
সূরাঃ ১২ ইউসুফ, ৩৯ নং ও ৪০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৯। হে আমার কারা সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন বহু রব শ্রেয়, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ?
৪০। তাঁকে ছেড়ে তোমরা কতগুলি নামের ইবাদত করছ, যে নাম তোমাদের পিতৃপুরুষ ও তোমরা রেখেছ, এইগুলির কোন প্রমাণ আল্লাহ পাঠাননি। হুকুম দেয়ার অধিকার শুধু আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে, আর কারও ইবাদত করবে না। এটাই সরল সঠিক দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।
* আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর হুকুমত কায়েম করেছেন। সেই হুকুমতের খেলাফত ছিল ত্রিশ বছর। আমাদের দেশে আল্লাহর হুকুমত কায়েম হয়নি তাহলে এখানে আব্বাসী ও আহলে হাদিস কোন হুকুমতের খেলাফতের কথা বলছে?
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৬। দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই ভ্রন্তি খেকে সঠিক পথ প্রকাশ হয়েছে। অতএব যে লোক তাগুতের বিরোধিতা করবে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে সে দৃঢ়তর রজ্জুকে শক্ত করে ধরলো যা কখনো ছিঁড়ে যাবে না এবং আল্লাহ হলেন সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।
সূরাঃ ৪ নিসার ৭৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৫। তোমাদের কি হলো, তোমারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছো না? অথচ নারী-পুরুষের এবং শিশুদের মধ্যে যারা দূর্বল তারা বলে, হে আমাদের রব আমাদেরকে অত্যাচারী অধিবাসীদের এ নগর থেকে বের করে দিন। আর আপনার কাছ থেকে আমাদের জন্য ওলী (অভিভাবক) এবং আপনার কাছ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠান।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮৬। আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্ট দায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত।সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমাদের ত্রুটি হয় তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না।হে আমাদের প্রতিপালক এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।আমাদের পাপ মোছন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন।
সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
* দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি না থাকায় রাসূল দ্বীন কায়েমে কোন জবরদস্তি করেননি। মদীনার আউস ও খাজরাস গোত্র রাসূলের (সা.) আনুগত্য প্রকাশ করায় রাসূল (সা.) মদীনার সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের নেতায় পরিণত হন।মদীনা সনদে মদীনার ইহুদী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের স্বাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে সর্বসম্মত মতে রাসূল (সা.) মদীনায় আল্লাহর হুকুমত কায়েম করেন। রাসূল (সা.) যে পদ্ধতিতে মদীনার সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের নেতায় পরিণত হন এখন সে পদ্ধতিতে ইসলামপন্থীদের কোন নেতার বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের নেতায় পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু জুলুম প্রতিরোধে ইসলামপন্থীদের বাংলাদেশের নেতৃত্ব গ্রহণ জরুরী।সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াত ও সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াত অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচনে এখানে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের নেতায় পরিণত হওয়া সম্ভব। এভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে সুশাসনের মাধ্যমে সকল পক্ষের মনজয় করে বাংলাদেশ সনদের মাধ্যমে এখানে আল্লাহর হুকুমত কায়েম করা সম্ভব।
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে একশত জন থাকলে এক হাজার কাফিরের উপর জয়ী হবে।কারণ তারা বোধশক্তিহীন সম্প্রদায়।
৬৬। আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন।তিনিতো অবগত আছেন যে তোমাদের মধ্যে দূর্বলতা আছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশত জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজন উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারা দুই হাজারের উপর বিজয়ী হবে।আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী প্রস্তত রাখবে। এর দ্বারা তোমরা সন্ত্রস্ত রাখবে আল্লাহর শত্রুকে, তোমাদের শত্রুকে, এছাড়া অন্যদেরকে যাদের সম্পর্কে তোমরা জাননা, আল্লাহ জানেন।আল্লাহর পথে তোমরা যা ব্যয় করবে এর পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।
সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।
সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।
সূরাঃ ১৬ নাহল, ১২৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৫।ডাক তোমার রবের পথে, হিকমাত (কৌশল) ও উত্তম ওয়াজের মাধ্যমে। আর তাদের সাথে তর্ক কর উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার রব খুব জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে পথভ্রষ্ট হয়। আর তিনি খুব জানেন কোন সব লোক হেদায়াত প্রাপ্ত।
সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।
সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে: আর তারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।
সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
* যে দলের লক্ষ্য আল্লাহর হুকুমত কায়েম করা তারা অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষা দানের মাধ্যমে এক তৃতীয়াংশ ভোটার ও বাহিনীকে ইসলামের অনুসারী বানাবে ও তাদের দলভূক্ত করবে।তারপর তারা সৎলোকের শাসনের জন্য ভোট চাইবে। তাতে জয়ী হয়ে তারা ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে সবার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করে সকল পক্ষের মন জয় করবে এবং দুই তৃতীয়াংশ ভোটার ও বাহিনীকে ইসলামের অনুসারী বানাবে ও তাদের দলভূক্ত করবে।তারপর তারা আল্লাহর হুকুমতের পক্ষে গণভোট করবে। জবরদস্তি ছাড়া হুকুমাত প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষ গণতন্ত্র এখন একটি হিকমাত বিধায় এটাকে হারাম বলার কোন সুযোগ নাই। গণভোটে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সনদ গৃহিত হলে। বাংলাদেশ সনদ অনুযায়ী আল্লাহর হুকুমত কায়েম করতে হবে। আল্লাহর হুকুমাত কায়েম হলে এটি পরিচালনার জন্য একটি শুরা গঠন করতে হবে। সেই শুরা অনুযায়ী আল্লাহর হুকুমাত পরিচালিত হবে। হিকমাতের স্বার্থে গণতন্ত্র জারি রাখতে হলে এদেশে সেটাই করতে হবে। কারণ গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্থ্য করতে গিয়ে এ দেশে চারটি শাসক দল উৎখাত হয়েছে। সুতরাং হিকমাতের স্বার্থে এদেশে গণতন্ত্র বাদ দেওয়ার চিন্তু বাদ দেওয়াই শ্রেয়।সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াত অনুযায়ী সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের বিধান বাস্তবায় না করা গেলে সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের বিধান অনুযায়ী ১১৬ নং আয়াতের বিধান মানসুখ সাব্যস্ত হবে। তথাপি কোন পক্ষ এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তারা খারেজী সাব্যস্ত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





