সাপ দেখে ভয় পায়না এমন মানুষ খুব কমই আছে। তবে সাপুড়েদের কথা আলাদা। সাপ নিয়ে যাদের দিন কাটে তাদের আবার সাপের কি ভয়। আমি জীবনে অনেক সাপ দেখেছি এবং বেশ কয়েকটা সাপও মেরেছি। কিন্তু আমার আব্বার সাপ অভিজ্ঞতা উল্লেখ করার মত। উনি প্রায়ই উনার সাপ অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করেন। তবে আজকে আমার একটা সাপ মারার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।
তখন এসএসসি দিয়েছি মাত্র। আমরা তখন থাকি ঢাকার খুব কাছেই এক মফশ্বল শহরে। এলাকাটা প্রায় গ্রামের মত বলাযায়। আমার বাবা খুব সখ করে এখানে বাড়ি বানিয়েছেন। বাড়ির চারিপাশে খোলা মাঠ আর অনেক ধানের খেত। আবার বাড়ির থেকে একটু দুরে খুব সুন্দর সানবাধানো পুকুর ঘাট। খুব সুন্দর পরিবেশ।
আমাদের বাড়িতে একটা বিশাল সাইজের কুকুর ছিলো। এলাকাটা বেশি নিরাপদ না প্রায়ই চুরি ডাকাতি হয়। তাই বাড়ির নিরাপত্তার জন্য কুকুর পোষা। ওর প্রাকৃতিক কর্ম সারার জন্য ওকে প্রতিদিন নিদৃষ্ট সময়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া লাগতো। একদিন ওর প্রাকৃতিক কর্ম শেষে বাসায় ফিরে দেখি এক বিশাল দেহী সাপ বাড়ির উঠানে ব্যাঙ শিকার করছে। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে কি করবো ঠিক ভাবতে পারছিলাম না। এদিকে কুকুরও শুরু করেছে প্রচন্ড রকম ঘেউ ঘেউ শব্দ তাই ওকে আগে শিকল দিয়ে অটকে রাখলাম। তার পর প্রথমেই ব্যঙ্গের দিকে তাকিয়ে দেখি ওটা টারজান প্রজাটির ব্যাঙ। মানে চেহারা দেখে বোঝার উপায় নাই এটা কোলাব্যাঙ না সোনাব্যাঙ। ওজন করলে মনে হয় ২-৩ কেজি হবে। আরো ভাল মত তাকিয়ে দেখি ওর ডান দিকের পেট কাটা এবং ঐখান দিয়ে নারিভুরি আর পাকোস্থলী বেরহয়ে আছে। এই রকম খারাপ অবস্থার মধ্যেও বেটা লেফিয়ে লাফিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বুঝলাম সাপটা এরই মধ্যে ব্যাঙটাকে একবার আক্রমন করেছে। হয়তবা ব্যাঙের অকৃতি বড় হয়ায় সাপ তেমন একটা সুবিধা করেতে পেরেনি।
এরপর সাপের দিকে তাকালাম। সাপ দেখেতো আমার অবস্থা খারাপ। সাপটা ৪-৪.৫ হাত লম্বা হবে হয়তো। আমার হাতের কব্জির সমান মোটা। খুব ঘনো ঘনো নিশ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে তাই শরীরটা একবার মোটা হচ্ছে আরেকবার চিকোন হচ্ছে। সম্ভবত এটা ধোরা সাপ। বিষনেই বলেই জানি। গায়ের রং অনেকটা অফহয়াট। মনেহয় কয়েক দিন আগেই খোলশ পাল্টেছে। আমাকে দেখেই সাপটা পালানোর চেষ্টা করছিলো। কিন্তু শরীর ভারী হয়ায় খুব বেশি দ্রুত চলতে পারছেনা। কি করা যায় ভাবতে ভাবতেই হাতের কাছে পেয়ে গেলাম একটা শুকনা খরি। ওটা নিয়েই আগালাম। আমি যদিও “প্রানীহত্যা মহাপাপ” এই ব্রততে বিশ্বাসী কিছু সাপ বলে কথা তাও আবার বাড়ির উঠানে এত বড় সাপ। সাহস করে সমনে গেলাম। কাছে গিয়ে বারি দিতেও ভয় হচ্ছে। তাও সাহস করে কাছে গিয়ে সাপের মাথা বরাবর খুব জোরে একটা বারি দিলাম। কপাল এতোই খারাপ বারি গিয়ে লাগলো মাটিতে। বারি দেয়ার পর দেখি সাপ পালানো বাদ দিয়ে আমার দিকেই আসছে। এমন সময় দ্বিতীয় বারি দিলাম। এই বার মনেয় হয় কাজ হয়েছে। চোখ বন্ধ করে বারি দিয়েছিলাম তাই দেখিনি কোথায় লেগেছে। চোখ খুলে দেখি সাপ নিজেই নিজের শরীর পেচীয়ে ধরেছে এবং মোচরাচ্ছে। সাপের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওর মাথেয় আস্তে আস্তে বারি দিতে থাকলাম। এক্ সময় দেখলাম সাপটার মাথা একদম থেতলে গেছে। সাপটার শরীর আগের মত আর মোটা চিকোন হচ্ছেনা মানে নিশ্বাস নিচ্ছেনা। এটাই আমার জীবনের প্রথম সাপ মারা।
সাপটার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ার পর লাঠির মাথায় পেচিয়ে বাইরে নিয়ে গেলাম। বাড়ি থেকে একটু দুরে একটা ছোট পুকুর আছে। এলাকার এক বড় ভাই ঐ পুকুরে আফ্রিকান মাগুর মাছের চাষ করে। ঐখানে সাপটাকে ফেলে দিয়ে আসলাম। সারা দিন সাপটা পানিতে ভাসছিলো। মাঝে মাঝে মাগুর মাছ গুলো সাপটাকে খাওয়ার চেষ্টা করছিলো। পরের দিন পুকুর পারে গিয়ে দেখি সাপটা আর ওখানে নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


