ইতিমধ্যে ফুলবাড়ীতে ঘটে গেছে একটা মানবিক বিপর্যয়। মারা গেছে কিছু প্রাণ। কারন কয়লা খনি। ফুলবাড়ীতে কয়লা খনি পাওয়ার পর এ অঞ্চলের মানুষ আর স্বস্তিতে নেই । কয়লা খনি থাকাতে কোন সমস্যা নয় । সমস্যা হচেছ যে কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি। এশিয়ান এনার্জি নামক একটি বিট্রিশ কোম্পানী এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে । তারা উন্মক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তুলবে। কয়লা হচ্ছে সাধারণত মাটির নীচে থাকা বিভিন্ন প্রানী বা উদ্ভিদের জীবাস্ম। যুগ যুগ ধরে চাপা থেকে তা ধীরে ধীরে কয়লায় রুপান্তরিত হয় । ফয়লবাড়ীতে যে কয়লার মজুত পাওয়া গেছে তা প্রায় 288 মিলিয়ন টন। এটা বেশ ভালোমানের কয়লা । কিন্তু এই কয়লা উত্তোলনের যে পদ্ধতি এশিয়ান এনার্জি বেছে নিয়েছে তাতেই আপত্তি স্থানীয় জনগনের । কয়লা উত্তোলনের যে পদ্ধতি আছে তার একটি হল খনি থেকে কয়লা উত্তোলন। এেেত্র মাটির নীচে খনি স্থাপন করা হয় । সেখানে থেকেই কয়লা তুলে উপরে আনা হয় । আরেকটি পদ্ধতি হল যেখানে খনি আছে তার উপরের মাটি সরিযে সরাসরি কয়লার স্তরকে বের করে আনা । এই পদ্ধতিতে কয়লার মজুতের প্রায় সবটা পাওয়া যায়। কিন্তু এর প্রচুর পাশ্বর্ প্রতিক্রিয়া আছে । এর প্রথম ও সরাসরি প্রতিক্রিয়াই হবে এ অঞ্চলের এক ল 20 হাজার লোকের উপর। যেহেতু খুড়ে ফেলবে প্রায় 64 বর্গ কিলোমিটার এলাকা- এখানকার লোককে এখান থেকে সরিযে নিয়ে যেতে হবে অন্য কোথায় । বাকীদের জমি ও পরিবেশের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে উত্তোলনের কারনে। পরো ভাবে তিগ্রস্থ হবে প্রায় আরো 100 বর্গ কিলোমিটার এলাকা। যেহেতু এখানে একটা নদী আছে । সেই নদীর সঙ্গে উপর প্রভাব পড়া মানে বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনার উপর প্রভাব পড়া । পুরো ব্যবস্থাটি বেশ কিছু পরিবেশ গত ও মানবিক জাটিলতা তৈরী করবে।
একটা ভাবনা : মাটির নীচে যে কয়লা আছে তা যুগ যুগ ধরে আছে । মাটির উপর যে সম্পদ আছে তাও আছে যুগ যুগ ধরে। মাটির নীচের সম্পদ আমাদের পড়ে থাকলেই আমরা একদিন তা তুলতে পারবো অন্য কোন পদ্ধতিতে। কিন্তু হাজার একর জমি যা খুবই উর্বর এবং আরো হাজার ধরে যা আমাদের সোনার ধান দেবে, তাকে হাজার বছরের জন্য নষ্ট করে কয়লা তুলে লাভ কি?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



