somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ টাকা কেজি দরের চাল, ভাতা দেয়ার দুর্নীতিমুক্ত টেকসই পদ্ধতি এবং দারিদ্র বিমোচনের টেকসই বিকল্প

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক। ১০ টাকা কেজি দরের চাল এবং ১৯৭৪
""'ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ' এর মত মহৎ ভীষণ নিয়ে সরকার দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে ​​১০ টাকা কেজিতে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দিবে। প্রতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর- এই পাঁচ মাস কর্মসূচির আওতায় চাল পাবে পরিবারগুলো। প্র‌তি কে‌জি চাল ৩৭ টাকা দ‌রে কি‌নে ১০ টাকা দ‌রে হতদ‌রিদ্র‌দের হাতে তু‌লে দেয়ার মধ্য দি‌য়ে প্র‌তি কে‌জি চা‌লের ওপর ২৭ টাকা ভর্তু‌কি প্রদান কর‌বে সরকার। এর ফ‌লে সরকার‌কে প্র‌তি বছর দুই হাজার একশ' কো‌টি টাকা ভর্তু‌তি দিতে হ‌বে।​""

১৯৭৪ এ ​​হাভাত এবং দুর্ভিক্ষ পড়ীত মানুষকে লুকাতে, মানুষ এবং কুকুরের খাদ্য ভাগাভাগির মত বাস্তবতার প্রতীকী চিত্র বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর থেকে সরাতে মানুষকে জোর করে লঙ্গর খানায় না ঢুকিয়ে, ​​ক্ষুধাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে এমন উন্মুক্ত উদ্যোগ নিলে দেশ হয়ত অনেক নৈরাজ্য থেকে নিস্তার পেত, নিস্তার পেত দুর্ভিক্ষ কবলিত লক্ষ লক্ষ নাগরিকের প্রাণহানি থেকে।

খ। স্থানীয় সরকারের ভাতা কার্যক্রমঃ
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের একেবারে প্রাথমিক এবং তৃণমূল ইউনিট ​​'ইউনিয়ন পরিষদ' এর ঋণ এবং ভাতার সুবিধা সংক্রান্ত কার্যাবলী অসাধারণ। এক নজরে দেখে নেয়া যাক!

১। প্রতিবন্ধী ঋণ দান
২। বয়স্ক ভাতা প্রদান
৩। প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান
৪। প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান
৫। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদান
৬। বিধবা ভাতা
৭। এসিডদগ্ধ প্রতিবন্ধী স্কীম
৮। ​ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং বা ভিজিএফ কার্ড
৯। মাতৃত্বকালীন ভাতা
১০। ভিজিডি, বি আর বি ডি
১১। ​​একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ঋণ বা ভাতা

এর বাইরে রয়েছে "টি আর" এবং কাবিখা'র মত নিয়মিত কর্মসূচী। (লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট প্রান্তিক চাষিদের সহায়তা দিতে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এর মত মহৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রতিষ্ঠান।

অর্থাৎ একটি মহৎ উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক প্রান্তিক সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ সাধনের নিমিত্তে স্থানীয় সরকারের ভাতা কার্যক্রম গুলো সময়ে সময়ে সংযোজন করা হয়েছে যাতে সমাজ ক্ষুধা এবং দারিদ্র মুক্ত হতে পারে। ​এই ক্রমে সর্বশেষ আশাজাগানিয়া সংযোজন "১০ টাকা কেজির চাল"।


গ। কিন্তু বাস্তবতা কি বলে?
এত সব মহৎ উদ্যোগ থাকার পরেও ক্ষুধা এবং দারিদ্র কমছে না কেন? কেন প্রান্তিক নাগরিকেরা বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণের দায়ে জর্জরিত এবং নিজ বাসভূম থেকে পলায়নপর! আসলেই এই ভাতা গুলোর সুবিধা কারা নিচ্ছেন! ​হাভাত এবং দুর্ভিক্ষ​ জনিত কারনে ১৯৭৪ এ কম বেশি ১০ লক্ষ নাগরিক​ মারা যাবার পরেও এই ক্ষুধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে এবং তা ডিফেন্ড করার জন্য সাস্টেইনেবল কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতে কেন আমাদের ৪২ বছর লেগে যাচ্ছে! সত্যিকারের টেকসই বিকল্প এখনো আসছে না কেন?


