একদিন হুটহাট চলে আসবে
আমি অপ্রস্তুত, হয়ত ঘুম থেকেই উঠি নি,
অগোছালো বিছানা, বালিশটা থুত্থুরে বুড়ির মতো
পাতলা, বুক চ্যাপটা; চেয়ারে ঝুলছে ময়লা তোয়ালেটা
ভ্যাঁপসা, উৎকট গন্ধে ঘরটা ভরে আছে
আর এককোণে ফেলে রাখা জাঙ্গিয়াটা
নৈরাজ্যের শেষান্তে পৌঁছে দিয়ে ঘরটা করেছে
অতিথি অভ্যাগতের চরম অযোগ্য
একহাতে নাক চেপে কাঁথাটা টান দিয়ে ঝেড়ে
বারান্দায় ঝুলিয়ে দেবে রোদে; মেঝেতে ঝাড়ু মেরে
কিছুটা সুসভ্য বানাবে ঘরটা, আর আমাকে
‘পুরুষরা কেন এত আইলস্যা হবে' বকতে বকতে
অতীষ্ঠ করে তুলবে - আমি কখনোই ভাবি না, তুমি
ঠিক এরকম পুরোনো সিনেমার রোমান্টিক নায়িকার মতো
ভালোবাসবে আমাকে
আমি জানি না, জিন্সের সাথে লাল টি-শার্ট-পরা
যুবকের দিকে কতখানি মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে থাকে
প্রেমার্থী যুবতীরা।
আমি জানি না, প্রেমিকের কণ্ঠে কবিতা শুনতে শুনতে
গা-ঘেঁষে হাঁটতে থাকা মেয়েটিও কবিতা হয়ে ওঠে কিনা।
কবিতার মতো কোনো এক কমনীয় তন্বীর প্রেমে
কত কত কবিতা লিখেছি, পাণ্ডুর রাতগুলো উড়ে গেলে
বিস্মিত বোধে বুঝেছি – এসব পণ্ডশ্রম,
আর আক্ষেপে জ্বলে গেছি – কেন আমি অযথাই
এত এত প্রেমের কবিতা লিখেছি? কার বরে
আমি তবে আজন্ম এক প্রেমিক কবি?
একজন বেকার, হতাশাগ্রস্ত, ভবিষ্যত-খুঁজে-না-পাওয়া
সন্ধিগ্ধ যুবকের কোনো প্রেমিকা থাকতে নেই।
প্রেম দেবে না কোনো প্রেরণা,
সারাক্ষণ ভাবনাবিলাস তাকে কুরে কুরে খাবে, স্বপ্নের ভেতর
প্রেমিকার হাতে বাদাম খেতে খেতে ক্ষুধায় কোঁকিয়ে উঠবে
আর তখনো লালায় তেতে-যাওয়া বালিশের নোনতা কোনাটা
দাঁতের কবলে অস্থির চিবানোরত
একদিন হুটহাট চলে আসবে, আমার হোস্টেলে, মেসে,
এমন কোনো প্রেমিকাভাগ্য আমার ছিল না। নেই।
যদি পারো, কোনোদিন দেখা হলে বলো,
তোমার কোনো প্রেমিক ছিল কিনা।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০২৩ রাত ৮:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




