া গেলো।

আমরা সফলতার সাথে বিফলতা মিক্সড করিয়া উচ্চ শিক্ষার্থে যখন ঢাকা গমন করিলাম তখন ব্যাটা গমন করিলো ইটালি। তাহার বছর খানিক পর বিফলতার সহিত এক টুকরা কুফলতা আর সাথে এক চিমটি সফলতা লইয়া ভার্সিটির চৌহদ্দীতে গর্বে গর্ববতী, ইয়ে মানে, হইয়া পদযুগল ফেলিলাম তখন শুনি সজারু ব্যাটা ইটালীর কুন বীচে একখান রেস্টুরেন্ট খুলিয়া বসে। শুনিয়া মনখানা কিন্ঞ্চিৎ উদাস হইতো কারন পড়াশোনার চাপে পিস্ট হইয়া যখন চোক্ষে আন্ধার দেখি যৌবনে, তখন সজারু ব্যাটা রেস্টুরেন্ট খুলিয়া দেশে জায়গা জমি কিনিতে শুরু করিয়াছে, তাও আবার ইউরোপের বীচে। তবু মনে ছিলো আঁশ, ব্যাটা একদিন খাইবে বাশ। যখন ভার্সিটির চৌহদ্দি পার করিয়া চাকুরী জগতে নাম লিখিবার জন্য জুতার তলানীর নাম ফাটাইতেছি তখন শুনি তার দুইখানা রেস্টুরেন্ট দিয়া পুরা ইটালী দখল করি ফেলছে। তবু মনে আশা, শালা আমি ইন্জ্ঞিনিয়ার, আর তুই সজারু ব্যাটা কুন খানকার!

উহার কিয়দদিনের মধ্যে চাকুরীতে ঢুকিবার পর বুশ বাবাজীর অশেষ দোয়ায় ইউরোপ আম্রিকার অর্থনীতির ডায়রিয়া লাগিয়া ইটালী ফকীর হইয়া গেলো। তার কিছু আগে ব্যাটা সজারু রেস্টুরেন্ট সব বেচিয়া বাংলাদেশ আসিয়া কন্টাক্টারী শুরু করিলো। আমার মাথায় যত চুল, তাহার নাকি তত কাজ। আর কন্টাক্টারীর কাম মানে টাকা। যখন ফখরু আসিয়া টাইট দিলো পুরা দেশ, মনে আবার আশা দেখা গেলো, ব্যাটা এইবার বুঝি জেলে গিয়া নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিবো। নিশ্চিন্তে যখন খালেদা হাসিনা জেলে যায়, একদিন শুনি ব্যাটা স্বপরিবারে আমেরিকা চলিয়া যায়। কিসের জেল, কিসের প্রায়শ্চিত্ত!

তখন থিকা আমি সিদ্ধান্ত লইলাম নিজের সন্তানকে আর যাই হোক পড়ালেখা করাইবো না, ডাক্তার ইন্জ্ঞিনিয়ার তো বহু দূর কি বাত! সন্তানদিগকে বলিবো,"বাবা, তুমি সজারু শামীম হও!"

কালে কালে বেলা যায়, কুমার নদীর পানি শুকায়। কিন্তু তার ওপর করিমচাচা নৌকা নিয়া সমানে নদী পার করে। তো চাকুরীর ফাঁকে ফাঁকে গ্রামীন ফুনের গেন্জ্ঞি পড়িয়া ফুটাংগিরী মারিবার জন্য ফরিদপুর গেলে তার নৌকায় চড়া হইতো। তো নৌকায় চড়িতে একদিন এক বাল্যবন্ধুর সাথে দেখা হইলো, তাহার নামও ফখরু। তো নৌকার মাঝি করিমচাচার সাথে আমার রিলেশন ভালো না, ফেসবুকের ব্লক টাইপ কাহিনী। কেননা প্রথমদিন তাহার নৌকায় চড়িতে গিয়া নিখিল বাংলার তার ছারা বেতার দিয়া একখান ডায়লগ মারিয়াছিলাম,"চাচা, নদীর পানি শুকাইয়া তলানী দেখা যায়, কিন্তু আপনের নৌকা চলে সমানে! একখান সাঁকো বানান। এক প্যাকেট বাদামতো শেষ করতে পারুম!অখন তো বাদামের পোটলা খুলনের আগেই নদী শেষ!" চাচা হেই যে মাইন্ড খাইছে।

