আস্তে আস্তে ভেজানো দরজাটা সামান্য ফাঁক করে ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে উঁকি দিল বুড্ডা। মনা ভেতরে টেবিল ল্যাম্পের কাছে নুয়ে পড়ে গভীর মনোযোগে পড়ছে। ওর ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষা চলছে।
বুড্ডা বিড়ালের মতো নরম নরম পা ফেলে সামনে এগোয়। মনার চেয়ার ঘেঁষে দাঁড়ায়। মনা টের পেয়ে ঘাড় না ঘুরিয়েই বলে, ভাগ, এখন ডিস্টার্ব করবি না।
বুড্ডা খুব ডিস্টার্ব করে। এজন্য বেশিরভাগ সময়ই মনা ঘরে ছিটকিনি লাগিয়ে পড়তে বসে। এতে বুড্ডার খুব রাগ হয়। মাঝে মাঝে বাইরে থেকে খুব জোরে দরজা ধাক্কায়, থাপ্পড় মারে, কখনো দরজার গায়ে লাত্থি মারে। তাতে শব্দ আরো বেশি হয়।
মনার কথায় কোনো কাজ হলো না। বুড্ডা আরো কাছে গিয়ে ওর গায়ের সাথে গা লেপ্টে দাঁড়ায়। ঘাড়ের উপর থেকে আলগোছে চুল সরিয়ে সেখানে চুমু খায়। লালায় ভিজে যায় জায়গাটা। মনার খুব ঘৃণা লাগে। কিন্তু বুড্ডাকে ফেরানো যায় না। চুমু খাওয়া ওর ছোটোবেলার অভ্যাস। ওর যখন সবে দু বছর বয়স, একবার এক বাসায় বেড়াতে গেলো ওরা। ও-বাসায়ও ওর মতো আরেকটা বাচ্চা ছিল। সেই বাচ্চার সামনে বুড্ডাকে নামিয়ে দেয়া হলো। বুড্ডা বাচ্চাটির সামনে গিয়ে বসলো, তারপর একটু এগিয়ে গিয়ে একদিকে কাত হয়ে বাচ্চাটাকে সুন্দর একটা চুমো খেলো। ঘরভর্তি লোকজন অবাক। সেই প্রথম বুড্ডার চুমো খাওয়া।
মনা বললো, বললাম না ডিস্টার্ব করবি না?
আমি এখন খেলবো। বুড্ডা গম্ভীর গলায় বলে। কিন্তু মনা আপন মনে পড়তেই থাকে। বুড্ডার জেদ চেপে যায়। সে আগের মতোই চুল সরিয়ে ঘাড়ের সেই জায়গাটাতে জোরসে একটা কামড় বসিয়ে দেয়, আর মনা 'আহ!' চিৎকারে হাত দিয়ে বুড্ডাকে একঝটিকায় সরাতে গেলেই সে ঝাটকা খেয়ে দড়াম করে মেঝেতে পড়ে যায়, আর গলা ফাটিয়ে কান্না জুড়ে দেয়। 'আহহা আহহা' করতে করতে বুড্ডাকে কোলে তুলে, মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করতে করতে পাশের রুমে গিয়ে ল্যাপটপে গেইমস খেলতে বসলো দু ভাইবোন। মনার কালকের পরীক্ষাটা তাহলে মাটিই হলো বলতে হয়। কিন্তু বুড্ডার যে মাথা ফাটে নি, আপাতত সেটাই একটা বড়ো সান্ত্বনা।
২২ এপ্রিল ২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



