সাম্প্রতিক সময়ে নৈতিক বিপর্যয়ের পর এলিট ফোর্স র্যাব কে কৌশলগত ভাবে কিছু মৌলিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একনজরে দেখে নেই র্যাবের সাতটি মৌলিক দায়িত্বঃ
১। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত,
২। সশস্ত্র জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আটক করা,
৩। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ-বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সব ধরনের অবৈধ দ্রব্য উদ্ধার করা,
৪। অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করা,
৫। গোয়েন্দা তথ্য সংগহ করা,
৬। সরকারি নির্দেশে যেকোনো অপরাধের তদন্ত করা এবং
৭। যেকোনো ধরনের সরকারি দায়িত্ব পালন করা।
৬ নং পয়েন্টঃ
৬ নং পয়েন্ট নিয়ে আমার ইন্সটিটিউশনাল ডিস্পুট আছে, সরকারি নির্দেশে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান "যেকোনো অপরাধের" তদন্ত করতে পারে না। বরং একটি মামলার কন্সিকিউন্সে এবং আদালতের নির্দেশে করতে পারে। এখানে পুলিশী তদন্তের কথা বলা হছে, অন্য প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের ব্যাপারে না। আমরা বলছি অপরাধা সংঘঠন কে মামালার আওতায় এনে পরেই পুলিশ কে জড়াতে হবে তদন্ত কাজে। এভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে "যেকোনো অপরাধের" তদন্ত করার দায়িত্ব (বিশেষ করে মামলা না করে) সরকার একটি এলিট ফোর্স কে দিতে পারে না। সরকার "অপরাধের অভিযোগে" রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত করতে পারে, সেটা করতে ডিকটেটিভ ব্রাঞ্চ রয়েছে। কিন্তু অপরাধ সঙ্ঘঠিত হয়ে গেলে মামলা দিয়েই যে কোন প্রসেস শুরু করতে হবে। অর্থাৎ "হয়ে যাওয়া অপরাধ" এবং "অপরাধের অভিযোগে" এই দুটি কে আলাদা করতে হবে। প্রথমটির প্রসেস শুরু হবে মামলার মাধ্যমে আদালতের হাত ধরে। দ্বিতীয়টি সরকার এবং যে কোন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন) প্রয়োজন মাত্রই ট্রিগার করতে পারে। ""সরকারি নির্দেশে যেকোনো অপরাধের তদন্ত করা"" এই ধরনের অবারিত দায়িত্ব একটা এলিট ফোর্স কে দেয়া যায় না। তাইলে নিয়মিত ফোর্স এর ফাংশনালিটির প্রয়োজন থাকে না।
বরং আদালত কে বলে দিতে হবে সরকারি নির্দেশে কি কি ধরনের অপরাধের তদন্ত করা যাবে, সেই সব তদন্ত রিপোর্ট কিভাবে আদালত, সরকার এবং নাগরিকের সামনে পেশ করা হবে। অর্থাৎ সেই সব কাজে কিভাবে তারা (এলিট ফোর্স) নাগরিকের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে।
৭ নং পয়েন্টঃ
৭ নং পয়েন্টে আবারো র্যাব কে পুরাপুরি দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছে।
"যে কোন ধরনের দায়িত্ব" মানে কি? একটি দলীয় সরকার কখনও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যে কোন দায়িত্ব দিতে পারে না। এই যে কোন মানে হোল রাজনৈতিক এজেন্ডা।
এর মানে হতে পারে এত দিন যেসব অপকর্ম হয়েছে, তার সবই অব্যহত থাকবে, কিন্তু খুল্লাম খুল্লা হবে না, নিয়ন্ত্রিত হবে, গোপনীয়তায় হবে।
দায়িত্ব এ ধরনের হলে সেটা আর মৌলিক থাকে না, কমপ্লেক্স মানে যৌগিক হয়ে যায়, যার ধকল নাগরিক কে পোহাতে হয় অত্যাচার, অর্থ কিংবা রক্ত দিয়ে।।
৬ নং পয়েন্টে আদালতের যুক্তিযুক্ত নির্দেশনা চাই।
৭ নং পয়েন্টের রাজনৈতিক ভান্ডামীর পুরাপুরি বিলোপ চাই।
সরকারের সক্ষমতার একটা সীমানা সমসময়ই আছে, এই সীমা সংবিধান নির্ধারিত। এককেন্দ্রিক ক্ষমতার অনৈতিক এবং অনিয়মতান্ত্রিক আঁধার হিসেবে প্রধান্মন্ত্রীর কার্যালয় যতই আবির্ভূত হোক না কেন, তাকে রাষ্ট্রের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের স্বীকিয়তা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতা মেনে নিতেই হবে। সরকারের ক্ষমতার সীমানা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের সক্ষমতা কে অতিক্রম করতে পারবে না। যদি সরকার অন্য প্রতিষ্ঠানের উপর অনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আদালতকে সেটা পর্যবেক্ষণ করে রুল দিতে হবে। অন্য প্রতিষ্ঠান ও তাদের নিজ নিজ ক্ষমতার চর্চা করবে যাতে নাগরিকের কাছে তাদের একাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত হয়।
সরকার অনৈতিক হস্তক্ষেপ করলে যে কোন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আদালতের কাছে তাঁর সাংবিধানিক সুরক্ষা চাইতে পারে। এই চর্চা আমাদের দেশে বিরল। দুরব্রিত্তায়িত সমাজে অনৈতিক সরকারি হস্তখেপের লাগাম টেনে ধরতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোকে নাগরিক অধিকার রক্ষায় বিবেক দাঁড়াতে হবে। আমাদের দেশে আজ এর বড় প্রয়োজন।
অন্যভাবে বলতে হয়, আমাদের দেশে সরকার গুলো আইন-আদালত, প্রতিষ্ঠান এবং নিয়মতান্ত্রিকতার উপর করতিত্ব পরায়ন হয়ে উঠেছে, তাই আমাদের কোন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দাড়াতে পারছে না বিশেষত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোরই দুর্বলতার সুযোগে। আদালত, নির্বাচন কমিশন, আইন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, কর্ম কমিশন, পরিকল্পনা কমিশন ইত্যাদি সবার স্বকীয় সত্তায় আবির্ভূত হয়ে উঠার উপর দেশের উন্নয়ন আর নাগরিকের ভাগ্য পরিবর্তন নির্ভর করে।
[/sb
পরিমার্জিত ২৭.০৫.২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


