somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিশী -তুমি দিনের আলো

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিশী -তুমি দিনের আলো
...................................... ( বদরুল আলম )

‘‘একটু নিজেকে দেখ’’ – নিজের দিকে খেয়াল দেয়ার এ ন্যুনতম উপদেশ টুকুও আজ বিমল বাবুর জীবনে যেন অনেক কাম্য। কিন্তু নিজেই যে নিজের উপদেশ দাতা। সুতরাং মেনে চলা এবং না চলার মাঝে কোন তফাৎ নেই। নেই কোন জবাবদিহীতা। জীবনের কোন এক সময় সকল শক্তি কেন্দ্রিভুত করে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলা যায়, কিন্তু আজ জীবনের অস্তবেলায় এসে - একটু সাহায্যের, একটু করুনার, একটু উপদেশ এবং একটু কাছে পাবার অদম্য আকাংখা আজ যেন বিমল বাবুকে হতাশার প্রান্তে এনে দাড় করিয়েছে। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসে। ঝাপসা চোখেও রুপালী পর্দার মত ভেসে ওঠে - ফেলে আসা মধুময় দিনগুলো।

ছোট্ট একটি নাম- নিশী। প্রথম দেখা- চারটি চোখের মিলন-সময়ের ছোট্ট সমিকরনের যোগফল। দ্বিতীয়বার কিন্তু শুধু দৃষ্টি বিনিময় নহে , কথা হয় - তবে তা শুধু নাম পরিচয়ের ইন্টারভিউ। বিমল তখন দুই দশক অতিক্রান্ত এক টগবগে যুবক। নিশী তখন মাতৃহীন প্রবাসী বাবার আত্মীয় গৃহে প্রস্ফুটিত এক সুদর্শনা। দুজনেই স্বপ্নে বিভোর -অবুজের মত স্বপ্ন। চোখ খোলা রেখে দিবা স্বপ্ন দেখে। দুজনেই মুক্ত বিহঙ্গের মত ডানা মেলে নীলিমায় হারিয়ে যেতে চায়- অজানা দিগন্তে।

নিশী-
হুঁম- কিছু বললে?
তাকিয়ে দেখ- কী সুন্দর চাঁদ ! রুপালী আলোয় তোমাকে অপ্সরী মনে হচ্ছে।
আমিযে নিশী, নিশীতেই হয়তবা থেকে যাব। হয়তবা কখনো তোমার জীবনে দিবাকর হয়ে আসতে পারব না।
তুমি নিশী হলে আমি নিশাচর হয়ে এক জীবন কাটিয়ে দিতে পারব।

সময়ের নিষ্টুরতা এগিয়ে চলে। দুজনে দুজনার আরো কাছে আসে - এত কাছে যেন নিঃশ্বাসের স্পর্শ পাওয়া যায়। একদিন কোন এক পূর্ণিমা রাতে নিশী বলল -
বিমল তোমাকে আজ বিষ খাওয়াব-
ঠিক আছে নিশী- তোমার বুকে মাথা রেখে আমি নিশ্চিন্তে বিশ পান করতে পারি-
নিশী পাশের রুমে গেল- একটি চকলেটের কৌটা নিয়ে এলো - আমেরিকান চকলেট ।
বিমলকে দিল - বিমল খেল-
কই মরলাম নাতো? তুমি যে বললে বিশ..... !
বিমল আমার জীবনে ইহা বিষতুল্য-
আচ্ছা বাদ দাওত -

অনেক কষ্টার্জিত কিছু অর্থে কেনা রঙ্গিন কৌটায় মোড়া একটি আংটি বিমল পকেট থেকে বের করল ---
নিশী একটি আঙ্গুল এগিয়ে দিল -
বিমল পড়িয়ে দিল - অত্যন্ত যত্নে - চিরচেনা আঙ্গুলে
উভয়ের মুখে তৃপ্তির হাসি --- সে হাসিতে হয়ত বিধাতার আসন ও আনন্দে নেচে গেল।

