somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গালীব পাশার সাম্প্রতিক প্রবন্ধ “মোল্লা-সানির কেরামত”

১৮ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গল্পের চলেই আরম্ভ করি।আমাদের এলাকায় এক সহজ সরল লোক ছিল।বেচারা এতই সহজ সরল ছিল যে মান–সন্মান,ইজ্জত-ভরম এসবের ধার ধারতো না,যে কোন বিয়ে বাড়ীতে হাজির হয়ে ভাত খেতে বসে যেত।কেউ দাওয়াতের প্রসঙ্গে তুললে বলতো;তারা না হয় দাওয়াত দিতে ভুলে গেছে কিন্তু আমি দাওয়াত খেতে ভুলে গেলে কেমন করে হয়,তাই চলে এলাম।যারা লেখালেখির সাথে যুক্ত তারাও আছে মহা বিপদে,কেউ লিখতে বলুক বা না বলুক তাকে লিখতে হয়।বিবেক তাকে লিখিয়েই ছাড়ে।কিন্তু এতে হয় মহা সমস্যা।লিখলে হয় জীবন, যৌবন,আর হায়াতের সমস্যা,না লিখলে হয় বিবেকের সমস্যা।বিবেকের সমস্যাটি লেখকদের এতই ভোগায় যে লেখক প্রথম সমস্যা গুলোকে পাত্তাই দেয় না।তাইতো পৃথিবীর তাবত লেখকরাই বিবেক সমস্যাকেই প্রধান্য দিয়ে লিখে যায়।আর নিজেই টেনে আনে নিজের সমস্যা।তার পরও তারা সুখী।কারন তাদের লেখনি দ্বারা দেশ ও দশের উপকার হয়।এ তৃপ্তিই তাদের কাছে মৃত্যুর চেয়ে মহান।আজ সাম্প্রতিক দুইটি বিষয় নিয়ে কিঞ্ছিত আলোকপাত করবো।
এক)আজ দুই তিন দিন থেকে পত্র-পত্রিকায় টেলিভিশন সহ মিডিয়ায় দেখছি বরিশাল বানারীপাড়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা সাহেব অন্যের বউকে ধর্ষন করেছে।তাও আবার পুরো রাত ভরে।শিয়াদের মাঝে স্বল্প বিয়ের রীতি চালু আছে।যেমন একদিন,দুইদিন,একরাত,দুই ঘন্টা,এক ঘন্টা এরকম।এসময় তারা মেয়েটিকে বউ হিসেবে ব্যবহার করে পরে আবার ছেড়ে দেয়।সুমন সাহেবর ভাবটিও যেন তেমন।উনি নেতা তাই নেতা গিরি দেখিয়েছেন।এখন কথা হলো এই দেশটা তো মগের মুল্লক নয় যে যার যা ইচ্ছে তাই করবে।কিন্তু উনি তাই করেছেন,আর শুধু তাই নয় অন্যের বউ নিয়ে মউজ করে আবার নেতাদের কাছে গিয়েছেন সেল্টার নিতে।কিন্তু মন্ধের ভালো,নেতারা উনাকে সেল্টার না দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন।শেষ খবর হলো উনি এখন জেলে।ভাবতে অবাক লাগে এসব কি করে সম্ভব হয়?এরা এসব করার সাহস পায় কোথায়?এতবড় একটি গৌরব ময় রাজনৌতিক দলে পাতি নেতা এ জগন্য কাজ কি করে করার সাহস পায়।তার এ লুচ্ছামির দায় সংগঠনকে তো নিতেই হয়।জনসমক্ষে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েই।কিন্তু এমন হবে কেন?এই দেশে কি লোক বলের অভাব?দেশে অনেক ভালো ছেলে আছে তাদের থেকে যাচাই বাচাই করে নেতা নিরবাচন করলে তো আর এমন হয়না।পরের বউ দেখলে যাদের আন্ডারগ্রাউন্ড গরম হয়ে যায় এসব বদমাসদের আর যাই হোক নেতা হওয়ার যোগ্যতা নেই।এসব বদমাইসদের কয়েকটিকে ধরে লেদার হেডে ইটের টুকরা বেঁধে জনসমক্ষে ঘুরালে বাকীরা জনমের মতো ঠিক হয়ে যাবে।তাতে করে দল,দেশ এবং আমাদের নেতাদের সন্মান অটুট থাকবে।তা না হলে লুচ্ছা নেতাদের হাতে দেশের ভার পড়ে একদিন পুরো দেশটাই লুচ্ছাদের চারণ ভুমিতে পরিনীত হবে।তাই সাধু সাবধান।আমাদের পরলোকগত নেতারা এত কষ্ট করে দল গড়েছে এসব লুচ্ছাদের জন্য নয়।

