somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'ইতি' তোমার কেউ না...!

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২২ শে মাঘ, ১৪২২ বঙ্গাব্দ

মিলি খালা,

কেমন আছ জানতে চাইবো না। কেমন আছ বিষয়টা উপসংহার, সব কিছুর শেষে জানতে চাওয়া উচিত এটা। তাই এতো দিন পরে লিখতে বসে, শুরুতেই শেষটা জানার ইচ্ছে আমার নেই। আমি ধারণাও করছি না তুমি ভালো আছ। কিংবা বলতে পারো, যাঁদের বলার কিছু নেই, তারাই প্রথমে কেমন আছ প্রশ্নটা করে বসে। কথা চালিয়ে যাওয়া দরকার টাইপের। তোমার আমার কথারা তো আকাশ গঙ্গার এপার ওপার সেলাই করে দেয়। আমাদের কথা চালিয়ে যাওয়া দরকার বিষয়টা অপ্রয়োজনীয়।
.
ওই যে তোমার কাঁথা সেলাইয়ের কথা বলছিলাম। আমি সেবার সুঁচটা হাতে নিলাম মাত্র, তুমি দৌড়ে এলে। আচ্ছা তুমি কি ভেবেছিলে আমার হাত ফুটো হয়ে যাবে? তুমি কি সেদিনও আমায় বাচ্চাটাই ভেবেছিলে? একবারও কি আমার গরম নিঃশ্বাস তুমি বুঝো নি? বুঝনি যে আমি বড় হচ্ছি। জানো, এখন মাঝেই মাঝেই জামার বোতাম ছেঁড়ে। আমাকেই সেলাই করতে হয়, কিন্তু তুমি আর দৌড়ে আসো না। আমার শাসিত হবার শখগুলো সুঁতোর পাকে বোতামে লাগিয়ে ফেলি, তুমি আসো না।
.
মিলি খালা, তুমি আমার প্রথম প্রেম, প্রথম কল্পনা। বিষয়টা তুমি হেসেই উড়িয়ে দিবে হয়ত। বলবে, আট বছরে কারো প্রেম হয় রে পাগল? তাহলে একবার আমার জায়গা থেকে ভাবো। এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের একমাত্র বসত উপযোগী গ্রহে এটাই আমার প্রথম জন্ম আর সে প্রথম জন্মের প্রথম প্রেম তুমি। একেবারেই হেলাফেলার না, তুমি ভাল করেই জানো, বুঝ, কেবল ঘুমাতে গেলেই কোলবালিশটা মাঝখানটাতে রাখো।
.