তো ফখরুকে লইয়া নৌকায় উঠিয়া আমার ট্যান্ডিস্টার শুরু করনের আগে ওর স্টার্ট,"দুস্ত, বয়স তো হইলো। বিয়া করন দরকার! কিন্তু মাইয়া দিবো কেডা? চাকুরী তো নাই।
: চাকুরী লাগবো?
: ধুর হালা! চাকুরী করে তোর মতো পাগলে। মাথায় একখান ভালা বুদ্ধি আইছে!

এইডা কইয়াই কথা বন। তখন আমি তার ছাড়া বেতারের মতো ওরে বাজাইনা শুরু করলাম,"দুস্ত! বুদ্ধিটা কও শুনি!"

তো মেলা দোওয়াইতে দোওয়াইতে, নৌকা ভাড়ার সাথে মান্নানের এক প্লেট চটপটি, এক প্যাকেট সিগারেট, আরেকটা কোকের বিনিময়ে জানবার পারলাম বিয়ার জন্য যথোপযুক্ত উপায় হইলো গীটার কিনা!
ওর বুদ্ধি আবার মাথায় ঢুকোনের আগেই দেখি গীটার কিন্যা টুংটাং শুরু করছে। শুনলাম একদিন নাকি ওর বাপ এই দামড়া বয়সে পিডা দিছে। কাহিনী জানতে কাম রাইখা ফরিদপুর গিয়া শুনি তাহাদের নিম্নলিখিত বাক্য আদান প্রদান:
: গীটার কনছোস কেন? জবাব দে।
: (জবাব নাই) টুং টাং
: তোর আজকা থিকা খাওনা বন্ধ।
: (জবাব নাই) টুং টাং
: কিরে হারাম জাদা কথা কস না কেন? ঐ টুলুর মাইয়া আর রহমতের মাইয়ার লগে কি হইছে?
: কিছু হয় নাই। গান শিখতে চায়।
: হারামী! গান তোর ******* ঢুকামু। ওগো বাপ আমারে কথা শুনাইবো কেন? তুই কি করছোস যে টুলুর মাইয়ার হাসপাতাল যাইতে হয়?

এরপর নাকি চুলার গরম চলা লইয়া তাহাকে ইয়া দাবড়ি। উল্লেখ্য টুলু আংকেলের কন্যা আর রহমত আংকেলের কন্যা দুইটারে ছোটবেলা থিকাই চিনতাম। এলাকায় যাইয়া যখন তাহাদের এক ঝলক দেখিলাম তখন মনে হইলো গ্রামীন ফুনের চাকুরী রাইখা.....

কথা হইলো গীটারের এমুন কি জাদু যে শিখনের আগেই দুইটা। এর ছয় মাস পর শুনি ফখরু নাকি বিয়া করবো। মন বড় খুশীই হইলো। গেছে ফাইস্যা! আল্লাই জানে কুন জায়গায় বিয়া করতাছে বেচারা। এলাকায় গিয়া দেখি ফরিদপুরের বিশাল কম্যুনিটি সেন্টার ভাড়া, কন্যা নাকি ধানমন্ডির কুন শিল্পপতির মাইয়া। আমার লগে অপরাপর বন্ধু যারা কইতাম "কাম কাইজ নাই আবার বিয়া" তাহারা ওর বিয়া খাইতে গিয়া একত্রিত হইয়া আর মাথার চুল আচড়াইয়া প্রতিজ্ঞা করিলাম," ইহাই প্রমানিতঃ শিক্ষাই যত অনর্থের মূল!"

আমি ঢাকা আসনের পর আমাগো ব্যাচেলর গ্রুপের বাকীরা কেউ কিনলো তবলা-হারমোনিয়াম, কেউ কিনলো ঢোল (মানে যাগো বাজেট কম) কেউ হোন্ডা বেইচ্চা কিনলো ড্রাম! এলাকায় ডাইল রাইকা সাংস্কৃতির আবহাওয়া বিরাজ করা শুরু করলো। ফলাফল নগদে ৬ মাস পর সেমুন একেকটা বিয়া, তয় হালারা বিয়াতে দাওয়াত দেয় নাই! ফাউল পুলাপান সব!

