somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গেছো দাদা
আমি মোদি ভক্ত ! এটা জেনে আপনি দুঃখ পেলে আমি আনন্দিত হব।

রম্যরচনা : করোনা লকডাউন ও আমসত্ত্ব

০৬ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরবন্দি হয়ে থাকার জন্যই কিনা কে জানে আমার লোভ সাংঘাতিক বেড়ে গেছে। ঘরে খাবার অপ্রতুল অথচ মনটা সর্বক্ষণ "কী খাই কী খাই" করছে।
এই আজই যেমন। আমার চান হয়ে গেছে। বউ চান করতে গেছে। এই সময় মনটা 'খাইখাই' করে উঠল। অথচ আর একটু পরেই ভাত খাব। এখন কিছু খাওয়ার কোনও দরকারই নেই।
.
রান্নাঘরে গিয়ে জিনিসপত্র হাঁটকানো শুরু করলাম। খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম। বেশ বড় এক টুকরো আমসত্ত্ব। আহা! জিভে সুড়ুৎ করে জল চলে এল। ঘরে নিয়ে এসে টিভি দেখতে দেখতে আয়েশ করে খেলাম।
.
বউ আরও কিছুটা পরে বাথরুম থেকে বেরিয়ে বলল, "তোমাকে কি এক্ষুনি খেতে দিয়ে দেব? আমার একটু কাজ আছে আমি পরে খাব।"
আমি বললাম, "না না কোনও তাড়া নেই। তোমার হাতের কাজ সেরে নাও। তারপর একসঙ্গে খাব। আরে এখন খিদে-টিদেকে একটুও গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, তাই না?"
বউ বলল, "বলো কী? উফ্ ভাবা যায় না!"
.
একটু পরে রান্নাঘর থেকে বউ চেঁচাল, "আচ্ছা তুমি কি আমসত্ত্বটা দেখেছ? অতটা আমসত্ত্ব কী হল?"
খেয়েছি বলে দিলেই ল্যাঠা চুকে যেত কিন্তু হেব্বি লজ্জা করল। চুরি করে খেয়েছি বলতে পারলাম না। উল্টে রান্নাঘরে গিয়ে আকাশ থেকে পড়লাম, "আমি? আমসত্ত্ব? কই না তো!"
বউ বলল, "চানাচুরের কৌটোর পাশে রাখা ছিল, তাহলে কোথায় গেল?"
আমি বললাম,"তোমার বাবা কাল এসেছিলেন, তাঁকে একবার রান্নাঘরে ঢুকতেও দেখেছিলাম। তিনিই হয়তো লোভ সামলাতে পারেননি, খেয়ে নিয়েছেন! উফফ যা লোভ বেড়েছে ওঁর!"
বউ আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলল, "আমসত্ত্বটা আজই আমি ফ্রিজ থেকে বের করে রেখেছিলাম।"
আমি মাথা চুলকে বললাম, "তাহলে ইঁদুরেই হয়তো খেয়ে নিয়েছে।"
বউ বলল,"হতে পারে। ইঁদুর যা বেড়েছে রান্নাঘরে! কবেকার আমসত্ত্ব ফ্রিজের এক কোণে পড়েছিল। ওদের মারার জন্যই ওতে বিষ দিয়ে রেখেছিলাম।"
ইঁদুরের বিষ!!!!
আমার সামনের সবকিছু ব্যাপক ভাবে দুলে উঠল। পা থরথর করে কাঁপতে লাগল। ইঁদুর মারা বিষ খেয়ে মানুষ মরে যায় শুনেছি। শেষ পর্যন্ত গোলদার কেমিকেলের র‍্যাট কিলারে আমার মৃত্যু হবে!
আর অন্য সময় হলে যদি বা বাঁচার চান্স ছিল কিন্তু এই লকডাউনের সময় তো কোনও হাসপাতালেও ভর্তি নেবে না। হয়তো বলবে ইঁদুরের বিষ খেয়েছে? তাহলে পশু-হাসপাতালে ভর্তি করে দিন।
আমি দৌড়ে বেসিনে গিয়ে গলায় আঙুল দিয়ে বমি করার চেষ্টা করলাম। কয়েকবার চেষ্টা করেও বমি হল না একটুও।
গা মাথা কেমন ঝিমঝিম করছে! সেটা ইঁদুরের বিষের প্রভাবে নাকি ভয়ে বুঝতে পারলাম না।
.
.
বউ নির্বিকার হয়ে থালা ধুয়ে যাচ্ছে। হায়রে নারী! বুঝতেও পারছে না কী হতে চলেছে! ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললাম, "অনেকটা বিষ ছিল?"
বউ শীতল গলায় বলল, "আমসত্ত্বটা তুমি খেয়েছ সে আমি বুঝতেই পেরেছিলাম। স্বীকার তো করলেই না উল্টে আমার বাবার ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করলে, তাই ইচ্ছে করেই ইঁদুরের বিষের কথাটা বললাম। আমসত্ত্বটা ঠিকই ছিল। যাও আর বমি-টমি করতে হবে না, মুখ ধুয়ে নাও, ভাত বাড়ছি।"
আমি প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করে ভাত একটু কম খেলাম। বউ অবশ্য বলল, "অনেকটা আমসত্ত্ব সাঁটিয়েছ! ভাত একটু কম খাওয়াই ভাল।"
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:২৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×