somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এটা যদি সত্যি হয়ে যায় তখন আমরা কি করবো ???

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাড়ি ছুটে চলেছে পাকিস্তানের করাচির বুক চিরে। আমাকে এবং শিশিরকে নিয়ে মুশফিক দুষ্টামিতে ব্যস্ত। মুশফিকের স্বভাবই এমন, সে সবাইকে নিয়ে হাসাহাসি করে। আমার পাশেই আছে তামিম। আজ তামিমকে অন্যরকম দেখাচ্ছে। হঠাৎ তামিম বললো, ‘আচ্ছা, আমাদের উপর যদি সত্যিই হামলা হয়?' তামিমকে বললাম ‘ধুর পেঠুক, আমরা বাঘের বাচ্চা, নিশ্চিত মৃত্যু যেনেও পাকিস্তানে খেলতে এসেছি।' পিছন থেকে মাশরাফি বললো, ‘কিছুই হবে না, আমাদের জন্য তো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে।’ তবুও সবার মনে আতঙ্ক। এর মাঝেও মুশফিককে থামায় কে, হেসেই চলেছে অবিরাম।

আমরা এখন স্টেডিয়ামের খুব কাছেই। এনামুল বললো, ‘সাকিব ভাই, যাত্রাতো প্রায় শেষ, মনে হয় বেঁচে গেলাম।’ গাড়িতে সবার মুখেই হাসি, এমন সুযোগে মুশফিক ব্যস্ত খেলার পরিকল্পনায়। কিন্তু হঠাৎ সামনের নিরাপত্তা রক্ষীদের গাড়িগুলো বোমার আঘাতে লন্ড ভন্ড। দ্বিতীয় হামলা হয় আমাদের গাড়িতে। মুহূর্তের মধ্যে বীভৎস চিত্র। চারপাশে রক্তের বন্যা। অসহ্য মৃত্যু যন্ত্রণা, অপেক্ষা মৃত্যুর। মৃত্যু ছায়ায় তন্দ্রাচ্ছন্ন নয়ন, চারপাশে অগণিত গুলির শব্দ আর ছুটাছটি। যুদ্ধ চলছে পাকিস্তানি জঙ্গিদের সাথে সেনাবাহিনীর। এরই মাঝে একদল লোক আমাকে এ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাচ্ছে।

নিজেকে বার বার প্রশ্ন করছি, আমরা পাকিস্তানে আসলাম কেনো? যতই নিরাপত্তা দেওয়া হোক না কেনো, একদল মানুষকে মারার জন্য একটি বোমাইতো যথেষ্ট। হয়তো পত্রিকাগুলি কাল থেকে আমাদের নামে শোকের ঝড় তুলবে। লাল শিরোনামে তুলে ধরবে পঙ্গু সাকিবের জীবনী; সর্বোচ্চ জাতীয় মর্যাদা পাবে মৃত মুশফিক, তামিম। রিপোর্টাররা খুঁজে বের করবে পাকিস্তান জঙ্গি হামলার ইতিহাস। দুর্ঘটনাকামী সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানাবে আমাদের পাকিস্তান সফর সিদ্ধান্তের।

দেশের গুয়েন্দা সংস্থাগুলো কি জানতো না, প্রতি মাসে পাকিস্তানে গড়ে তিন হাজার মানুষ জঙ্গী হামলায় মারা যায়? মাসে শতের বেশী হামলা হয়? দেশের মানুষ গুলি কি ভুলে গিয়েছিলো পাকিস্থানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাই কেড়ে নিয়েছিল সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জীবন। একজন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কি আমাদের থেকে কম ছিলো? পাকিস্তানের বিমান বাহিনির মূল ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা হয়। পাকিস্তানের সেনবাহিনীর ক্যাম্পের পাশে এসে হামলা চালায় ভিনদেশীরা। পাকিস্থানের সব থানা জঙ্গি হামলার শিকার। যে দেশের নিরাপত্তারক্ষিরা নিজেদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেখানে আমাদের কেনই বা পাঠানো হলো?

দেশের হাজারো ছেলের মধ্যে একজনই হার্ডহিটার তামিম থাকে, মুশফিকের মত দুরন্ত ছেলের জন্ম বাঙলার মাটিতে লক্ষ্য ঘরে একবার হয়। মাশরাফির মত দুর্দান্ত ছেলে চৌষট্টি জেলায় একজনই জন্মে। কিন্তু আমাদের অপূর্ণতা প্রকাশ পাবে সেই দিন, যখন গড়া হবে কোন আবুল, বাবুল দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আমারাই এক করেছিলাম বাঙলার কোটি মানুষকে। সময়ে সবাইকে বিজয়ের আনন্দে ভাসাতাম, পরাজয়ে থাকতো কোটি মানুষের অশ্রুভরা নয়ন। ক্যারিয়ারের চাপ সামলাতে এসেছিলাম এই নরকপুরীতে। একদিন গর্ব করে বলতাম আমরা দেশের হয়ে খেলি, দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। কিন্তু এখন ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে, সত্যি কি দেশের মানুষ আমাদের ভালোবাসতো? যদি ভালোইবাসতো পাকিস্তানে আসতে দিয়েছিলো কেনো? অগ্নিঝরা প্রতিবাদ কি হতে পারতো না আমাদের বাঁচাতে?


*** লেখাটি কাল্পনিক। কিন্তু একবার চিন্তা করুন তো সত্যি যদি এরকম হয়, তাহলে? এই কালকেও তো পাকিস্তানে জঙ্গী হামলায় মারা গেলো একজন প্রাদেশিক মন্ত্রী সহ বেশ কজন! পাকিস্তানের মতো মূর্তিমান নরকে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবীতে প্রতিবাদ আমরা কি ঠিকভাবে করছি?

FERDAUS AHMED NOBIN
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৩:৩২
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×