আচ্ছা তুমি কি আমাকে বধু বেশে দেখতে চাও?
সেই দিনটির জন্যে যে আমি একটি একটি করে প্রহর কাটাচ্ছি নিশী।
তাহলে তোমার সে স্বপ্ন - আমাকে বধু বেশে দেখার সে স্বপ্ন- পূরণ হতে চলেছে বিমল।
আগামী শুক্রবার সেই শুভদিন।

সেই শুক্রবারের তখনো ছিল পুরো পাঁচ দিন বাকি। বিমলের কাছে মনে হচ্ছিল যেন পাঁচটি বছর। ঘড়ি যেন বন্ধ হয়ে আছে। সেদিন যে মহা মিলনের শুভক্ষন। এক জীবনের পরিপূর্ণতা। বিমল যে সেদিন হবে সব প্রাপ্তির এক সফল নায়ক। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষটি।

প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হল । এসে গেল কাঙ্খিত শুক্রবারটি। বিমল একটি হলুদ পাঞ্জাবী পরেছে। আজ নিজেকে নিজের কাছে অন্যরকম মনে হচ্ছে। নিশীদের বাসার কাছে এসে একটু অন্যরকম লাগছে। অনেক লোকের সমাগম। সাধারনত নিশীদের বাড়ী একটু নীরব থাকে। তবে আজ এত লোকের আনাগোনা কেন? তবে কি বিমলকে বরন করে নেয়ার আয়োজন? ভাবনাগুলো কেমন যেন পুর্ব - পশ্চিম হয়ে যাচ্ছে। বিমল বসল সেই পরিচিত কক্ষটিতে। আজ কেন সব অন্যরকম লাগছে।
কোথায় নিশী -
এখনো কেন হাস্যোজ্জ্বল মুখে এগিয়ে এসে চিবুক টিপে দিয়ে বলছে না ‘‘ বড্ড লাগছে!’’

বিমল অনুভব করছে এক ভাল - মন্দের অশুভ সংকেত।

নিশী এল - হ্যা বধু বেশেই এলো -
এক রুপালী চাঁদ যেন নীল আবরনে ঢাকা।
এই যে বিমল - পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি -
আমার হাজবেন্ড - সৈকত।
আমেরিকা প্রবাসী - আজই আমাদের এংগেজমেন্ট হল ।
নিশীর পাশে এক সুদর্শন পুরুষ - সৈকত !
নিশী সৈকতকে বলল ‘‘আমার বেষ্ট ফ্রেণ্ড- বিমল বাবু - এন্ড অনলী ।’’
ওয়েলকাম বিমল বাবু -
হেপি টু মিট ইউ -

ধরনী যেন দ্বিখন্ডিত হয়ে যাচ্ছে । সেই ফাটলে তলিযে যাচ্ছে বিমল । চিরতরে তলিয়ে যাচ্ছে ।
হাটু যুগল দেহকে ধারন করতে অক্ষমতা প্রকাশ করছে। অনেক কষ্টে নিজেকে সামাল দিল বিমল বাবু। শরীর ভিজে যাচ্ছে, চোখের জলে নয় - দেহের জলে।

সৈকত তাকিয়ে আছে বিমল বাবুর দিকে।
উভয়ের দক্ষিন হস্ত একিভুত।
বিমল দেখল, তার দেয়া আংটিটি শোভা পাচ্ছে সৈকত এর আঙ্গুলে।

বিমল বাবু, আমার আজকের এই শুভদিনে আপনাকে এমন কিছু উপহার দিতে চাই - যা আমার কাছে অত্যন্ত আদরের।
হ্যা এই আংটিটি । বলতে বলতে সৈকত তার আঙ্গুল থেকে আংটিটি খোলে বিমলের আঙ্গুলে পড়িয়ে দিল - যা একদিন সে নিজেই নিশীকে দিয়েছিল।
এক জড় বস্তুর মত বিমল শুধু দেখল -
এক ফোটা অশ্রুও গড়িয়ে পড়ল না -
এক পা এক পা করে শুধু রুম থেকে বের হয়ে এলো - ।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:১৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×