somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্যরচনা : চোরের গপ্পো

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। যা দেখলাম তাতে আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়। একটা চোর আমাদের শোবার ঘরে ঢুকেছে। মুখ কাপড়ে ঢাকা।
চোর পা টিপে টিপে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে খুব ধীরে ধীরে। আমার ভয়ে সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।
ঠিক সেই সময় আমার হঠাৎ শোয়ার্জেনেগারের একটা ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠল। হাতে মেশিন গান নিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে একাই এগিয়ে যাচ্ছে। অমনি কোথা থেকে এক গাদা সাহস এসে গেল। একটা অস্ত্র চাই। বিছানার পাশেই একটা অ্যালুমিনিয়ামের ডান্ডা আছে। জানলায় পর্দা টাঙানোর রড। সেইটা নিয়েই উঠে পড়লাম।
চোর অমনি দৌড় লাগাল। আমি তাড়া করতেই ছুট্টে বাথরুমের মধ্যে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল। আমি "চোর চোর" বলে চেঁচাতে লাগলাম।
আমার চিৎকারে বউয়ের ঘুম ভেঙে গেল। সে টলমল করে বেরিয়ে এসে বলল, "পুলিশ পুলিশ। আমাদের ঘরে চোর ঢুকেছে।"
এখানে পুলিশ? খেয়েছে, এখনও ঘুমের ঘোর কাটেনি।
তারপরে বলল, "চোরটা কোথায়?"
আমি বললাম, "বাথরুমে ঢুকেছে। তুমি একটু সরে যাও। কতক্ষণ থাকবে ভেতরে? বেরলেই এইসা মারুঙ্গা এইসা মারুঙ্গা.."
.
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই আমাদের হতবাক করে দিয়ে আমার শ্বশুরমশাই বাথরুম থেকে বেরলেন "সকলই তোমারই ইচ্ছা " গুনগুন করে গাইতে গাইতে।
বউ কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "বাবা চোর? আমার বাবা চোর? তুমি আমার বাবাকে রড দিয়ে মারতে যাচ্ছিলে?"
কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমি গলা দুবার ঝেড়ে নিয়ে বললাম, "বিশ্বাস করো উনি আমাদের ঘরে ঢুকেছিলেন। মাথায় কাপড় জড়িয়ে পা টিপে টিপে।"
বউ আগুন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "ছিঃ এত নীচে নেমে গেছ তুমি? আমার বাপের বাড়ির কাউকে তোমার পছন্দ নয় জানি। তা বলে চোরের বদনাম দেবে? বাবা এক্ষুনি চলো। ব্যাগ-পত্তর গুছাই। আলো ফুটলেই আমরা আর এখানে থাকব না। কিছুতেই না।"
আমি বললাম, "বাবা আপনিই বলুন, আপনি ঢোকেননি আমাদের ঘরে?"
শ্বশুরমশাই মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, "পেট গরম হয়ে স্বপ্ন দেখেছে। ইসবগুল ভিজিয়ে খাইয়ে দে।"
বউ ঝনাৎ করে বলল, "পেট গরম-টরম কিছু নয়, ও ইন্টেনশনালি অপমান করেছে তোমাকে। তোমাকে রড দিয়ে মারতে যাচ্ছিল। তুমি ভালমানুষ তাই বুঝতে পারনি। না বাবা এরপর এখানে থাকা যায় না। চলো চলো, গোছাতে হবে।"
যাহ্ বাবা বেশ ফ্যাসাদ হল তো! আমি নিজের চোখে দেখলাম একজনকে আমাদের ঘরে ঢুকতে! তারপর তাড়া করতেই বাথরুমে ঢুকে গিয়ে যিনি বেরলেন তিনি শ্বশুরমশাই.. সব, সঅঅব ভুল দেখলাম? একি সম্ভব!
.
সকালে অবশ্য শ্বশুরমশাই ও তাঁর মেয়ে গৃহত্যাগ করেননি।
অফিস থেকে ফিরে দেখলাম যে কোনও কারণেই হোক গৃহত্যাগের কর্মসূচি বাতিল হয়েছে। তবে আমার বউয়ের মুখ-চোখের অবস্থা সাংঘাতিক। নেহাত কলিযুগ বলে ভস্ম হয়ে গেলাম না।
কিন্তু কিছু করার নেই। শ্বশুরকে চোর বলেছি, এত সহজে কি ছাড় পাব! অনেক শাস্তি তোলা আছে।
.
ছাদে উঠে একটা সিগারেট ধরিয়ে টান দিচ্ছি এমন সময় শ্বশুরমশাই পাশে এসে বসলেন। শ্বশুরমশাইকে দেখেই আমি সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললাম, "বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিন, ঘুমের ঘোরে কী দেখেছি.."
আমাকে থামিয়ে দিয়ে আমার শ্বশুরমশাই বললেন, "তুমি ঠিকই দেখেছে, আমি মুখে তোয়ালে জড়িয়ে তোমাদের ঘরে ঢুকেছিলাম তোমার একটা সিগারেট নেব বলে। কতদিন খাইনি। হার্টের অসুখ ধরা পড়ার পর থেকে। খুব খেতে ইচ্ছে করছিল বুঝলে? চেইন স্মোকার ছিলাম, জানোই তো।"
আমার ব্রহ্মতালুর তাপমাত্রা হু হু করে বাড়তে লাগল।
উনি বলে যাচ্ছেন, "আমি ভয়ে বলতে পারিনি। তুমি অত বকুনি খেলে খারাপ লাগছিল কিন্তু সাহস করে স্বীকার করতে পারলাম না। বুড়ুকে(আমার বউ) আমি কত ভয় পাই তুমি জানো। সিগারেট খেতে গেছিলাম শুনলে দক্ষযজ্ঞ করবে। তুমি আমার জন্য অনেক হ্যাটা হলে। আমার খুব খারাপ লাগছে।"
চুরি করে গুঁড়ো দুধ খেয়ে ধরা পড়ে যাওয়া বাচ্চার মতো লাগল বুড়োর মুখটা। আমার চড়াৎ করে ওঠা রাগটা পড়ে গেল সড়াৎ করে। আমি হাসলাম তাঁর দিকে চেয়ে। তিনিও শিশুর মতো হাসলেন।
তারপর দুই ভীতু পুরুষ বসে রইলাম পাশাপাশি... খোলা আকাশের নীচে...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:২২
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×