somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষণজন্মা অপাঙ্‌ক্তেয়রা-৩

১৪ ই আগস্ট, ২০২৩ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হারিয়ে যাবি যদি

তুই কি আমার নীল-উচাটন পাখি?
বুকের ভেতর তোর বেঁধেছিস বাসা
অন্য কোথাও শান্তি যদি পাবি
এই বুকে তুই কেন করিস
নিত্য যাওয়া-আসা?

বুকের ভেতর বাঁধলি বাসা কেন
পাখি আমার হারিয়ে যাবি যদি?
অন্য কোথাও শান্তি যদি পাবি
আমার কেন করলি দু চোখ নদী?

মার্চ ২০০৭


সোনাবুড়ির কথা

সোনাবুড়ির আঁচল টেনে হাঁটি
সোনাবুড়ির মায়াঞ্জনা ছায়া
সোনাবুড়ির স্নেহস্পর্শ সুধা
সোনাবুড়ির কুন্তলে সুখনদী

সারাবেলার কাজের ভেতর বহে
সোনাবুড়ির সঞ্জীবনী ধারা
আমার পিঠের জমিনখানি জুড়ে
সোনাবুড়ির চোখের তারা জ্বলে।

মার্চ ২০০৭


অ-সুখের মৃত্যু

আজ যদি ঝুমবৃষ্টি হতো আমার এ শহুরে গ্রামটায়
বৃষ্টির ঘ্রাণ মেখে দিতাম তার সারাটা গায়
তারপর তাহারে বলিতাম, সত্যিকারেই যদি দিতে চাও
যা তুমি দাও নি আজও, সে মহার্ঘ আজ আমারে দাও।
আর যদি না দাও সখী, তবে
জেনে নাও, তোমার কবির আজই অ-সুখে মৃত্যু হবে।

৩ আগস্ট ২০০৮


মহাকাব্য

একজন পুরুষ আরাধ্য নারীকে না পেয়ে কবি হয়ে ওঠেন; আর পেয়ে গেলে
ঋষভ হয়ে যান। একজন নারীকে কিছুই হারাতে হয় না।

একজন পুরুষ আজীবন হাহাকার করেন নারীর জন্য। পুরুষেরা অসহায়।
আমরা নারীদের হাহাকার শুনি না, এত সুখ;
শুধু ট্রয় নগরী ধ্বংস হবার ইতিহাস পড়ি– নারীদের জন্যই।

২২ সেপ্টেম্বর ২০০৯


প্রেমধর্ম

পুংসকধর্মে কোনো প্ল্যাটনিক প্রেম নেই

যৌবন শেষ হয়ে গেলে যে প্রেমের উন্মেষ
তার চেয়ে খাঁটি ও স্বর্গীয় আর কিছু হয় না

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০


বনস্পতি

তোমার সুমধুর ঘ্রাণ অনুপম জীবনের খুলে দেয় দ্বার
প্রত্যেক পদক্ষেপে
প্রতিদিন প্রগাঢ় প্রেম দাও সুস্নিগ্ধ আগুনের ভাঁজে
আমি এক অন্ধ শিকারি- আদিগন্ত চেয়ে রই তীব্র অপলক

অমিত প্রেম দাও, ভরপুর তুমুল রহস্যের সন্ধান দিলে না আজও

১৬ মার্চ ২০১০



লোকটা এ শহরেই থাকেন...

তাঁর কোনো পরিচয় নেই; প্রয়োজন নেই
ওসব সামাজিক ডামাডোলে; পুরোটা শহর
তাঁর নামের শরীরে ভর করে বেঁচে থাকে
আর রাতদিন বয়ে চলে বুড়িগঙ্গার ক্ষয়িষ্ণু
আয়ুর সাথে পচন ও পতনের দিকে। লোকটা
এ শহরে থাকেন বটে, তাঁর সত্যিকার
নামধাম আমরা জানি না; তাঁর আদিবাস কোথায়,
কবে তিনি প্রথম এ শহরে রেখেছিলেন পা,
কী উদ্দেশ্যে, আমরা জানি না।

১৭ মার্চ ২০১০



অন্তর্যামী

বনের বাঘে খায় নি তাকে,
বাঘ ছিল তার মনে।
রোদের আলোয় যায় কি দেখা
কী ব্যথা দংশনে?

কোথায় তাকে খুঁজবে বলো,
কোন দেশে, কোন বনে?
কেউ জানে না কার মনে কার
বসত সঙ্গোপনে।

১৮ এপ্রিল ২০১১




মাকে আমার মনে পড়ে

মাকে আমার মনে পড়ে,
দূরবিভূঁইয়ে রাতদুপুরে
মাকে আমার মনে পড়ে
সারাবেলা, ভুলে গেলেও
মাকে আমার যখন তখন মনে পড়ে,
সকল কাজে, অচেতনে
মা রয়েছেন অনেক দূরে, চোখের নীরে
দারুণ কালে মাকে কেবল
মনে পড়ে! মনে পড়ে!