দুই)আমাদের দেশের বর্তমান ক্রিকেটের বলতে গেলে স্বর্ণ যুগ।এর উত্তরণ উত্তর উত্তর বৃদ্ধিপাক সে কামনাই করি।এই ক্রিকেটের বদৌলতে আমাদের ক্রিকেটারদের ভাগ্যের চাকা মাশাল্লাহ আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো বদলে গেছে।এই খেলায় টাকা আর টাকা,তাই এখন দেখা যায় ছেলে মেয়েরা পড়া লেখা বাদ দিয়ে সারাদিন ক্রিকেট খেলা নিয়েই ব্যাস্ত থাকে।এর পরিনাম ভবিষ্যতে দেশ পড়ালেখায় মেধা শুন্য হলেও ক্রিকেট শুন্য হবেনা নিশ্চয়, সে কথা জোর গলায় বলা যায়।এখন কথা হলো কিছু ক্রিকেটারদের কৃর্তিকলাপে দেশের ভাবমুর্তি কোন পরযায়ে গিয়েছে তা ভাবার বিষয়।এসব ক্রিকেটাররা ধরাকে স্বরাজ্ঞান করছে।এরা নিজেদের অনেক বেশী বড় কিছু মনে করছে।আর তাই যা ইচ্ছে তাই করছে।সাম্প্রতিক সানির কথাই ধরা যাক।পত্র –পত্রিকা পড়ে যা প্রতিদিন যা জানতে পেরেছি তা কোন ভাবেই কাম্য নয়।আর সানি সাহেবও আমাদের মোল্লা সাহেব থেকে কম না।দরিদ্রতম সময়ে যে মেয়েটিকে বিয়ে করে ঘরে এনে পরম সুখে তার জীবন যৌবন সুধা এতদিন পান করেছে এখন ক্রিকেটের বদৌলতে ভাগ্যফিরে চোখে সর্ষে ফুল তো ছাই তার চেয়েও বড় কিছু দেখছে।এখন আর পুরাতন ভালো লাগছে না।চাই মর্ডান আর বিত্তশালী ললনা।আর পরোক্ষভাবে এসব অপকর্মের ভার তো সেই ক্রিকেটের উপর গিয়েই পড়ছে।ক্রিকেট খেলে আমাদের সানি সাহেবের যদি টাকা পয়সা না হতো তাহলে এই বউটিকেই নিয়েই সে সুখি থাকতো,তাই নয় কি?তাহলে কি সব ক্রিকেটের দোষ?মোটেই তা নয়,শুনতে খারাপ শুনালেও বলতে হয় এর দায়ভার আমাদেরও আছে।দেশ ওদের উদার হস্তে দিয়েছে আর ওরা অল্প সময়ে অনেক পেয়ে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।যে দেশে এখনও অনেক মুক্তিযোদ্ধা অনাহারে থেকে জীবন কাটাচ্ছে,যাদের রক্তেরদান এই দেশ।আর দেশ হয়েছে বলেই সানিরা ক্রিকেট খেলতে পারছে সে দেশের সন্মান এইসব সানিদের জন্য মাটিতে লুটাবে তা মেনে নেয়া যায়না।যে মেয়েটি আজ আদালতের দুয়ারে মাথা খুড়ে মরছে সে মেয়েটিরও নিশ্চয় আশা ছিল তার স্বামী ক্রিকেট খেলে যে সন্মান আর বিত্তের মালিক হবে সে সস্মান আর বিত্তের অংশীদার সেও হবে।সেও এ সন্মান ও বিত্তের মালিক হওয়ার জন্য সানি সাহেবের জন্য বিধাতার কাছে হাত জোড় করে দোয়া করেছিল।তাহলে আজ তার এ অবস্থা হবে কেন।যৌতুকের নোংরা থাবা তাকে কেন তাড়িয়ে বেড়াবে?টাল বাহনা করে সানি সাহেব তাকে কেন আজ সুসময়ে দূরে ঠেলে দিয়ে মর্ডান মেয়ে খুজে বেড়াবে।এসব আজ ভাবার সময় ও কারন আমাদের ক্রিকেটেরে হর্তাকর্তাদের সিরিয়াসলি ভাবতে হবে।দেশের মানুষের টাকায় যাদের এত বিত্ত সে দেশের একজন সাধারন জনগন সানির বউয়ের কথা,তার মান মরজাদার কথা সানিকে ভাবতেই হবে।আর আমাদের যারা হর্তা-কর্তা আছে তাদের ভাবতে হবে,এদের এত বেশী লাই দেয়া কোন ভাবেই ঠিক নয়।ক্রিকেট আছে থাকবে,এর উন্নতি নিয়েও ভাবতে হবে তাই বলে...। সানির অসহায় বউকে বলছি;তুমি সত্য পথে এগিয়ে যাও ,আমরা তোমার সাথে আছি।মোল্লা ও যে কেরামত দেখালো তা আর দেখতে চাইনা।
রচনাকালঃ১৮ জুলাই ২০১৭ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:১০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×