এই ২০১৬ জুন এবংজুলাইয়ে, নিজ ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত তরুণ চেয়ারম্যানের ট্রেনিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট পারপাজে স্থানীয় সরকারের কার্জক্রমের উপর একটি সহায়িকা তৈরি করতে গিয়ে ​'ইউনিয়ন পরিষদ' এর ঋণ এবং ভাতার সুবিধা সংক্রান্ত​ ​অসাধারণ​​​ ​কার্যাবিবরনী​ দেখে অভিভূত হই​, একইসাথে এই ভাতার ভুক্তভোগী কারা তার উপর একটি অনুসন্ধান চালাতে উৎসাহী হয়ে উঠি, গ্রামে থাকায় ব্যাপারটি খুবই সহজ এবং ইন্টারেস্টিং ছিল। আউটকাম খুবই হতাশার, প্রথমত দলীয় কর্মীদের যাবতীয় নতুন ভাতার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়, পুরানোদের যারা নির্দলীয় এবং অসহায় তারা তালিকা ভুক্তির পরে ২-৩ মাসের বেশি ভাতা পেয়েছেন বলে কেউ তথ্য দেননি। একজন প্রতিবন্ধী সন্তানের মা জানিয়েছেন তিনি ৩ মাস ১০০ টাকা করে পেয়েছেন এবং উনার অনেক টিপ সই নিয়ে নেয়া হয়েছে। এখানে আরো উল্লেখ্য একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ঋণ স্রেফ শতভাগ দলীয় নেতা কর্মী তোষণের প্রকল্প।

আশা করি রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়নের তৃণমূল পর্যায়ের পেনীট্রেশনের বাস্তব বিভীষিকা বুঝতে পারছেন। উল্লেখ্য লুটপাটকে অবাধ এবং সহজ করতে ২০১৫ সাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরাসরি দলীয় প্রতীকে আনা হয়েছে, এতে সম্পদ এবং ভাতা বন্টনের চ্যানেল শুধু মাত্র দলীয় গন্ডিতে থাকতে পারার নিশ্চয়তা এসেছে । এখানে আরো উল্লেখ্য স্বাধীনতা পরবর্তিতে সম্পদ এবং ভাতা বন্টনের মডেলকে ভেঙ্গে নির্বিচার জাতীয়করন এবং দলীয় লূটপাটের যে মডেল কায়েম হয়েছিল সরাসরি দলীয় ম্যান্ডেটের স্থানীয় প্রশাসন তাকে উর্বর করবে নিঃসন্দেহে!


ঘ। ভাতা দেয়ার টেকসই মডেল কি?

​১। বিচ্ছিন্ন ভাবে সময়ে সময়ে পরিবর্তন করার উপযোগী ভিন্ন ভিন্ন সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া ভিত্তিক ভাতা ভোগীর তালিকা (রাজনৈতিক দুরবিত্তায়িত) তৈরি, দলীয় ডিলার ভিত্তিক চাল সংগ্রহ (সারের এবং খাদ্য মজুদের বেলাতেও) এবং চেয়ারম্যান-মেম্বার ভিত্তিক বরাদ্দ প্রক্রিয়ার পুরোটাই লুটপাটের অনুকূলে সাজানো। রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির এই প্রকল্প গুলো আসলে দলীয় নেতা কর্মীদের পকেট পুরানোর রাজনৈতিক প্রকল্প।
বিপরীতে স্থায়ী ক্রাইটেরিয়ার অরাজনৈতিক মডেলে দরিদ্রের তালিকা করে কিংবা ন্যায্য সুবিধা ভোগীর তালিকা করুন। ডিলারশীপ উন্মুক্ত করে সেখানে ব্যক্তি কৃষকের উৎপাদনের অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করুন, একই ব্যবস্থা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত খাদ্য সংগ্রহের বেলায়ও প্রযোজ্য!

