
সূরাঃ ৫৫ রাহমান, ১ নং ও ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আর রাহমান (পরম মেহেরবান)।
২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
* রহমান রাসূলকে (সা.) চল্লিশ বছরের আগে কোরআন শিক্ষা দেননি।সুতরাং রাসূলের (সা্.) কিতাব ও হিকমাত্রের উপযুক্ত ছাত্র ছিলেন তাঁরা রাসূলের (সা.) ছাত্র থাকাকালিন যাঁদের বয়স চল্লিশ বছর ছিল। রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের সময় হযরত আলীর (রা.) বয়স তেত্রিশ বছর থাকায় তিনি রাসূলের (সা.) উপযুক্ত ছাত্র তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। রাসূলের (সা.) উপযুক্ত ছাত্র তালিকায় বহাল থাকবেন হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.)। সেজন্য হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) থেকে হযরত আলীর (রা.) মর্যাদা বেশী হওয়া সম্ভব নয়।
সূরাঃ ২ বাকারা,৩১ নং থেকে ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩১। আর তিনি আদমেকে (আ.) সব জিনিসের নাম শিখালেন। তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে হাজির করলেন। তারপর বললেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে আমাকে এসব বস্তুর নাম বলে দাও।
৩২। তারা বলেছিলো, আপনি মহান পবিত্রময়। আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এর বাইরে আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্ব জ্ঞানী, মহাকৌশলী।
৩৩। তিনি বললেন হে আদম! তুমি তাদেরকে ঐসবের নাম বলে দাও!এরপর যখন সে তাদেরকে ঐগুলোর নাম বলে দিলো, তখন তিনি (আল্লাহ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয়ই আমি আকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানি। আর তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর আমি তাও জানি।
সূরাঃ ৭ আ’রাফ, ১৯ নং থেকে ২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৯। হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর।আর যা খুশী খাও। আর এ গাছের কাছে যেও না।তাহলে তোমরা যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।
২০। অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা তাদের নিকট গোপন রাথা হয়েছিল তা’ তাদের কাছে প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল। আর সে বলল, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও, অথবা এখানে স্থায়ী হয়ে যাও সেজন্য তোমাদের রব এ গাছ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।
২১। সে তাদের নিকট কসম করে বলল, আমিতো তোমাদের নছিহতকারীদের একজন।
২২। এভাবে সে তাদেরকে ধোকা দিয়ে নীচু করল।তৎপর যখন তারা সে বৃক্ষফলের মজা গ্রহণ করল তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল।আর তারা নিজেদেরকে জান্নাতের পাতা দ্বারা আবৃত করতে লাগল।তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ গাছের কাছে যেতে মানা করিনি? আর আমি কি বলিনি যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন?
* আল্লাহ প্রশিক্ষিত বড় আলেম হলেন হযরত আদম (আ.) আল্লাহর চল্লিশের কম বয়সি ছাত্র ছিলেন। তিনি শয়তানের ধোকায় পড়েছিলেন। আল্লাহর চল্লিশের কম বয়সি ছাত্র হযরত ঈসা (আ.) তাঁর কথা জনতাকে বুঝাতে সক্ষম হননি। তারা তাঁকে শূলে চড়িয়ে হত্যার আয়োজন করেছিল। রাসূলের (সা.)চল্লিশের কম বয়সি ছাত্র হযরত আলীও (রা.)তাঁর কথা জনতাকে বুঝাতে সক্ষম হননি। দুই দল সাহাবা (রা.) তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং একদল সাহাবা (রা.)তাঁর পক্ষে যুদ্ধ করা থেকে বিরত ছিলেন।হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) খেলাফত একত্রিত রাখতে সক্ষম হলেও হযরত আলী খেলাফত একত্রিত রাখতে সক্ষম হননি। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) তাঁর থেকে খেলাফতের একাংশ ছিনিয়ে নিয়েছেন। এটা হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) থেকে তাঁর কম যোগ্যতার প্রমাণ।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।
সহিহ বোখারী ২৯ নং হাদিসের (কিতাবুল ঈমান) অনুবাদ-
