somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমকথন...

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাধ্যমিকে যখন ভর্তি হই, তখনও আমি হাফ প্যান্ট পড়ি । এক কিলোমিটার দুরের স্কুলে পায়ে হেঁটে যাই। বেশ কয়েকদিন যাওয়ার পরই ক্লাসে নতুন মেয়ের আগমন। ওড়না ছাড়া ফ্রক ও হাফ প্যান্ট পড়ুয়া মেয়েটি আমার ক্লাসেই নতুন ভর্তি হল। আমরা সহপাঠি হলাম।

ক্লাসের ফার্স্টবয় ছিলাম। গ্রামের সাধারণ স্কুল। মেধাবী ছিলাম। ক্লাসে প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল না, তাই আমিই রাজা। সারাবছর না পড়েও প্রথম হতাম। এই প্রথম হওয়াতে আমি গর্বিত ছিলাম না। অনেকটা ভেড়ার দলের সরদার মনে হতো নিজেকে। পড়াশোনায় খুব বেশি মনোযোগী না হলেও সারাদিন আড্ডা আর দুরন্তপনায়ই মেতে থাকতাম। ছেলে বন্ধুর তুলনায় সবসময় মেয়ে বন্ধুর সংখ্যা আমার বেশি ছিল। নিজেকে মনে করতাম কন্যা রাশির জনক! ক্লাসের অন্য মেয়েদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সখ্যতা থাকলেও আমি চাইতাম অন্য একজনকে। সেই ফ্রক পড়া মেয়েটির বন্ধুত্ব পেতে সারাদিন পিছু পিছু করতাম। যেচে যেচে ঝগড়া বাধাতাম। বুদ্ধির জোরে সরি বলে নিজের ব্যক্তিত্ব দেখাতাম। ইমপ্রেস করার চেষ্টা করতাম। পড়াশোনায় সে আমার পরেই অবস্থান করতো সবসময়। ওর ছিল বিশাল এক ফলোয়ার। আর আমি তো স্বঘোষিত রাজা! বন্ধু-বান্ধবীর অভাব ছিল না। আমি খুব সাধারণ থাকলেও পড়াশোনায় ভালো থাকায় সবাই একটু এক্সটা খাতির করতো। ভাব জমাতো। আর এভাবেই হাসি ঠাট্টা-ছোট ছোট ঝগড়া, ক্লাসে পড়া পারা না পারা নিয়ে বানানুবাদ, গ্রুপিং করতে করতেই আমরা বড় হতে থাকলাম।

হাফ প্যান্ট ছাড়লাম সবাই। ফ্রক ছেড়ে সে সালোয়ার কামিজ ও দোপাট্টা ধরলো। আমি তাকে খুব গভীর ভাবে দেখতাম সবসময়। ওর টানাটানা দুচোখের চাহনী আমাকে পাগল করতো। ওর মিষ্টি হাসিতে আমি হারিয়ে যেতাম স্বপ্ন সাগরে। গোলগাল চেহারার অসাধারণ সুন্দরী লাস্যময়ী সেই মেয়েটিকে আমি নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেললাম। ক্লাসজুড়ে একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকা, টিফিনের ফাঁকে কমনরুমের জানলা বরাবর তাকিয়ে থাকা, সারাক্ষণ ওর খোঁজ খবর নেয়া, ছুটির দিনে ওকে দেখতে না পারার ব্যাকুলতা আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতো। বারবার প্রশ্ন করতাম নিজের কাছে। অন্তঃআত্মা থেকে উত্তর আসতো তুই ওকে ভালোবেসে ফেলেছিসরে পাগলা..!

সেই থেকে ভালোবাসা শুরু। আমি তাকে ভালোবাসতে থাকি। জৈবিক কিংবা দৈহিক চাহিদা বুঝতাম না। ভালোবাসার পরিণতি কি তাও ভাবতাম না। তবে ভালোবাসতাম তাকে মনপ্রাণ দিয়ে। উজাড় করে। স্কুল জীবনে প্রপ্রোজ ডে চলে গিয়েছে বেশ ক'বার। প্রপ্রোজ করার সাহস আমার ছিল না। তবে ও বুঝতে পারতো আমি ওকে ভালোবাসি। এভাবেই বুঝাতে বুঝাতে আর সে বুঝতে বুঝতেই আমরা মাধ্যমিক পাশ করলাম। এর মাঝে আমিও বুঝতে পেরেছিলাম, সেও আমাকে ভালোবাসে। এবং মন থেকেই। তবে সে চায়না রিস্ক নিতে। গ্রামের রক্ষণশীল পরিবার। জানলেই সোজা বিয়ে দিয়ে দিবে।

শত বাধাবিপত্তি পেরিয়ে আমরা কলেজে পা দিলাম। কলেজ জীবনের শেষের বছরের শুরু থেকে মাঝ পর্যন্ত আমরা দুজন খুব বেশি ভালো ছিলাম। সুখে ছিলাম। তবে যতোটা সুখে ছিলাম, ঠিক উল্টো ততোটাই বরং তারচেয়ে বহুগুণ বেশি পাহাড়সম দুঃখ দিয়ে শেষ হয়েছে আমার কলেজ জীবন, আমার কিশোর বয়সের প্রেমের জীবন। শৈশবে শুরু করে কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের প্রারম্ভে এসেই আমার প্রেমময় জীবন ইতি টেনেছে, স্থবির হয়ে গেছে আমার উড়ু উড়ু মন। ভালোবাসার সেই ফ্রক পড়া ঘুড়িটি ভালো আছে অন্যাকাশে। আমিও ভালো আছি তার ভালোবাসার স্মৃতি নিয়ে... ।

সংযুক্তি: নিজ হাতে আঁকা তার পোট্রেট
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×