somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি [email protected]

প্রব্রজিতার মন

২১ শে এপ্রিল, ২০২৩ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারিদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হতো,
সারি, আর ওর বোনেরা, সাথে একদঙ্গল মেয়েরা মিলে
গলাগলি ধরে জানালা মৃদু ফাঁক করে আমাকে দেখছে
আর চুপিচুপি কত কী বলাবলি করছে, কখনোবা হাসতে হাসতে
গলে পড়ছে একে অপরের গায়ে।
কী স্বাভাবিক ভাবেই না হেঁটে আসতাম সবখানি পথ
অথচ ওদের পথের সীমানায় ঢুকতেই মনে হতো, ওই তো,
জানালাটা খুব ধীরে ধীরে ফাঁক হচ্ছে, আর ওপাশেই ওরা
কলাবরিষ্ঠা, লাস্যময়ী লীলাবতীগণ
লজ্জায় ওদিকে তাকাতে পারতাম না, মাথা নীচু হতে হতে
মাটি ছুঁয়ে যাবে, এমনটা মনে হতো
আর তখন থেকেই বুঝেছিলাম – লজ্জা পুরুষের উত্তম ভূষণ,
বিশেষ করে অন্তর্মুখী উঠতি যুবকগণের

সারিকে আমি দেখি নি, না তার মুখ, না শুনেছি তার কণ্ঠ কোনোদিন

আজও, এতযুগ পর যখন সারিদের বাড়ির পাশ হেঁটে দিয়ে যাই,
আলগোছে নেমে আসে মাথা, মাটির কাছাকাছি যেন,
যেন খুব নিবিড় ফিসফাস শব্দমঞ্জরী
বাতাসে ভেসে আসে ওখানে ঐ জানালার ফাঁক গলে

অথচ কী নিদারুণ গল্প রচনা করে সারিরা এ বাড়ি ছেড়ে গেছে
আরও তিনযুগ আগে, কোনোরূপ ঠিকানা না রেখেই

দৈবাৎ আপনি কখনো ওপথে গেলে হয়তবা দেখবেন
জঙ্গলে ছাওয়া একখানি পোড়ো বাড়ি, হয়তবা কোনো চিহ্নই
দেখতে পাবেন না কোথাও

আমি জানি না, কী ছিল সারিকার মনে, আমার জন্য প্রেম
নাকি অহেতুক গুচ্ছ গুচ্ছ কৌতূহল। কিন্তু আমি সুনিশ্চিত জানি,
যদি কোনোদিন পথে যেতে যেতে হঠাৎ ডেকে উঠতো সারিকা,
মুখচোরা এক প্রেমিক সেদিন হঠাৎ সবেগে দৌড়ে যেয়ে
জানালার পাশে, ক্ষিপ্র সাবলীল স্বরে বলে উঠতো,
‘তুমি কি কবিতা ভালোবাসো, সারিকা?
তাহলে এই নাও, এই দেখো, তোমার নামে কত্ত কবিতা!
যবে থেকে আমায় দেখতে এ জানালা থেকে, তারপর
একটাও বিপ্লবের কবিতা লিখি নি, একটাও দ্রোহের কবিতা লিখি নি,
নিরন্তর আমি প্রেমের কবিতা লিখেছি থরে থরে পাতায় পাতায়।
আমি এক প্রব্রজিত কবি, প্রেম চাই তোমার সকাশে।
আমাকে প্রেম দাও, সারিকা।’

২১ এপ্রিল ২০২৩
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৩ সকাল ১১:৫৯
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×