
আকাশ, বাতাস সাক্ষী আছে
আর আছে কাগজ সাক্ষর করা
আমি তুমি স্বামী স্ত্রী কে দিবে এবার প্যারা!
চলো লিটনের ফ্লাটে যাই...!
সাদা কাগজে সাক্ষর করে বল্টুর সাথে আইনত বিয়ে হয়েছে বিশ্বাস করে নিলো জরিনা। কিছুদিন পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নিবে, বল্টুর এই আশ্বাসে ঘনঘন বল্টুর সাথে অন্তরঙ্গ মুহুর্ত কাটাতে শুরু করলো। একসময় জরিনা ঘরে তুলে নেয়ার জন্য বল্টুকে বেশি তাগাদা দিলে বল্টু উধাও হয়ে যায়। জরিনা বুঝতে পারে সে প্রতারিত হয়েছে। জরিনা চোখে অন্ধকার দেখছে।
উপরের ঘটনাটি কাল্পনিক হলেও আমাদের সমাজে এরকম ঘটনা অনেক ঘটে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে এভাবে ভুলিয়ে ভালিয়ে আইনি বিয়ে বলে প্রতারনা করে সহজ সরল মেয়েদের জীবন নষ্ট করে কিছু প্রতারক। আসুন এখন জেনে নিন এ বিষয়ে আইনের গ্রহণযোগ্যতা ও করণীয় সম্পর্কে।
♣এরকম বিয়ের আইনি কোন ভিত্তি নেই এবং ধর্মীয় মতে বিয়ের কোন শর্ত পুর্ণ হয় না। প্রেম করে যদি একান্ত বিয়ে করতে হয় (মুসলিম আইন) ধর্মীয় বিধান মেনে কাজী অফিসে রেজিস্ট্র করে বিয়ে করতে হবে, এরপর নোটারী পাবলিকে এফিডেফিট করতে হবে, তবেই সেটা বৈধ বিয়ে হবে।
♣হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে বিয়ের সকল শর্ত ও আনুষ্ঠানিকতা মানা অপরিহার্য। মুসলিম আইনের মত রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক না হলেও বিয়ে প্রমাণের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন।
♣যারা ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের তারা বিয়ে করবে বিশেষ বিবাহ আইনে। বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে করতে হলে পাত্র-পাত্রীকে ধর্ম ত্যাগের এফিডেফিট করতে হবে, এরপর বিশেষ বিবাহ আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করতে হবে।
বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রার বাংলাদেশে একটাই সেটা পুরোনো ঢাকার পাটুয়াটুলিতে।
♣♣♣হ্যাঁ, এবার জানা যাক আইনত বিয়ে হয়েছে বলে প্রতারনা করে মেয়েদের লিটনের ফ্লাটে নিয়ে যাওয়া বল্টুদের কি সাজা তৈরী আছে?
♣দণ্ডবিধি অনুসারে বল্টু বিয়ের কথা বলে প্রতারণা করে ফৌজদারী অপরাধ করেছে। সে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
আমাদের দণ্ডবিধি আইনের ৪৯৩ ধারাতে বলা হয়েছে, “কোন ব্যক্তি প্রতারনা মুলকভাবে আইনসম্মত বিয়ে বিশ্বাস করিয়ে যৌনমিলন করলে, সে ব্যক্তি ১০ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।”
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




