
চরমোনাই পীর জাতীয় সংসদের ২৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। পীর কি করতে চায়? নাচ গান বাদ্য টেলিভিশন সিনেমা নাটক নারীর ক্ষমতায়ন সুদী ব্যাংক খেলা-ধুলা এসব বিষয়ে পীর কি করতে চায়? চোরের হাত কাটা ও পাথর মারা বিষয় কি হবে? কিছু জিনিস বন্ধ হোক কিছুতে যারা চায় না, কিছু জিনিস চালু হোক কিছুতে যারা চায় না, তারা কিছুতেই পীরকে ভোট দিবে না। পীর যদি বলে ইসলাম যারা চায় তাদের জন্য ইসলাম, আর ইসলাম যারা চায় না তাদের জন্য ইসলাম নয়, তিনি জোর করে কারো উপর ইসলাম চাপিয়ে দিবেন না, তাহলে লোকের পীর ভীতি কিছুটা কমবে।তারপর তিনি তাঁর নীতি কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন সেটা যদি সকলের মনপূতভাবে বুঝাতে পারেন, তারপর তিনি ভোটের জন্য গ্রহণযোগ্য হবেন।এরপর আসবে তাঁর প্রার্থীদের যোগ্যতার বিবেচনা।
পীরকি কোন আসনে শতকরা কতভাগ ভোট পেতে পারেন এমন কোন জরিফ করেছেন? জরিফে যে সব আসনে তাঁর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সে সব আসন ছাড়া অন্য আসনে প্রার্থী দেওয়া এক কথায় সময় শ্রম ও অর্থের অপচয়। ইসলামী বিধানে যা হারাম। পীরের কথায় ইসলাম কিন্তু কাজে ইসলাম নেই। সংগত কারণে পীর নিজেই ইসলামে নেই তো তিনি কোন ইসলামের পক্ষে ভোট চান? যারা আওয়ামী লীগের ইসলামী লেজ ও বিএনপির ইসলামী লেজ তাদের ইসলাম বোধগম্য নয়।তারমানে এখন ইসলামের নামে যারা আছে তারা মূলত অরাজতা।
ইসলামী শাসন একটি অপরিচিত শাসন। যারা এটা চান তারা আগে স্থানীয় নির্বাচনে আপনাদের লোকদেরকে জয়ী করুন। যেসব আসনের প্রায় সব স্থানীয় জন প্রতিনিধি আপনাদের সে সব আসনে আপনারা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।
ইসলাম দ্বীনদারের জন্য, দুনিয়াদারের জন্য নয়। দুনিয়াদারের দুনিয়াদারীর সুব্যবস্থা না থাকলে দ্বীনদারী শাসন তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়বে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম চাইলে দুনিয়াদারদের প্রতিরোধের কথাও মাথায় থাকতে হবে। এমন প্রতিরোধে দুনিয়াদারদের বাইরের বন্ধুরাও তাদের সাথেই থাকবে। কাজেই আমি কি চাই সেটা মুখ্য বিবেচ্য বিষয় নয় বরং আমি কি করতে পারব সেটাই মুখ্য বিবেচ্য বিষয়।ব্যক্তিগতভাবে ইসলাম মানাতে তেমন অসুবিধা নেই। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা গুরুতর অসুবিধা। তাও আবার একেক জনের ইসলাম একেক রকম।ইসলাম পন্থিদের নিজস্ব লড়াই আরো বিরক্তিকর। এখন ইসলাম পন্থীদের সবচেয়ে বড়কাজ নিজেরা একদল হওয়া। কারণ বহুদলের কারণেই খোলাফায়ে রাশেদার পর থেকে ইসলামী রাষ্ট্র নেই বরং সব মুসলিম রাষ্ট্র। মুসলিম রাষ্ট্র আবার ইসলামী রাষ্ট্র হতে হলে ইসলামী রাষ্ট্র যারা চায় তাদের বহুদল আগে এক দল হতেই হবে।ইসলাম পন্থিদের একদল হওয়ার পর তাদের রাজনীতি যোগ্যতার প্রথম ধাপ অতিক্রম করবে। কাজেই আপাতত ইসলামী রাজনীতিকে ভিত্তিহীন বলা চলে।
জনগণ ভোট দিবে কি দিবেনা, না বুঝলে ভোট চাওয়া ঠিক না। জনগণের মন যিনি বুঝেন না, তিনি জনগণের রাষ্ট্র চালাবেন কেমন করে? কাজেই চরমোনাই পীরের শীতের হাত পাখার কপালে কি ঝুটে বুঝা মুশকিল।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



