
আমি কে? -রাজাকার। তুমি কে? -রাজাকার। কে বলেছে? -সরকার। এমন কথা সরকার বলে থাকলে সরকার ঠিক বলেনি। আম জনতা সরকারকে খাজনা দিয়ে কোটা ভিত্তিক অযোগ্য লোকের সেবা গ্রহণ করবে কেন?
আমি থানায় সেবা নিতে গিয়ে বুঝলাম। তাদের মনভাব হলো, আসব যাব খাব। আসবেন যাবেন খাওয়াবেন। সেবার বেলায় কি হবে? ওটার তো ওদের যোগ্যতাই নাই সেটা করবে কেমন করে? পুলিশ বিড় বিড় করে আমাকে কি বললো কিছুই বুঝলাম না। বাসায় আসার পর গিন্নি বললেন, পুলিশ কি বলেছে? আমি বললাম, কিছু একটা তো বলেছে, কিন্তু আমি বুঝিনি। তবে সংক্ষেপে এটা বুঝেছি যে, ওখান থেকে এ বিষয়ে কোন সেবা পাওয়া যাবে না। এগার বছর মামলা চলার পর জজ যে রায় দিলো, সেটাও আমাদের বোধগম্য হয়নি। হাসপাতালে সেবার জন্য গেলে ডাক্তার বলে চেম্বারে আইসেন। চেম্বারে বিবিধ টেস্টের গন্ডি পার হওয়ার পর দেখা যায় ঔষধ কেনার টাকা নাই।
আমরা কর দিতে দিতে ক্লান্ত। অথচ সেবার মান অতি নিম্নমানের। সেদিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্শন করলে সরকার রাজাকার বলে গালি দিবে। এটা কিছুতেই ভালো কথা হতে পারে না। সরকার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে ভাতা দেয়। রেশন দিতে পারে। তাদেরকে সরকার সবুজ কাড দিতে পারে। যা দিয়ে তারা সরকারি পরিবহনে বিনা ভাড়ায় যাতায়ত করতে পারে। বিনা টাকায় তারা চিকিৎসা সেবা নিতে পারে। কিন্তু তাদেরকে সেবা করার দায়িত্ব দিলে তো তাদের সেবা করার যোগ্যতা থাকা দরকার। আর সেবাতে যদি যোগ্যতাই লাগে তবে তাতে আর কোটা থাকে কেমন করে? তথাপি সরকার এতে কোটা কেন চায়? এ প্রশ্নের উত্তর চেপে যাওয়াই ভালো। সরকার মুক্তিযোদ্ধা ক্ষেত্রে বিনাসুদে ঋণদান করে তাদেরকে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োযিত করতে পারে। যাতে করে তারা নিজেরাই চাকুরী প্রদান করতে পারে।
জনগণ খাজনা দেয়। বিনিময়ে তারা সেবা চায়। সরকার যদি বলে তারা রাজাকার, তাদের সেবা করা যাবে না। তাহলে রাষ্ট্র চালাতে সরকার রাজাকারের খাজনা কেন নেয়? খাজনা যখন নেয় তখন সরকারকে সেবার বিষয়েও নিশ্চয়তা দিতে হবে। আর সেটা হবে যোগ্য লোকের যোগ্য সেবা। সুতরাং কোটা তুলে দেওয়ার বিষয় সংগত। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অন্যভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে পারে। তার জন্য বহু পথ খোলা আছে। সরকার তাদেরকে চাকুরীর বদলে মনিবি প্রদান করুক। তারা উদ্দৌক্তা হয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৯:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



