somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ শহর ছেড়ে তোর চলে যাবার কথা শুনে

১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আর মাত্র কটা দিন, সন্তানদের লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে নতুন সংসারে ছেড়ে দিয়ে এ শহর ছেড়ে চলে যাবি, বাপদাদা আর শ্বশুরশাশুড়ির জন্মভিটায়
যেখানে তোর ছাত্রীজীবন গড়ে উঠেছিল আমকাঁঠালের ছায়ায় আর পদ্মানদীর
তুখোড় ঢেউয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে; তুই ফিরে যাবি তোর আদি জন্মস্থানে

পাওয়ার আগেই গৃহে ফিরে যাবি, আমি তো এমন তোকে চাই নি কোনোদিন

ইচ্ছেরা খড়ের আগুনে পুড়িয়েছে আমাকে। তোর গৃহের আশায় দুপুরের গনগনে সূর্য মাথার চাঁদিতে অনর্গল গলে পড়েছে। দরজার কলিংবেলে দ্বিধান্বিত আঙুলের ডগা অনেকক্ষণ উদ্যত থেকে শেষমেষ ঢলে পড়ে নিচে নেমে গেছে কতোদিন- কী জানি, ভেতর থেকে তোর দীর্ঘায়িত ‘কে’ শব্দে আমার আড়ষ্ট মুখ চিরতরে মূক হয়ে যায় যদি। তবু তোর নিঃশ্বাসের শব্দ নিয়েছি প্রাণ ভরে, তোর শরীরের ঘ্রাণ দেয়াল ভেদ করে আমার বুক বরাবর ঢুকে যেতো প্রতিটি ফিরতি পথে।

এভাবে একটা জীবনও যদি পার হয়ে যায় আরেকবার তোকে না দেখে- অথচ এই শহরেই কোথাও না কোথাও তুই আছিস- তোর শোবার বিছানা পেরিয়ে বারান্দা পেরিয়ে বিপুল জনারণ্য পেরিয়ে ছুটে আসা বুকের ঢিপঢিপ দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আমি অবিরাম বেঁচে উঠবো অনাগত দিনের ভেতর

এই শহরের কোথাও না কোথাও তুই বেঁচে থাকবি; তুই নেই জেনেও প্রতি ভোরে রাস্তায় পায়চারি করবার কালে চারদিকে তোকে খুঁজবো; আর প্রতিটি পদক্ষেপে বায়ু থেকে বুক ভরে তোর শরীরের ঘ্রাণ নেবো; একদিন গিজগিজে দুপুরে রমনার মাটিতে কান পেতে শুনবো- দূরে কোথাও, এলিফ্যান্ট রোডের কিনার ধরে ধরে, নরম নরম পা ফেলে তুই হাঁটছিস নিরুদ্দেশ। রোদের আগুনে আমার দীর্ঘশ্বাস পুড়ে যাবে, তুই আমাকে খুঁজে পাবি না, যেমন আমিও তোকে পুরো জীবনের জন্য হারাবো- একদম কাছাকাছি, একই শহরে থেকেও।

এই শহরের একটি কোণে বাসা বেঁধে তুই থেকে যা প্রিয়পাখি গাংচিল। পদ্মা শুকিয়ে গেছে তোর যৌবনের মতো; আমকাঁঠালের ছায়াতে বিষম ভাগাভাগি; কানামাছি খেলবার বিরান চত্বর তোকে কে দেবে? গ্রামের মানুষ তোকে চিনবে না। এতোসব দুঃখ আর কষ্ট সইতে কেন তুই গ্রামে ফিরে যাবি, প্রিয়পাখি গাংচিল?

তোর আরেকটা সংসার হবে। ফুটফুটে বউয়েরা। দাদী হবি। পানদানি থাকবে তোর। টুকটুকে ঠোঁট। এমন বোশেখে তোর বাসায় চাঁদের হাঁট। কেন তুই ফিরে যাবি হারানো ঠিকানায়, এসব ফেলে?


এসব কিছুই হবে না। একদা নির্বর্ষ চৈত্রে সকল বাঁধ ভেঙে তোর ঘরে ঢুকে দেখবো- দেয়ালে একখানা ছবি ঝুলছে, তোর সুন্দরী পুত্রবধূরা ঝেড়েমুছে সাজিয়ে রেখেছে ফুলে। আর অনেক অনেকদিন আগে, তোর রক্তাক্ত প্রেমিকের সকল আকুতি দলিত করে তুই ফিরে গেছিস আগের ঠিকানায়।

রোদের আগুনে আমার দীর্ঘশ্বাস কেবলই পুড়তে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:১১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×