তারপর কালে কালে বেলা গেলো ফখরু সরকার আইসা পুরা দেশে তাবাঈ কইরা ফেললো। বড় বড় আন্দোলনের মা জননী নেতা নেত্রীরা জেলে যায় আবার বাইর হয়।সরকার চেন্জ্ঞ হইলে মনে হইলো দেশে আর রিজিক নাই। তখন চাকুরী ক্ষেত্রে আরেকবন্ধুর পাল্লায় পড়িয়া বোটানীক্যাল গার্ডেন গিয়া বালির ওপর আকাআকি করিয়া পরিকল্পনা করিলাম ভিওআইপি করুম। তখন ভিওআইপি বৈধ হইলেও লাইসেন্স ছাড়া অবৈধ আছিলো আর ঐডাতেই লাভ বেশী আছিলো যার জন্য একটা ব্যাক আপ দরকার খালি। কিন্তু আমাগো নাই কোনো ব্যাক আপ। এখন ব্যাক আপ খুজা শুরু করলাম। মেলা লোকের হাতে পাও ধরলাম, তখন লীগ সরকারের নীতির কথা শুনলে আমার মুখ হা হইয়া মাছি ঢুইকা যাইতো। এমুন সময় এক এপিএসের লগে দেখা হইলো। অফিস শেষ কইরা তিন ঘন্টা জ্যামে বইসা এমপি হোস্টেল গিয়া আরো ২ ঘন্টা আলগা প্যাচাল স হ্য করতাম ডেইলি। এমপির দেখা পাইলাম কিন্তু কথা হইলো না। কারন উনি নাকি ব্যাস্ত আছেন বোতলে। তবে হাত নাইড়া কইলো পরের সপ্তাহে কাজ নাকি হইবে।

বড় আশা নিয়া পরের সপ্তাহ কখন আসিবে তাই লইয়া রাত দিন স্বপ্ন দেখিয়া গুলশান বনানীতে দুই চারটা বাড়ী আর ১০-১২ টা গাড়ী আর ১৫-২০ টা বৌ (এইটা মনে হয় বেশী কইয়ালাইছি) বানালাইছি। তো একদিন টিভি খুলিয়া দেখি আমাগো এমপি খাড়াইছে বক্তব্য দেওনের লিগা সংসদে টলতে টলতে:

: মাননীয় টয়লেট, আমার অমুক আসনের তমুক ওয়ার্ডে কোনো পাকা স্পীকার নাই। তো এখন আমি কোথায় পায়খানা করিবো?

খেয়াল কইরা দেখলাম বক্তব্য দেওনের পর সংসদে ফাইল চাপড়া চাপড়ি শুরু হইলো। ব্যাটা ১ সপ্তাহের শোকজ খাইলো। শোকজ খাইয়া বাইর হইতেই সাংবাদিকরা ধরছে। এমুন সময় এক ঐতিহাসিক ডায়লগ দেয়,"সাহস কত আমারে সাসপেন্ড করে (আশেপাশে কে যেনো বলতেছে "স্যার, সাসপেন্ড না শোকজ"), ঐ, এই সংসদের দাম কত? আমার চেক বইটা কই?"

সেইদিনই আমি আর আমার বন্ধু মনস্থির করিলাম, মেলা ব্যাবসা হইছে, এই মরার দেশেই থাকতাম না! জীবনে একখান জিনিসই বড় ভুল কইরালাইছি। সেইটা হইলো শিক্ষা গ্রহন করিয়া! শিক্ষা অর্জন না করিয়া যদি সজারুর পথে পা মাড়াইতাম তো আইজ ইউরোপ আম্রিকা না হইলেও দেশে কন্টাক্টারী করিয়া গুলেশান বনানীতে দুই তিনটা বাড়ী করিতে পারিতাম!

অতএব ইহাই প্রমানিত হইলো যে যতই পড়িবে ততই মরিবে!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৬ রাত ৮:০৪
৪৯টি মন্তব্য ৪৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×