somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওয়াশিংটনের সেই সাদাবাড়ি

২১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোভিয়েত রাশিয়া নখদন্তবিহীন হয়ে যাবার পর পৃথিবীর একমাত্র সুপার পাওয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । সেই অসীম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডি সি । এর নামকরণ হয়েছে একজন প্রেসিডেন্টের নামে । এর নানাবিধ আকর্ষণ সারা বছর পর্যটকদের কাছে আছে । সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের হচ্ছে সেই সাদা বাড়িটা যা একনামে ''হোয়াইট হাউজ'' নামে পরিচিত ।

পটোম্যাক নদী তীরে ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি মার্কিন প্রেসিডেন্সী, মার্কিন সরকার, ও মার্কিন জনগণের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়ে থাকে । ১৭৯২ সালের অক্টোবরে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এই ভবনটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এর নির্মাণ কাজ তদারকীও করেছেন তিনি । যদিও তিনি এই ভবনে বসবাস করেননি । প্রেসিডেন্ট জন এ্যাডামস সর্ব প্রথম এই ভবনে বসবাস শুরু করেন এবং পরবর্তীতে প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ঐতিহাসিক ভবনটিতে বসবাস করেন ।

প্রতিদিন দেশ বিদেশের প্রায় ৬ হাজার দর্শক এই ভবনটি পরিদর্শনে আসেন । তাই চলুন আমরাও ''হোয়াইট হাউজ'' থেকে ঘুরে আসি ।

আপনি কি জানেন আজ যে ভবনটিকে বিশ্বের সকলে একনামে ''হোয়াইট হাউজ'' হিসেবে চেনে আগে কিন্তু এর ভিন্ন নাম ছিল । প্রেসিডেন্ট প্যালেস, প্রেসিডেন্ট হাউস, এক্সজিকিউটিভ ম্যানশন ইত্যাদি নামের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে সর্বশেষ ''হোয়াইট হাউজ'' নামে পরিচিত হয় । ১৯০১ সালে প্রসিডেন্ট রুজভেল্ট এই নামকরণ করেন ।

আমেরিকার স্থপতি জর্জ ওয়াশিংটন ১৭৮৯ সালে যখন প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হন তখন আমেরিকার জন্য একটা আলাদা ক্যাপিটাল সিটি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন । আর তখনই খুঁজে পেতে পটোম্যাক নদীর ধারে মেরীল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়ার কিছু অংশ নিয়ে এই ক্যাপিটাল সিটির জন্য জায়গা নির্ধারন করেন । পরবর্তীতে এর নামকরণ হয় ওয়াশিংটন ডি সি (ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া) ।

আইরিশ বংশোদ্ভুত আর্কিট্যাক্ট জেমস হোবান এই হোয়াইট হাউজের নক্‌শা করেন । ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৮০০ সালে । ভবনটি নির্মাণে সেই সময় খরচ হয়েছিল প্রায় ৩০ লাখ ডলার ।

ওয়াশিংটন ডি সি এর কনটিটিউশন এভিনিউতে অবস্থিত হোয়াইট হাউজ ভিজিটর সেন্টার থেকে প্রতিদিন সকাল ৮:৩০ মিনিট থেকে ১০ টা পর্যন্ত ৬ হাজার টিকেট বিনামূল্যে বিতরন করা হয় দর্শনার্থীদের জন্য । একজন দর্শনার্থী নাম পরিচয় লিপিবদ্ধ করে তার নামে সর্বাধিক চারটি টিকেট পেতে পারেন । এই টিকেট সংগ্রহের জন্য ভিজিটর সেন্টারের বাইরে লাইনে দাঁড়াতে হয় । টিকেট কাউন্টার সকাল ৮ টায় খুললেও টিকেট সংগ্রহের জন্য ভোররাত থেকে লাইন শুরু হয়ে যায় । হোয়াইট হাউজ পরিদর্শনে আগ্রহীদের লম্বা ভীড় এড়িয়ে টিকেট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাইলে যত ভোড়ে সম্ভব লাইনে দাঁড়ান উচিত । তবে আমাদের দেশের মত টিকেট ব্ল্যাকার আছে ওখানেও । যাদের কাছে প্রতি দশ ডলারে একটি টিকেট পাওয়া যায় ।

টিকেট হাতে নিয়ে চলে আসেন হোয়াইট হাউজের সিকিউরিটি গেটে । টিকেটের সিরিয়াল অনুযায়ী গাইড এসে এক একটা দল করে ভিতরে নিয়ে যাবে । ২০ জন থেকে ৩০ জনের জন্য একজন করে গাইড থাকে । হোয়াইট হাউজ পরিদর্শনের শুরুতেই ব্রোঞ্জ মূর্তির প্রেসিডেন্ট জেফারসন তাঁর বাম হাতে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র এবং ডান হাতে একটি কলম নিয়ে আপনাকে স্বাগতম জানাবেন ।

ইচ্ছে করলেও পুরো হোয়াইট হাউজ আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন না । দর্শকদের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাওয়া নিষেধ আছে কর্তৃপক্ষের । ৩য় ও ৪র্থ তলার পুরনো আমলের ব্যাবহৃত কিছু কক্ষ যেমন শয়নকক্ষ, অতিথি ও অফিস কক্ষ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত । দেখতে পাবেন ৪০ জন প্রেসিডেন্টের সিল, জন এ্যাডামস থেকে বিল ক্লিনটন পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দস্তখত ইত্যাদি ।

মনে দুঃখ পাবেন তবু জেনে রাখা ভাল যে হোয়াইট হাউজের ভেতরের কোন ছবি দর্শকদের তোলা নিষেধ । ৬ তলা বিশিষ্ট হোয়াইট হাউজে রয়েছে ১৩২ টি কক্ষ, ৩৫ রেস্টরুম, ৪১২ টি দরজা, ১৪৭ টি জানালা, ২৮ টি ফায়ার প্লেস, ৮ টি সিঁড়ি, ৩ টি এলিভেটর, ২ টি বেসমেন্ট, ২ টি পাবলিক ফ্লোর এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য ২ টি ফ্লোর ।

এছাড়াও হোয়াইট হাউজের বাসিন্দাদের বিনোদনের জন্য রয়েছে বিশাল বাগান, টেনিস কোর্ট, জগিং ট্রাক, সুইমিং পুল, মুভি থিয়েটার এবং বিলিয়ার্ড রুম ।

বিশ্ববিখ্যাত এই হোয়াইট হাউজ তৈরী হয়েছে ২০ একর জমির উপর । গেট রয়েছে ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে । পুরো হোয়াইট হাউজটি রং করার জন্য ৫৭০ গ্যালন রং এর প্রয়োজন হয় ।

হোয়াইট হাউজের সেফরা ৫ টি শিফটে কাজ করেন । তারা একসঙ্গে ১৪০ জন অতিথিকে ডিনার এবং ১ হাজার মেহমানকে নাস্তা করাতে পারেন ।





সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:১৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×