১৩ মে ২০১২



নাটাই

তোমার হাতেই ধরা দেবার কথা ছিল
ঘুড়ির নাটাই তোমার হাতেই ধরা ছিল

তোমার কত শক্তি ছিল বোঝো নি তা
টের পেলে না ঘুড়ির সুতো ছিঁড়ে গেলো

এমন জনম আর হবে না জেনে রেখো
আপন মনে এখন ভুলের মাশুল গোনো

৯ মে ২০১০ রাত ১:৩৫



দোহার

মাঝিদের বাড়ি, তাঁতীদের বাড়ি
গোয়ালার বাড়ি, চাষাদের বাড়ি
সবগুলো বাড়ি গলাগলি ধরে
বসে আছে সারি সারি

কোথাও শাবুক মেঘুলা-দোহার
কোথাও বা চর পদ্মার পার
সবচেয়ে বড়ো জয়পাড়া হাট-
চৌধুরীদের বাড়ি

পশ্চিমে বহে পদ্মা জননী
পুবে আড়িয়াল বিল
দোহারবাসীকে ধন্য করেছে
জীবনেরে গতিশীল

৩০ অক্টোবর ২০১২



তোমার কথা

তোমার কথা কি শেষ হয়ে গেছে
নাকি আরো কিছু ছিল?
সে কথা জানিতে আরও কতকাল
রহিব উন্মুখিয়া?

যদি না বলিবে কেন আশা দাও
নানা ছল-চাতুরীতে?
তুমি যা বলিবে, অন্তর মম
বুঝেছে তা বহু আগে।

১ নভেম্বর ২০১২




যদিও কিছুটা কবি
আসলে পুরোটাই কূলটা, অমানবী।
তবুও ভালোবেসে ফেলি; তারপর ঝাঁপ দিই সমুদ্দুরে
পেছনে আমার ঔরসজাত হাসে তোমার আগর্ভ শরীর জুড়ে।

৮ জানুয়ারি ২০০৯





প্রেম না হলে কবিতা হবে না

প্রেম থাকলেই কবিতা, কষ্ট কিংবা সুখে
শব্দ ভেঙে ভেঙে শব্দের ভেতর সমুদ্র

কবিতা ধেয়ে আসে ক্ষুধার্ত বাঘিনীর মতো
প্রেমের শিরদাঁড়া বেয়ে।
কবিতা মরে যায় কবিতা ঝরে যায় কবিতা শুকিয়ে কাঠ হয়
প্রেম চলে গেলে।

প্রকৃত প্রেম দহনে। দহনের কবিতাই প্রকৃত কবিতা।





আপনার প্রকৃত লিঙ্গপরিচয় আসলে কোনটি?

একই আদলে কবিতা ও গল্প
বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের ধরনও অভিন্ন
প্রায়শ ছায়া, কদাচিৎ স্বরূপে; অথবা উলটোটাই খাঁটি
সর্বজনবিদিত এ কথা- সওয়াল-জবাব আপন-আপন দোঁহে
সুচতুর খেলা

তুমি তবে ভার্চুয়াল নারী- তোমার দেহভাঁজে ফণা তোলে আগুনের সাপ-
আমিও কি কম আছি সেয়ানা ওঝা? এসো আজ জলে ডুবে
ভার্চুয়াল রমণের প্রিয় খেলা খেলি।

২৫ মে ২০০৯





বুঝি না কে সরকারে এলো, কে হারালো গদি
মাসের বেতনে চালডালসবজি চাই, বাচ্চার গুঁড়ো দুধ,
কোনোরূপে খেয়েপরে ধারদেনাহীন একটি মাস
ঘরে বিদ্যুৎ চাই প্রয়োজনমতো, চুলোর জ্বালানি চাই
পানীয় পানি চাই, ধোয়ামোছা হাঁড়ি ও শরীর
চাই যানযটমুক্ত রাস্তাঘাট, ধোঁয়াহীন বিশুদ্ধ বাতাস
আমাদের বেঁচে থাকবার ন্যূনতম চাহিদাগুলো মিটিয়ে দিন,
হে সরকারাধিপতিগণ
তারপর আপনারা গদি কাড়াকাড়িতে মশগুল হোন

আমরা নিতান্ত আমজনতা। বেঁচে থাকবার প্রচেষ্টাই
আমাদের নিকটতম সংগ্রাম

২২ অক্টোবর ২০০৯



সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২৩ রাত ১০:২৫
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×