২৯। হযরত আহনাফ ইবনে কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি হযরত আলী (রা.) অথবা হযরত ওসমান (রা.) কে সাহায্য করতে চললাম, (পথে) আবু বাকরাহ (রা.) এর সাথে দেখা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাচ্ছ? আমি বললাম, এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে চলছি। তিনি বললেন ফিরে যাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে কলতে শুনেছি, যখন দু’জন মুসলমান তরবারী নিয়ে পরস্পর মুখোমুখী হয়, তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয় জাহান্নামী হয়। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল (সা.) এতো হত্যাকারী বলে, কিন্তু নিহত ব্যক্তির ব্যাপারটি কি? তিনি বললেন, সে তার সঙ্গীকে হত্যা করার আকাঙ্খী ছিল।
* নবিগণের এক জন থেকে অন্য জনের মর্যাদা যেমন বেশী-কম হয়ে থাকে তেমনি সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যেও মর্যাদায় বেশী-কম আছে। যারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়েছেন তাঁদের থেকে তাঁদের মর্যাদা কম যারা পরস্পর যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হননি। পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হযরত আলী (রা.), হযরত আয়েশা (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) দল অন্যদের থেকে নিযেদের মর্যাদা কমিয়ে ফেলেছেন। একদল সাহাবা (রা.) এটা মনে করতেন বিধায় তাঁরা উক্ত তিন দলের কোন দলে যোগদান করেননি।সুতরাং উক্ত তিন দলের কোন দলের কোন সাহাবাকে (রা.) মর্যাদায় হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমানের (রা.) উপরে স্থান দেওয়া সম্ভব নয়।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় এর ফলে সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে।মূলত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না।
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২। আমরা লোকমানকে হিকমাত দান করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো তা’ করে নিজের জন্য। আর কেউ অকৃতজ্ঞ হলে আল্লাহ তো ধনি ও প্রশংসিত।
সূরাঃ ১৬ নাহল, ১২৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৫।ডাক তোমার রবের পথে, হিকমাত (কৌশল) ও উত্তম ওয়াজের মাধ্যমে। আর তাদের সাথে তর্ক কর উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার রব খুব জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে পথভ্রষ্ট হয়। আর তিনি খুব জানেন কোন সব লোক হেদায়াত প্রাপ্ত।
* আল্লাহ হিকমাতকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর পথে ডাকতে বলেছেন হিকমাত দিয়ে। হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) হিকমাতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। কারণ তাঁরা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।হিকমাতের পরীক্ষায় হযরত আলী (রা.)উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হননি। কারণ তিনি পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হননি।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
২। ঐ কিতাব; যাতে কোন সন্দেহ নেই, যা হেদায়েত মোত্তাকীদের জন্য।
সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?
সূরাঃ ৯ তাওবা, ১১৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৯। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের (সত্যবাদী) সাথে থাক।
* কিতাবে মানসুখ আছে হিকমাতে মানসুখ নাই। সেজন্য আল্লাহ কিতাবের হিদায়াতে গঠিত হিকমাত দিয়ে তাঁর পথে ডাকতে বলেছেন। সুতরাং কিতাবের হিদায়াতে গঠিত হিকমাতের পরিবর্তে কিতাব মানসুখ এবং হাদিস বাতিল। কিতাবের হিকমাতে হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমানের (রা.) মর্যাদা সাব্যস্ত বিধায় তাঁদের মর্যাদার পরিবর্তে হযরত আলীর মর্যাদার পক্ষে উপস্থাপিত কিতাব মানসুখ ও হাদিস বাতিল হবে। সুতরাং কোনভাবেই হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) থেকে হযরত আলীর (রা.) মর্যাদা বেশী হওয়া সম্ভব নয়। যারা হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) থেকে হযরত আলীর (রা.) মর্যাদা বেশী সাব্যস্ত করে তাঁকে পয়লা নম্বর বলে তারা মিথ্যাবাদী। মুসলিমদেরকে তাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২৫ বিকাল ৪:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