স্কুল শেষে ফুটবল ম্যাচ হয়, আমি খেলি না। খেললেই, ফেরা হয় সন্ধ্যে নাগাদ। ওসময়টা তুমি রান্না ঘরেই থাকো। তাতে লাভটা কি আমার বলো?
.
আমি এখনো বিকেল ভালোবাসি, তোমার আঁচলের তলে সূর্যের অস্ত যাওয়াটা আমি এখনো ভাবি। আমি বউছি খেলতাম, ফুটবল ছেড়ে ওটাতেই আমার ঝোঁক। তুমি যখন আমায় ছুঁতে আসতে, আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। খেলায় মরতাম একবার, আর ভেতরে আমার সহস্র্য কফিন আটলান্টিকে ভাসত। এতো বেওয়ারিশ মৃত্যুকে জায়গা দেবে কোন রাষ্ট্র? কারো পররাষ্ট্র নীতিই এতো সহজ না মিলি খালা।
.
বন্ধুরা আমায় রোজ খেপাতো, বউছি খেলি বলে। ওরা আমায় ‘হাফ লেডিস’ ডাকত। জানো এখনো মনে পড়ে, তুমি শাহাদৎ কে কি চড়টাই না মেরেছিলে, কেবল ও আমায় ‘হাফ লেডিস’ বলেছিলো বলে। সে রাতে আমার ঘুম হয়নি, এদিক ওদিক করেছি কেবল। কোলবালিশের ওপারে শুয়ে হয়ত বুঝও নি।
.
তুমি তো আমার মায়ের বোন ছিলে না, তবুও তুমি কেন আমার খালা হলে, বলতো? শেষদিকে এসে তোমায় খালা ডাকতে যে আমার আপত্তি ছিলো, সেটা কি একবারো বুঝেছিলে? হয়ত এটার উত্তরে আজো বলবে, আমি কি তোর মত এতো পন্ডিত নাকি যে, সব বুঝবো?
.
যেদিন তোমার বিয়ে ঠিক হল, সেদিন থেকে তোমার সাথে আমি একবারো কথা বলিনি! তুমি উতলা ছিলে কথা বলতে, পড়ার টেবিলের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে। মাথায় হাত বোলাতে, আমি বুঝতাম তোমার চোখের কোনে জ্বল, কিন্তু একদিনও ঘুরে দাঁড়াই নি, কেনইবা দাঁড়াবো বলো, তুমি তো কোনদিন, আমার উপর মায়া কর নি।
.
বিয়ের দিন তোমায় একটু সুন্দরও লাগে নি, এক ফোঁটাও না। কি সব হাবিজাবি পরেছিলে। ওই নীল শাড়িটা পরলে না কেন? নীল শাড়িতে তোমায় অদ্ভুত সুন্দর লাগত, একবারে নায়িকাদের মত। জানো, আমার এখন একটা বান্ধবি হয়েছে, জানি তুমি মুখ টিপে হাসতেছ। মিলি খালা, হাসি বন্ধ করবা, নাকি আমি আবার কাঁচি ছুঁড়ে মারবো। মনে আছে তোমার? সেবার যে আমি কাঁচি ছুঁড়ে মেরেছিলাম? তুমি রেগে গিয়ে বলেছিলে, ‘তুই বড় হয়ে ডাকাত হবি, নিজাম ডাকাত।‘ জানো আমি আজও ডাকাত হতে পারি নি, হলে, তোমার ঘরে অনেক আগেই ডাকাত পড়ত। নৃশংস ডাকাতি। ও আচ্ছা, ওই যে আমার বান্ধবীর কথা বলছিলাম, ওর নাম নিলীমা। শাড়ি পড়লে ঠিক তোমার মত লাগে। জানো, যে বার আমি প্রথম তোমার কথা বললাম, ও সে কি রাগ। আচ্ছা, নিলীমার কথা শুনে তুমিও কি রাগ করতেছ?
.
বিয়ের দিন চলে যাওয়ার সময় তুমি কাঁদলে। আমার বিশ্বাস হয় না। তুমি পাক্কা অভিনেত্রী আমি জানি। আচ্ছা, চলে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে চারপাশে কাকে খুঁজতেছিলে? আমি দূর থেকে সব দেখেছি। আমার জন্য এপাশ ওপাশ তাকিয়েছিলে মিলি খালা? বল না, প্লীজ। আমার জন্যে? যদি সেটা আমার জন্যেই হয় তবে, কেন কবুল বললে তখন। তাও একবার না, তিন তিনবার। আমি স্পষ্ট শুনেছি। নিজের কানে।
এরপর যতদিনই তুমি আমাদের বাসায় আসতে আমি পালিয়ে বেড়াতাম। হয়ত খুঁজতে, কিংবা খুঁজতে না। তাতে আমার কি? আমি তোমার কে?
.
কিন্তু শেষ বার পালাতে পারি নি। তোমার নিথর দেহ আসলো সেদিন। শুয়ে আছ তুমি। কথা বলো না। তুমি হয়ত সেদিনও জানো না, আমি কি কান্না টাই করেছিলাম, তুমি বিয়ের দিন যে রকম কেঁদেছিলে ঠিক ওরকম। জানো সেই প্রথম আমি তোমার পাশে শুয়ে পড়েছিলাম, আর আমাদের মাঝে কোন কোলবালিশ ছিলো না।
.
এবার উপসংহারটা সেরেই নেই, কেমন আছ মিলি খালা?
.
ইতি
তোমার কেউ না।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×