[এক]
বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর অনেক জনসভায়, সেমিনারে বলতে শুনেছি- "আমরা জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, কালোবাজারী, দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেইনা।"
এখন আমার খুব খটকা লাগে, যখন টিভি, পত্র পত্রিকায় সংবাদ গুলো দেখি।
ডজনখানেক মামলার আসামী শামীম ওসমান কে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়, (টিভিতে শামীম ওসমানের বিবৃতি শুনলে মনে হয় তিনি একজন পীর-দরবেশ)। অথচ সিটি কর্পোরেশনের এই নির্বাচন গুলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ থাকাই বাঞ্চনীয়। আর সেখানে নির্বাচনী আচরনবিধি ভঙ্গ হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা যায়, অস্ত্র মামলায় শামীম ওসমানের জামিন দেয়া হয়। (সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ২০০২ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর সময়ের মধ্যে শামীম ওসমান তার লাইসেন্স কৃত বন্দুক সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়নি। এ কারণে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই জামাল উদ্দিন মীর বাদি হয়ে ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারী শামীম ওসমানকে আসামী করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। [www.dundeebarta.com] )
[দুই]
যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন তার নিজের কোম্পানী সাকোকে (সৈয়দ আবুল হোসেন এন্ড কোম্পানী) পদ্মা সেতুর পরোক্ষ কমিশন এজেন্ট হিসাবে ব্যাবহার করার অভিযোগ করেছে বিশ্ব ব্যাংক ।
আবুল হোসেন প্রাক যোগ্যতা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ করাতে প্রাপ্ত কাজের মূল্যের একটি অংশ সাকোকে দেয়ার প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাকোর প্রতিনিধি প্রেরণ করেছেন এবং প্রস্তাব না মেনে নিলে সে প্রতিষ্ঠান গুলোকে দেখে নেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন বলে বিশ্ব ব্যাংক অভিযোগ করেছে। বিশ্ব ব্যাংক আরো জানিয়েছে যে যোগাযোগ মন্ত্রী হবার পর তিনি সাকো থেকে পদত্যাগ করলেও তার স্ত্রী ও দুই কন্যা পরিচালনা পর্ষদে আছে।
[http://new.ittefaq.com.bd/news/view/48730/2011-10-13/1]
কিন্তু বর্তমানে যোগাযোগ মন্ত্রী সম্পর্কে অনেক প্রশংসা বাক্য শুনছি। তিনি দুর্নীতি করেন নাই, দুর্নীতি করেছে বিএনপির আমলের যোগাযোগ মন্ত্রী।
ভালো কথা, যেই সেটা করুক না কেন, এতো কার্পণ্যতা কেন।
উচ্চ পদস্থ মন্ত্রীরা টিভি-শো গুলোতে চিবিয়ে চিবিয়ে অনেক কথা বলেন, সংসদে অনেক সময় নষ্ট করেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একটা কথাও বের হয়না কেন? আমরা আর কতদিন এভাবে ঘোর-এর মধ্যে থাকব।
[তিন]
ইদানিং বিএনপির অতিমাত্রায় বেফাস কথাবার্তা শুনছি মিডিয়া গুলোতে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়না, এক সময় তা বের হয়ে আসে। যুদ্ধাপরাধীদের জন্য এতো মায়াকান্না, এতো সুপারিশ কেন! ৭১-এ এরা কিনা করেছে। ৭১-এর যুদ্ধ দেখনি, আমি আমার বাবার কাছে যুদ্ধের বিভৎসতার কথা শুনে সেই দিন থেকে ওদেরকে মনে প্রাণে ঘৃণা করি। ওদের বিচার অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।
[চার]
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কিছু বলার নেই। আমরা জনগন সরকারকে বিশ্বাস করাব কি করে। বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে। কিন্তু বাজারে গিয়ে কোন কিছুতে হাত দেয়া যায়না।
বানিজ্যমন্ত্রীই ঠিক, বাকী সব মিথ্যা!!
[পাচ]
আমাদের যোগ্য মন্ত্রীরা আমাদের মতো অযোগ্য নাকরিকদের জন্য যে উন্নয়ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, জাতি হিসেবে আমরা তাই কৃতজ্ঞ তাদের কাছে।
খুশিতে তাই...ছোট বেলার একটা ছড়া মনে পড়ছে:
"দু:খ ভেবে পাচ্ছি,
গম ও আটা খাচ্ছি-
সুখে কি আর নাচ্ছি!
রসুলপুরে মামার বাড়ি,
হালে নানীর শূন্য হাড়ি-
পুকুরের মাছ- ক্ষেতের ডাল,
কেমন প্রবাদ আজকাল!"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



