মুসলিম পরিবারে জন্ম আমার। আমাদের সমাজের অনেক মানুষ-ই তাবলিগ বা দ্বীনের পথের দাওয়াত দেয়া অথবা প্রচলিত ভাষায় "চিল্লা" লাগানো কে বাকা চোখে দেখে। আমার পরিবার ও এর ব্যাতিক্রম ছিল না!
প্রায় এক বছর আগে পাশের বাসায় আসেন এক আঙ্কেল। আমরা কোয়ার্টার এ থাকি, তাই উনি ছিল বাবার সহকর্মি। আসার পর থেকেই বাবা কে নানাভাবে মেহনতের লাইন এ টানার চেষ্টা করেন। শেষমেষ গত সপ্তাহে আমার ৩দিনের তাবলিগ জা'মাতে যাওয়ার সুযোগ হয়। কিছু না হোক, একটা নতুন অভিজ্ঞতার সাথে আল্লাহ তা'আলা পরিচিত হবার তৌফিক দান করেন।
আপনি যদি নিজেকে আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় ফেরাতে চান, একটা রুটিন মাফিক জীবনের শুরু চান, তাহলে আপনার একবার হলেও অন্ততঃ ৩দিন গিয়ে তাবলিগে ঘুরে আসা উচিৎ। আল্লাহ'র অশেষ রহমতে আপনার জীবন একটা রুটিন পেয়ে যাবে। পরবর্তিতে তা ধরে রাখা আপনার দায়িত্ব
আপনাকে সময়মত ঘুমাতে যেতে হবে এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর সংগীরা আপনাকে জাগিয়ে দিবে। আপনাকে নিয়ম মত ফজর নামাজ পড়ে রহমতের কথা শুনতে বসতে হবে। তারপর আপনাকে বের হতে হবে রাস্তায় দাওয়াত এর কাজে। পরবর্তিতে ফিরে এসে সকালের নাস্তা সেরে আপনি কিছুটা সময় পাবেন বিশ্রাম এর। তারপর বিশ্রাম সেরে আবার মেহনতের কথা শুনতে হবে। এভাবে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর আপনাকে নিয়ম করে মেহনতের কথা শুনতে হবে এবং দাওয়াত এর কাজে বের হতে হবে।
রাতে ঘুমাতে যাবার আগে অথবা সময় সুযোগমত আমির সাহেব সবাইকে নিয়ে "মাশওয়ারা" তে বসবেন। এর বাংলা প্রতিশব্দ হল পরামর্শ। আমির সাহেব সবার মতামত নিয়ে পরবর্তি দিনের করণীয় এবং সবার কাছ থেকে খাওয়া বাবদ কত টাকা ওঠানো যায় তা ঠিক করেন।
তাবলিগের মাঠে কোটিপতি এবং সামান্য কেরানি, আমরা সবাই একসাথে ছিলাম। সেখানে বিন্দু পরিমাণ ভেদাভেদ বলতে কিছু ছিল না। এর নাম-ই ইসলাম
কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই, যখন দাওয়াত এর কাজে বের হওয়া হয়। অনেক মানুষ অনেক ব্যস্ততায় থাকেন, তাদের দলবধ্যভাবে গিয়ে বিরক্ত করার পর্যায়ে পরে যায় অনেক ক্ষেত্রে। অনেক সময় জোর-জবরদস্তি পর্যন্ত করা হয় তাকে ততক্ষনাত মসজিদে নিয়ে যাবার জন্য! কিন্তু ইসলাম জোর-জবরদস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর মেহনতের কথা শুনতে হবে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে মেহনতের কথা বলার সারমর্ম থাকে তাবলিগের রাস্তায় বের হওয়া! সেখানে তখন যতজন উপস্থিত থাকে তাদের অনেকটা বাধ্য করেই নিয়ত করানো হয় এই রাস্তায় বের হবার জন্য।
তাবলিগের পথের যাত্রীরা ৬টি মূল নীতিতে বিশ্বাস করেন। যার মাঝে অন্তর্ভূক্ত আছে কালিমা এবং নামাজ, কিন্তু বাকি ৩টি রুকনের উল্লেখ নেই! ইসলামের মূল নীতি ৫টি রুকনের উপর নির্মিত, তাই আমার কাছে ব্যাক্তিগতভাবে এই ব্যাপারটা আংশিক হলেও সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে! ( বড় আলেম ওলামা রা ভাল বলতে পারবেন )
কিন্তু ইসলামের দাওয়াত এর পথে মেহনত করার তাতপর্য কতটুকু তা আমি জানি না! তাই বেশি কিছু বলা উচিৎ না।
স্বল্প সময়ে সবকিছু জানা যায় না এবং অন্যান্য স্থানে কি বা কিভাবে হয় তা আমি অবগত নই, তাই কিছু না বলাই বাঞ্চনীয়।
কিন্তু তাবলিগ ওয়ালাদের জোর জবরদস্তি যে শরিয়াত বিরোধি তা স্পষ্ট!
আল্লাহ'র পথে থাকলে ঘর-ই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