২। খাদ্য এবং ভাতা বরাদ্দ প্রক্রিয়া অরাজনৈতিক, ব্যাংকিং চ্যানেলে অটোমাইজ করুন।

৩। ভাতা, ঋণ এবং খাদ্য বিতরণ স্বাধীন বেসরকারি অডিটের আওতায় আনুন এবং অডিটের উঠে আসা জালিয়াতি অটোমেটিক ভিত্তিতে শাস্তির গন্ডিতে নিয়ে আসুন।


তবে কথা হচ্চে বর্তমানে যেভাবে নেতা কর্মীদের মাঝে বিতরন হচ্ছে - প্রস্তাবিত এই চ্যানেল ও প্রক্রিয়া চালু হবার পরে বর্তমান সুবিধায় অভ্যস্ত সুবিধাভোগীরা কোন না কোন ভাবে ঠিকই পুষিয়ে নিবার চেস্টা করবে। এটা ঠেকাতে হলে অটোমেশন প্রসেসে ম্যানুয়াল ইনপুট দেয়া কিংবা ম্যানিয়াল ইন্টারভেনশন রাখার মত অটোমেশন সফটওয়্যার ডিজাইনের চলমান প্রথা গুলো এলিমিনেট করতে হবে। টেকনোলোজির বাস্তবায়নে দুর্নিতির টুটি চেপে ধরা যায়, দরকার রাজনৈতিক সততা এবং ইচ্ছা।

৪। তবে স্থানীয় সরকারের রাজনীতিকরণ (পড়ুন ধ্বংস) থেকে বেরিয়ে না আসলে টেকসই সমাধান কঠিন। তাই বিকল্প হিসেবে আর্থিক সক্ষমতার স্টান্ডার্ড কিছু ইন্ডীকেশনের (চাকুরি, জমি, বসত ভিটা, স্থাবর এবং অস্তাবর ব্যাংক সম্পত্তি) এইসবের নিচে থাকা সব নাগরিককে (সর্ব দলীয় এবং নির্দলীয় সাধারণ) ইন্ডিস্ক্রেমিনেটলি সাধারণ গণ রেশনের আওতায় আনা যায় উপরোক্ত ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে। এতে বাজেট বরাদ্দ বেশি দিতে হবে কিন্তু দুর্বিত্তায়ন কমে আসবে। দেশের মধ্য-উচ্চ বেতন এবং মান্সম্পন্ন আবাসন সুবিধাভোগী সেনা এবং পুলিশ রেশন পায় কিন্তু দেশের বস্তিবাসী এবং কৃষকরা পায় না, এটা ডিস্ক্রিমিনেশন যার এলিমিনেশন দরকার।

৫। প্রস্তাবিত রেশন দিবার পদ্ধতিও আটোমাইজ করাঃ
প্রথমেই ভিজিএফ/রেশন কার্ডের কন্সেপ্ট থেকে সরে আসতে হবে, ফিঙ্গার প্রিন্ট বেইজড সিটিজেন ডেটাবেইজ রয়েছে আমাদের। দরকার সেখানে এড্রেস ভেরিফিকেশন সমন্বিত করা এবং সেখানে আর্থিক সক্ষমতার তথ্য (ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা) ইঙ্কোওপারেট করা। যাবতীয় ভাতা ন্যাশনাল কার্ডের বিপরিতে আসবে, এর তথ্য লোকালি টেম্পার করা না বরং সেন্ট্রালি রেশন এবং ভাতা প্রাপ্তির লিস্ট কনট্রোল করা যাবে এবং যা ওয়েবে এবং টেলি মেসেজে ওপেন থাকবে। রেশন কার্ড তৈরিতে স্থানীয় জন প্রতিনিধির স্বাক্ষর এবং মানহীন তথাকথিত পেপার ওয়ার্ক্স যার অধিকাংশই জাল হয়, রাখা যাবে না।

