somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফেরদৌস রহমান
ধরো হতে পারতেম মস্ত এক কবি,কিন্তু লিখতে বসলেই গোলমাল হয় য়ে

নয়নের মাঝখানে নিয়েছিলে ঠাঁই

১৫ ই আগস্ট, ২০১১ ভোর ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সবার প্রিয় মিশুক মুনীর স্যার।প্রথম যখন এই অফিসটাতে যোগ দেই তখন তিনি ছিলেন দেশের বাইরে।লিবিয়ার অসহায় বাংলাদেশীদের খবর তুলে আনতে স্যার ছুটে গেছেন ক্যামেরা হাতে সঙ্গে আমাদের মুন্নি্ দি। এরপর হঠাৎ একদিন তার আগমন। কেউ একজন বলে দিল ইনিই আমাদের সিইও স্যার। প্রথম দেখাতেই ভাল লাগে এরকম একটা সৌম্যদর্শন মানুষকে দেখলাম। গোঁফে চুলে ব্যাক্তিত্ববান মহাপুরুষ।

তখন আমাদের নতুন যোগ দেয়া রিপোর্টারদের ট্রেনিং ক্লাস হত কনফারেন্স রুমে। একদিন শুনলাম স্যার আজ বসবেন নতুনদের নিয়ে। সবাই মিলে কনফারেন্স রুমে বসলাম। স্যার এলেন শুরু করলেন কোন ভুমিকা ছাড়াই। কিন্তু অপরিচিত মানুষদের এভাবে আপন করে ভুমিকা ছাড়াই কথা শুরু করা যায় প্রথম দেখলাম। মুগ্ধ হলাম। সবার সাথে স্যার পরিচিত হলেন । শুনলেন কার কোন বিটে আগ্রহ। আমার আগ্রহ আইন আদালত শুনে কারণ জিজ্ঞেস করলেন। ,আমি বললাম স্যার আমার একসময় আইন পড়ার খুব শখ ছিল। সাথে সাথে প্রাণখোলা হাসি । যে হাসির মধ্যে আমি খুজে পেলাম তার হৃদয়। হাসি দিয়েও যে নিজের ব্যাক্তিত্ব ফুটে তোলা যায় তা স্যারকে না দেখলে বোঝা যেত না।

এরপর বেশ কয়েকটা মাস চলে গেল । দেখলাম একজন প্রকৃত কাজপাগল মানুষ। যতক্ষণ অফিসে থাকতেন কোন না কোন কাজে ব্যাস্ত থাকতেন। স্যার ছিলেন সব বিষয়ে পারদর্শী । যে কোন বিভাগে যে কোন যন্ত্রিক সমস্যা সবাই ছুটতেন স্যারের কাছে। সমস্যার সমাধান নিমেষেই। স্যারকে আমরা সবসময় অফিসে পেতামও না । কোন না কোন কাজে তিনি অনেকসময় দেশের বাইরে থাকতেন। দেশে যখন আসতেন শুনতাম আমাদের জন্য নতুন প্রযুক্তি আসছে। সাপ্তাহিক রিপোর্টার্স মিটিংয়ে হঠাৎ মিশুক স্যার জানিয়ে যেতেন কি আসছে আমাদের জন্য। বলতেন রিপোর্টার যেখানে থাকবে সেখানে থেকেই হবে সম্প্রচার। আর আমার চ্যানেলর সব রিপোর্টার হবে ব্যকপ্যাক রিপোর্টার। স্যার ছিলেন একজন পুর্ণাঙ্গ সম্প্রচার প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ।

শুক্রবার রাতেও(১১.৩০মি) অফিসে বসে যখন একটি রিপোর্ট লেখছি তখন স্যার পিছনে এসে দ্বাড়ালেন। কাঁধে হাত রেখে স্ক্রিপ্ট দেখলেন। বললেন একটি ব্যাক্যে চেষ্টা করবে একটি বা বেশি হলে দুটি তথ্য দেবার। খেয়াল রাখবে তোমার বাক্যের গঠন যেন তথ্য ভারাক্রান্ত না হয়। কে জানত কাল এই মনুষটির জন্য দুঃখে এত ভারাক্রান্ত হতে হবে? স্যারকে হারিয়ে আজ মনের ভার যে আর নামাতে পারছিনা। কদিনইবা পেয়েছি স্যারকে? তবু কেন যেন স্যারকে মনে হত একজন আপন মানুষ।

স্পটে কোন সমস্যা ? স্যার নিজেই ছুটে আসতেন সমাধানে। মনে আছে হরতালের দিনও লাইভ এ সমস্যা হওয়ায় স্যার ছুটে এসেছেন সমাধান দিতে। বিমোহিত করার মত ব্যক্তিত্বর জন্য স্যার ছিলেন অফিসের সবার নয়নমনি।

স্যারকে এভাবে হারিয়ে আজ মনে হচ্ছে যে চেয়ারটা স্যার খালি করে গেলেন সেটা হয়ত একদিন পূরণ হবে। কিন্তু যে শূণ্যস্থান তিনি রেখে গেলেন বাংলাদেশের সম্প্রচার সাংবাকিতায় তা কি পূরণ হবে আর কোনদিন? সম্প্রচার সাংবাদিকতার এই উৎকর্ষের যুগে একজন মিশুক মুনীরের অনেক প্রয়োজন ছিল।

আমরা অবিলম্বে রাজপথের এ হত্যাকান্ড বন্ধে সরাকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছি। এভাবে আমাদের সপ্নগুলোকে আর আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় হারাতে চাই না।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৫২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাধা উন্নয়ন প্রকল্প এবং একটি ভালো কলেজের গল্প

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

নটর ডেম কলেজে আমাদের সময় একটা প্রকল্প ছিল। নাম ‘অ্যাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’, সংক্ষেপে এডিপি। বাংলায় বললে ‘গাধা উন্নয়ন প্রকল্প’। নাম শুনে মনে হতে পারে, কোনো প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচি। বাস্তবে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×