ঙ। টেকসই দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী বনাম টেকসই ভাতা প্রদান কর্মসূচীঃ

ক্ষুধাকে ডিফেন্ড করার প্রাথমিক লেভেলের পদক্ষেপ হিসেবে ১০ কেজি দরের চাল বিতরণের প্রকল্প গুরুত্ব পূর্ণ তাই এটিকে দুর্নিতিমুক্ত এবং টেকসই করতে হবে। তবে ক্ষুধা এবং দারিদ্র দূরীকরণের জন্য স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বলা হয়েছে, ​“হতদরিদ্রদের মাঝে বছরে পাঁচ মাস এই চাল দেওয়া হবে। যখন কাজের একটু অভাব থাকে তখন।” এই উপ্লভধি গুরুত্ব পূর্ন। কথা হচ্ছে প্রান্তিক মানুষ হতদরিদ্র কিভাবে হচ্ছেন তার ব্যাকগ্রাউন্ড গবেষণায় এনে এতদসংক্রান্ত বাকি বুঝা পড়ার ব্যাপার গুলো উপ্লভধি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


প্রেক্ষাপট ১- পানি প্রাপ্তি এবং উতপাদন মূল্য
গঙ্গায় ৩২০০০ কিউসেকের বিপরিতে ২০১৬'র শুস্ক মৌসূমে পানি এসেছে ৭৫০০ কিউসেক করে, যমূনায় এসেছে ৫০০০-৭০০০ কিসুসেকের মত, তিস্তায় অনূর্ধ ১০০০ কিউসেক। ভারতের একচেটিয়া অন্যায্য পানি প্রত্যাহারের প্রেখাপটে গঙ্গা-কপোতাক্ষ এবং তিস্তা সেচ প্রকল্প সহ দেশের নদির পানি কেন্দ্রিক সারফেইস ওয়াটার প্রকল্প গুলো একেবারেই বসে গেছে। গত ২-৩ দশকের কৃষি বিপ্লবে ভূগর্ভস্থ পানির এত বেশি ব্যবহার হয়েছে যে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নীচে নামছে, এক সময় যা উঠিয়ে ফলন করে কৃষক দাম উঠাতে পারবে না।
প্রেক্ষাপট ২- অতি খরুচে রাসায়নিক চাষ, কৃষকের বীজ/সার/কীটনাশক নির্ভরতা এবং ঋণের দায়
নির্বিচার সারায়নিক ফলনে জমির উর্বরতা শেষ হচ্ছে দ্রুত, এতে একই ফলন উতপাদন করতে বেশি সার এবং পতঙ্গ-ছত্রাক নাশক দরকার। অন্য দিকে কোম্পানির হাইব্রিড আগ্রাসনে কৃষকের বীজের জাত নেই, জৈব সারের প্রোমোশন এবং নলেজ নাই। সব ছাড়া হয়ে কৃষকের উতপাদন মূল বেড়েছে অনেক বেশি, বাজার মূল্যে তা উঠে আসে না। তাই কৃষক কৃষিতে ডিস্কানেক্টেড হচ্ছেন।

প্রেক্ষাপট ৩- ঋণের দায়ে ফলন সংরক্ষণ এবং দাম বিচার করে বিপননের সুযোগ কমে গেছে, কৃষককে র'ফলন কম দামে বেচতে হচ্ছে।

প্রেক্ষাপট ৪- কৃষির জমিতে শিল্পের আগ্রাসন এবং চাষের জমি কমে আসা!

অর্থাৎ কোম্পানি নির্ভর কৃষির মডেল (হাইব্রিড জাত, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ) কৃষককে কিংবা ক্ষুদ্র ঋণের মডেলে গ্রামীণ মানুষের হতদরিদ্র হওয়া ঠেকাতে পারছে না বা হতদরিদ্র অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমান নাগরিককে উত্তরণ করছে না। সুতরাং রাসায়নিক কৃষি এবং ক্ষুদ্র ঋণের এর একচেটিয়া কোম্পানি মুনাফা এবং সুদ মূখী মডেল ক্ষুধা এবং দারিদ্র মুক্তিতে টেকসই নয়। উপরন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, ভারতীয় পানি আগ্রাসন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাবার বাস্তবতায় বাংলাদেশের কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মূখে যা হতদরিদ্র নাগরিকের সংখ্যা বাড়াবে বই কমাবে না।

প্রেক্ষাপট ৫- বন্যা, বন্যা ফসলের সাইকেল এলোমেলো করে দিচ্ছে,এটা কৃষি নির্ভর সমাজে দারিদ্র্যের বড় কারণ।


টেকসই দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী

​প্রতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর- এই পাঁচ মাসে বড় ২টি ফসল সাইকেলের গ্যাপ (বা ধান বেড়ে উঠার সময়ে) এবং বন্যা জনিত কারনে কৃষক পরিবারগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান থাকে না। তাই এই সময়ে ভাতা প্রদান প্রাথমিক পর্যায়ের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী হিসেবে গ্রহনযোগ্য। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের স্থায়ী টেকসই বিকল্প ভাবতে হবে।

কৃষির রোটেশন এবং সমন্বয়- বৈচিত্রময় ফলনের আধিক্য, কৃষি ছাড়া অন্য এমপ্লয়মেন্ট অপরচূনিটির যোগ রাখা, সমন্বিত ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, বৃষ্টির পানির সংরক্ষণ, টেকসই বিকল্প সেচ ব্যবস্থা, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা এইসব ঠিক করে পণ্য (কৃষি এবং শিল্পের) উৎপাদন বিপনন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সমন্বিত পদক্ষেপে দারিদ্র মুক্তির স্থায়ী পথ খুজতে হবে।

ট্যাক্স রিবেট দিয়ে বা অন্য আর্থিক-নিরাপত্তা-উন্নত শিক্ষা প্রণোদনা দিয়ে শিল্প এবং ব্যবসাকে বিকেন্দ্রীভূত করাও টেকসই আঞ্চলিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির আধুনিক উপায়।

......
বাইরে স্ট্যান্ট বাজি নির্ভর কিন্তু ভিতরে ভিতরে সরকারি দলীয় কর্মী তোষণের রাষ্ট্রীয় এবং সিস্টেমেটিক অপ প্রকল্প হিসেবে স্থানীয় সরকারের ভাতা প্রদান এবং চাল বিতরণের মত মহৎ প্রকল্প গুলোকে বের করে এনে সত্যিকারের হতদরিদ্রতা ঠেকানোর জন্য দূর্নিতি মূক্ত টেকসই সিস্টেম ডেভেলপ করুন। সেই সাথে ক্ষুধা এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে সত্যিকারের টেকসই বিকল্প বের করুন।

অন্যথায় স্বাধীনতার ৪২ কেন, ৮৪ বছর পরেও মধ্য আয়ের দেশ দাবি করা দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে এক চতুর্থাংশ থেকে এক অস্টমাংশ দামে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে চাল সরবারহ করতে হবে। দেশের অর্থনৈইতিক প্রান্তিক সমাজের ক্রয় ক্ষমতার এই চিত্র মোছন করা হয়ে উঠবে দুঃসাধ্য!

দুর্বিত্তায়ন নিপাত যাক,
ক্ষুধা এবং দারিদ্র পরাজিত হোক,
বাংলাদেশ এগিয়ে যাক!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:০০
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



আমার এক বন্ধু আছে। ধরা যাক, নাম তার করিম। করিমকে একদিন চায়ের দোকানে একজন বলল, “আপনি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?” করিম চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, “ভূয়া হলে লাভটা কী?” লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×